হাওয়া বনে দুলে উঠে রোদ – জাকারিয়া প্রীণন

কর্পোরেট

শিশুরা ব্যথা পেলে মায়ের কাছে যায়।
কবিরা ব্যথা পেলে কবিতা লিখে।
যখন শ্রমিক গুলি বিদ্ধ হয়— লোকেরা বলে যাও—
ঈশ্বরের কাছে যাও।

অথচ তারা জানে
কর্পোরেট আমলার মহলে
অপরাধ লুকিয়ে রাখতে ঈশ্বর একটি বিজ্ঞাপন মাত্র।

নখ

মার্বেল পাথরের গান;
দূরের হাওয়ায় বাজিয়ে যায় আফিমের সুর।

এবং তারা আমার দিকেই এলো-
সমস্ত অভিযোগে;
সমস্ত অভিমানে;
যেন কোথাও রগ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
পৃথিবীর আদিম কোন পাগলা ষাঁড়।

এই বসন্ত; এই পাখি
সব আজ মিথ্যে যেন তার ভাষায়-
তাহলে;
পাখি ও ফুলের মাঝে;
ভুল ও মানুষের মাঝে সম্পর্ক কী আমার?

হায় আমার নিয়ামক,
চাঁদ থেকে পেরে আনা কান্না।
এই সমস্ত বাতাসে;
কাঁচা গোলাপের মতো;
বুঝি মানুষেরও গন্ধ হারিয়ে যায়।

কাচ

টুকরো কাচের শরীরে আঁকা মুখ
কথার ম্যাজিক নিয়ে ঘোরে ঘোরে আসে—
যেন তাবুর ভেতর ফণাধরা অজগর কোন।

এখন স্বর্গের পথে লাল লাল পিপড়ার বাসা
তারা জন্ম দেয় ছায়া মানুষের—
আর নরকের বিভ্রমে তাদের মৃত্যু হয়
অথচ স্বর্গ নিয়ে ছেলেরা খেলা করছে মাঠে।

ডোমঘর

ঈষৎ লাল রেখার মতো দুর্মর আওয়াজ
ডেকে যাচ্ছে ডোমঘরে;
যেন পাললিক বাতাসে তারা বাড়ি ফিরল।
আর আশ্বিনের দুপুরে আমাকে রেখে গেলো
আরেক দেহের ভেতর—
বটপাতার ছায়া পেয়ে আমি ঘুমিয়ে গেছি
তার অস্তিত্ব নিয়ে।

অথচ নরুন সকালে তাকে দেখবো বলে
আমার ঘুম হয়নি বহুকাল—
এখন আমার এই জাগরণ;
মৌ-মাছির গুণগুণ নিয়ে ফিরছে হাওয়ার মাস্তুলে।

হাওয়া বনে দোলে উঠে রোদ

কী সব মুমূর্ষু ইশারা তোমার—
এখন ঠোঁট কুঁকড়ে বেদনা ফুটছে মন খারাপে।

পাখিদের কঙ্কাল থেকে
একটি ঘুরন্ত পৃথিবী তাড়িয়ে নিচ্ছে
বেলাজ মেয়ের দিকে—
নগ্ন ও নিঃসরণে এই কী আমি?
যেন আস্তাবল থেকে পালিয়ে আসা ঘোড়া—
স্কুল পালানো বালকের মতো
স্বগত আলোয়
দাপিয়ে যাচ্ছে দূরের হাওয়া।

সে এখন গোলাপি ট্রেনে নিরুদ্দেশে যাবে

তার দূরত্বে দাঁড়িয়ে কামারশালার পথ
মহিশের পায়ের দাঁগে চলেছে অনেক দূর।

দুটি কথার ফারাক ধরে
পাতাদের মনে পেঁকে যাচ্ছে শীতকাল।

এখন বারুদের ফলায় নেচে ওঠে চোখ
জানি কিছুই সহজ নয় তার ভাষা।

দূরের অস্তগামী ট্রেনের শব্দে
তালপাতার ছায়া পড়ো জ্যোৎস্নায়।
বুঝি পিউদের ডাক নামে— হাওয়া বনে দোল ওঠবে রোদ।

শ্রী

এই যে ভাবছো; আমি মারা যাচ্ছি
তাও তো কত চমৎকার-শ্রী।

আমাকে বরং দূর থেকেই দেখ;
পাহাড় দেখতে দূর থেকেই সুন্দর।

এই ঘন কালো জঙ্গলে
আমি তো হাত ফসকে যাওয়া মারবেল।
তুমি এখনো সেই কিশোরী ফুল
যেখানে আটকে যেতে পারে আদমের চোখ।

আমার এক একটি নিঃশ্বাস
তোমাকে মৃত্যু অবধি নিয়ে ছাড়বে।

এত ফুল ও পাখির মাঝে;
কেবল পাথরেই বাজি আমি সুর ধরে।

এইবার গোপন কর পারদের চোখ।
তারপর আমাকে কিছুদিন মনে রেখো।

এই ধুলো-বালি-ঝড়
খুব সামান্য কিছু;
যদি নদীর বুকে কানপাতো তবে তার কিছু হয়তো বুঝবে।

জাকারিয়া প্রীণন

জাকারিয়া প্রীণন

জন্ম - ১৫ জুন, ময়মনসিংহ।
আগ্রহ - কবিতা ও প্রবন্ধ
সম্পাদনা - সহজাত (সহযোগী সম্পাদক) 
ই-মেইল : jakariaprinon@gmail.com

One thought on “হাওয়া বনে দুলে উঠে রোদ – জাকারিয়া প্রীণন

  • Avatar
    May 3, 2021 at 8:57 am
    Permalink

    অসাধারণ

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: