হাতি এলো শহরে – সরকার জসীম

ধরিং

তিরিং বিরিং
পিচ্চি ফড়িং
লাফিয়ে চলে
কেমনে ধরিং?

ঘাসের ডগায়
ধানের শিষে
রঙে রঙে
যাচ্ছে মিশে।

কোনটা ধান
কোনটা ফড়িং
ভেবে ভেবে
হচ্ছি বোরিং।

তিড়িং বিরিং
ভ্যাংচি কেটে
ঘাস ফড়িংটা
যাচ্ছে হেঁটে।

ওমা একি !
তাকিয়ে দেখি
ফড়িং গেলো
পাখির পেটে।

আঁকিয়ে

প্রজাপতির পাখায়
কে যে ছবি আঁকায়।
কি যে তাঁর সৃষ্টি
হতবাক দৃষ্টি।

রকমারি বাহারে
কতো রঙ আহারে।
ধরবে কে তাহারে
উড়ে যায় পাহাড়ে।

আঁকিয়ের বাড়ি কই?
বিস্ময়ে চেয়ে রই !
সে যে থাকে আড়ালে
হাত কেনো বাড়ালে।

পারবে না ধরতে
থাকে না সে মর্ত্যে।

আমি আর টুনটুনি

বেগুন ডালে সেগুন ডালে
দুল খায় কে দুলকি তালে।
দুলনা দোলে দুদোল দোল
টুনটুনিটার মায়ের কুল।

মা খাওয়ালো ঠোঁটে তোলে
সে আনন্দে সব যে ভুলে।
ডানা মেলে উড়াল শেখে
ধরতে পারো! বলো এ কে?

কে ফুটালো গোলা বারুদ
যায় উড়ে যায় ফুরুৎ ফারুৎ।
মা হারিয়ে ছোট্ট পাখি
ইতি উতি ডাকাডাকি।

খুঁজে বেড়ায় একা একা
আর কি পাবে মায়ের দেখা?

সেই পাখিটা আমি নিজে
চোখ দুটি যে যাচ্ছে ভিজে।

সইবেনা ধর্মে

হৈ চৈ চিৎকার
খেলা শেষে জিৎ কার।
ঝগড়াটে শকুনি
দেয় শুধু বকুনি।

পশু পাখি মিলে
সই করে বিলে।
কাক বলে তোতা
দেব এক গুঁতা।

ঠিকঠাক বল
তিস্তার জল।
কারা কারা পাবে
সব্বাই খাবে।

ওরে শোন গাধা
জল খেতে বাঁধা।
এই কু-কর্মে
সইবে না ধর্মে।

হাতি এলো শহরে

গাড়ি ঘোড়ার বহরে
হাতি এলো শহরে।
চশমা চোখে, পাইপ মুখে
হরেক রকম ছবি বুকে।

সাজলো সে যে সং
দেখায় কি যে ঢং।
মাহুত ব্যাটা দেয় খুঁচিয়ে
চাঁদা তুলে শুঁড় উঁচিয়ে।

পথিক ভয়ে কম্পমান
কুলার মতো দুলায় কান।
শুঁড় তুলে সে খায় চেঁচিয়ে
সব ধরে সে শুঁড় পেঁচিয়ে।

টাকা পেলে সালাম ঠুকে
কলা গাছ আস্তো মুখে।
খোকা খুকু পিছু ছুটে
শত শত ভক্ত জুটে।

হাতির পায়ের ছাপ
দিলো অটোগ্রাফ।

কুটুম এলো

ইতল বিতল চিতল পোনা
লক্ষ হাজার যায় না গোনা।
খালে বিলে নদী নালায়
ধরতে গেলে ওমা পালায়!

বড়শি হাতে পড়শি এলো
একটা চিতল ধরে নিলো।
ও পড়শি তোর বাড়ি কই?
গোল বাঁধালি হৈ চৈ।

বাড়ি আমার নয়তো দূর
পাশের গ্রাম হিরণপুর।
কুটুম এলো বাড়িতে
চাল নেই যে হাঁড়িতে।

চিতল বেঁচে কিনবো চাল
শাক সবজি মুগের ডাল।
মাছ ধরেছি রাগ করো?
তবে চিতল ভাগ করো।

পাঠশালা

পাঠশালা নয় মোবাইল নাকি
এখন হলো টিচার
পড়ার রেখে দল বেঁধে সব
দেখছে বাজে ফিচার।

বাবা-মায়ের চোখ দুটোতে
কালো কাপড় বাধা
ডিজিটালের পাঠশালাতে
হচ্ছে বড় গাধা।

গাধার নাকি শিং গজালে
দিবে তখন গুতো
বাবা-মা ছুটবে তখন
ফেলে পায়ের জুতো।

শিক্ষা যদি না থাকে ভাই
দেশ চালাতে সোজা
মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেলে
থাকবে হয়ে গুজা।

মা

আমার মা, পাখির মা, সব মায়েরা একি
আদরগুলো খাঁটি ওদের, নয়তো কোন মেকি।

বিড়াল পুশি, বেজায় খুশি, ছানা গুলো পেয়ে
ওদের মুখ দেখে শুধু, পিট পিটিয়ে চেয়ে।

পেটটা কেটে বের করলো, তুলতুলে এক জাতক
দেখবে বলে, মা তাকালো যেন পাখি চাতক।

দুঃখগুলো সব ভুলে মা, বুকের ভেতর রাখে
বড় হয়ে বউটা পেয়ে যাই ভুলে যাই মাকে।

সরকার জসীম

সরকার জসীম

জন্ম:- ১ জানুয়ারি ১৯৬২, বাউন্ডারি রোড, ময়মনসিংহ। 

পেশা- ব্যবসা

আগ্রহ- ছড়া ও কবিতা।

সম্পাদনা - ছড়াকাগজ টুংটাং, তেপান্তর, অন্তরমন্তর 

প্রকাশিত গ্রন্থ-
হুল্লোড় (ছড়াগ্রন্থ, নওরোজ কিতাবস্থান)
ছড়ায় শেখ মুজিব (পালক পাবলিকেশন্স)

ইমেইল- sarkarjoshim@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: