স্কাইস্ক্রেপারের গায়ে পাখিদের আত্মহত্যা // প্রদীপ চক্রবর্তী

স্কাইস্ক্রেপারের গায়ে পাখিদের আত্মহত্যা
এক

শব্দে প্রথাগত ঝড় | কিন্তু ঝড় এসে সটান ঢুকে পড়লো শব্দে | বিশ্রাম নিয়ে ঝড় শেষপর্যন্ত উঠলো না | একটা একটা করে বহুগামী ধাপ ভেঙে বৃষ্টিকে ডেকে নিলো সৃষ্টিছাড়া বেনুনি তার আঁচল খুলবে বলে

সুনসান একা পেয়ে মেয়েটিকে ভেঙেচুরে ভাবতে ভাবতে বৃষ্টি থামলো মেয়েটির হৃৎপিণ্ডে | জামায় ছোপ ধরে গেলো খানিকটা পাহাড় আর অনেকটা সমুদ্র থেকে আসা মনসুন

শব্দ নিয়ে বসে আছে ছেলেটা | প্রথম কবিতা লিখবে বলে | কিন্তু কবিতা কোথায় ? আঙুলের হাড় কী সরু ! চিবুকের হাড়ে কী এক মারাত্মক প্রণয়পানীয় | চোখের গর্তে যেখানে যেখানে চোখের মণি ছিল , বৃষ্টির ফোঁটাটি সেখানে হেই সামাল | পুনঃপুন এক চোখা মাছের ঝাঁক খেলে বেড়াতে বেড়াতে সাদা কাগজের মধ্যে অবসাদে সনাক্ত করলো মেয়েটিকে | আর শব্দগুলো যে যার মতো আঙুলে আঙুলে জড়িয়ে , জিভে জিভে টক গন্ধে বমি করলো মেয়েটিকে …

দুই

নিদেনপক্ষে রঙটিকে লেজ নাড়তে দেখি | লেজ নাড়তে নাড়তে সুড়ঙ্গের সামনে এসে নুনু বের করে জোর মুতলো | সুড়ঙ্গের গভীরে , দেয়ালে , অন্ধকারে জিভ ও দাঁত ঘষটে রঙ সলতে বাড়িয়ে উস্কে দিলো নিজের পুঁটলিতে রাখা চাঁদের মাংস

শবর গ্রামের উৎসব | নীল সরস্বতী শূন্যে ভেসে তাঁর কাম পাপড়িতে ধরেন আর বাষ্প ওঠে , বুদ্বুদ ওঠে | মাটির হাড়িতে ফেলে শরীরের তাপে সিদ্ধ হয় রঙ | লেজ নাড়ে চন্নন ধূপের গন্ধ |

মজা আদিগঙ্গা বয়ে ভেসে চলেছে রঙের ধ্বকধ্বকে মণিদুটো | কাছেপিঠে সারমেয় আছে কিনা কারোর মনে নেই …

ইউলিসিস ও ঈশ্বরচন্দ্র

ললিত ছড়িয়ে দাও| লালন তাঁকে ছুঁয়ে দেখছি|
দু’এক টুকরো কুয়াশার জন্য ছাপা হয়েছে করাতকল

ললিতে আলোছায়া মিলনকালের উর্দ্ধগামী ধাতব ,
সেলাই বুনছে ঘাঘরা ফলস| আড়াই হাজার চৈত্র|
রুপোলি মেঘের পাড় বেয়ে বেড়ালেরা এসেছিলো,
আত্মহত্যার রোদ্দুর ঢুকলো ঘরে

সমূহ চিঁহি শব্দে বাতাসে মূর্ত, গরীবের ঘোড়ারোগ|
ময়ূরের চেয়ে ছায়ারা বহুশ্রমে অভিমানী আজ,
যে পারে সে ঝুঁকে পড়ে তুলে নিক লুঠের তবক!

সমস্ত আকাশে কোথাও কোনো শব্দ নেই,
পাখিবিষ্ঠার দ্বি-শতবর্ষ এগিয়ে এলো বলে!

জনৈক স্ট্যাচু- ঈশ্বরচন্দ্র| পক্ষী পূরীষের লিপিড প্রোফাইল নিয়ে একা…

মেঘের হিন্দুকুশ পেরিয়ে পৃথিবীপ্রান্তে যে রক্তপিঙ্গল টাট্টুঘোড়ারা ছুটে যায়, তাদের এক দূরাগত নদী আছে| চাঁদের কলঙ্কে রাস্তায় পড়ে আছে কত যুগ| হরিণের বাইরে ছুটন্ত মৃগ আঁকবে বলে…

ছায়াজগৎ

যে ছায়া মেয়ে দিয়েছে বৃষ্টি দিয়েছে
পাখি তার ভেতরে ঝরিয়েছে পত্ঝর

ছায়াকে দেখছে নয়নছায়া
বুদ্বুদ হত্যার শেষে সবুজ তার একমাত্র গুল্ম,
বৃষ্টি থেমে গেছে কিশোরীবেলায়

অথৈ দিগ্বলয়ে ভিজে অন্ধকার বাতাস এসে লাগে তার রেশমচুলে

নুড়ির মতো ঘূর্ণিতে ঘুরে ব্যথাময় ভাষার একটু একটু শব্দ হলো

নির্জন ফুলের সংক্রমণে ফুল ফুটছে, ফুলের হিতার্থে

যা নেই তাও দেখি
যা আছে তাও
আলো রাঁধতে রাঁধতে গন্ধ ছড়ায় শূন্যের সহবাসে
পরিযায়ী মানুষ

পুরোনো কোনও গাছ
নতুন নদীর মতো শব্দে শব্দে টের পাই …

ক্ষিতি
এক

ভগ্ন রোদে সেঁকে সমস্ত দেহে ছড়িয়ে যায়
বিমলা জুলেখা মতিবিবিদের বনেদি দ্রাক্ষারস,
বারুণী পুকুরে লুকিয়ে সাঁতারের জল মুছতে
ব্যবহার করে, সুগন্ধী ঘামের তোয়ালে

পুরুষোচিত পটভূমি, রক্তে লৌহ পুকুর,
বহুযুগ আগের এক অন্ধগলির রাস্তা পেরিয়ে
অনতিক্রমনীয় ইশারায় পোড়োদালানবাড়ির
গোপন চিলেকোঠায়
রেখে এসেছে স্যমন্তক সন্ধিক্ষণে
কয়েকটা শব্দের এসেন্স

হারিয়ে ফেলা ঘোড়ামারা দীঘি
সুন্দর স্থাণুবৎ রুদালি বেহাগ,
শরীরে জেগে ওঠা ট্রাপিজের দড়ি
উঠছে নামছে জলসার ফাঁকে রাতের সড়কে…

অপার খিলানের শেষ বিন্দু থেকে কেঁপে ওঠে বুক
বাতাস গর্জে ওঠে জনস্থানে
শরীর যেন পুরোনো নদী

পলকে অবরোহী|
দীঘল অভিসন্ধির মায়ায় উচ্চারিত অসময়,
সংঘ- অনুগামী শ্রমণ ঘুলঘুলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া রোদের পিছু পিছু পুরুষকার

এতো এতো ঘর, সিঁড়ি, বিমর্ষ ফাঁকা চেয়ার টেবিল, শূন্য মহাকরণ
সর্ব অঙ্গে শুধু তুমি তুমি গন্ধ

অঙ্গ তোলার শব্দে দিগ্বিদিক
তারাভরা রাতের রাইটার্স,
মীমাংসাহীন ফাইলের অভিশাপ
সৃষ্টির আদিতে কোনো আদম নেই, রয়েছে কেয়স
তুচ্ছ মাছিটিও আসে মলে ও কমলে
অন্ধকার জানলায় জানলায় মুখ দেখিয়ে
বালকবেলার কেরানি: সেক্টর ফাইভের শেষ প্রতিদ্বন্দ্বী,
কাউন্টের সমাধি ফুঁড়ে ওঠে মূষিকবিহীন …

দুই

না ফোটা চুমুকে হাত কাঁপে…

যেদিকে বন্য পলাশের দেশ
মহিষের শিঙে গাঁথা রক্তমাখা চাঁদের ফানুস
অশরীরী গন্ধ ছড়ায়

তাদের শিকড়ে নীল হয়ে জমা শ্বেতসার একদিন খুঁড়ে নিয়ে যাবো|

ঝরাপাতার গভীরে বাসনাবিহীন খড়ের প্রতিমা

আমাদের বাড়ির নাম হয়েছে পাখিদের বাড়ি

একটা নির্বিকার স্খলিত শব্দ গন্ধে সর্বস্ব এমনকী
যখন খুচরো কিংবা ঈষৎ নির্মলি,
সে ক্রমাগত ছোট্ট শরীর
অবদমিতের কঙ্কাল খুঁড়ে খুঁড়ে চলেছে
আলোয় ভরা ফানুস ওড়াচ্ছে, ফানুস ভেসে ভেসে যাচ্ছে
নীলকুঠির ওপারে সরু নদীর লোকেশনে

অক্ষরেখা দ্রাঘিমার খোপে খোপে পৃথিবীর ফোঁটা ফোঁটা ঘাম

ক্রমশ পৃথিবীর ঘরে গোসাপ গিরগিটির সঙ্গে জলকিশলয় জড়াবে,
লোহার জন্তুরা বাচ্চা দেবে…

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: