শীতকাল মানে // আবির আবরাজ

শীতকাল মানে

তোমার মৌসুমি আগমন বলে গেছে বানকুড়ালি
অভিজ্ঞ সৈয়লের মতোন দুইটা শালিখ তড়িঘড়ি
বাঁজা ডেউয়া গাছটায় বাসা বাঁধলো। এখন নয়
মাহ ভাদর তবুও, অভিযোজন জনিত ঝামেলায়
কুকুরের সঙ্গে বিজোড় বিপরীত ঘটালো কুকুরী

ওরা জানেনা শীতার্ত দিন এখন— পাড়ার মেয়েরা
ভীড় করে মেহেন্দিতলায়। শুষ্কতা দেখে নদীকেই
লাগে চোখ অথবা চোখ নদী হয়ে চোখের ওপর ভাসে
শীতকাল মানেই প্রেমিকাদের বাড়ি সম্বন্ধ আসে।

চায়ের কাপে একটা বিস্কুট অক্ষত থাকে সাড়ে ছয় সেকেন্ড
▪️

সময় অনেক মুমূর্ষু
তুমি সেবিকা বিশেষ, তাকে বাঁচাবা তাই;
অটোস্ট্যান্ডে আসছো তবে সিএনজিতে উঠে যাচ্ছো তড়িঘড়ি।
অটো’অলার বেজার নিয়ে আমি কাছেই টঙে
একটা পায়া এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে নাই বেঞ্চিটাতে বসে এই ঘটনা দেখেছি…
ততক্ষণে কতো কাপ চা, কয়টা সিগারেট আর কয় পিস কলার সঙ্গে বিক্রি হয়ে গেলাম, আমি তার জানলাম না কিছুই।

না থাকার মতো

▪️

আমি তোমার শরীরের
গোপন কোথাও
ফুটে থাকা
স্পষ্ট একটা তিল।
লোকের চোখে পড়ি না
তোমার শ্রীবৃদ্ধি করি না
থেকে যাই কেবল
না থাকার মতো।

নদীর উপরের স্রোত, ভেতরের স্থিরতা

▪️

আমি একজনকে চিনতাম। বিবাহিত ছিলেন। কবিতা লিখতেন নানান বিষয়ে। তবে স্ত্রীকে নিয়ে লেখা তার কোনো কবিতা ছিলো না। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হতেই গলির মুখে একটা পাগল থাকতো। ভিক্ষা করে, খাদ্য-অখাদ্য খায়, বেশিরভাগ সময়ই যে বিবস্ত্র থাকে। গল্পের কবি অথবা লোকটি সেই পাগলটিকে নিয়েও লিখেছেন বেশকিছু কবিতা। দিনরাত মানুষ, মহাপৃথিবী, নন সিজনাল বৃষ্টি, বাড়ির পাশের পার্ক, তার পাশের দিঘি, ডালিয়া ফুলের গাছ, ঘুমন্ত শিশুর মুখ, নদীর উপরের স্রোত, তার ভেতরের স্থিরতা, পাহাড়ের সঙ্গে সমুদ্রের যোগাযোগ, এমনকি সরকারী অফিসের দীর্ঘ করিডোরের মতোন অজস্র বিষয় নিয়ে কবিতা লিখে চলা কবিটি ঘরে ফিরতেন অনেক রাত করে; আর যাকে নিয়ে কখনও একটা অক্ষরও লিখেননি তার পাশে ঘুমিয়ে পড়তেন।

লা পুলগা

[লিও মেসিকে]
▪️

ব্রহ্মাণ্ডের ওইসমস্ত রহস্যাবৃত গোলক যেনো ওঁরা
রঙ বাহারি আবরূতে সাজোয়া শরীর
খোদ খোদার তদারকিতে তার তরফ থেকে বারাতির রূপক নেমে এসেছে পৃথিবীর এসমস্ত বিকাল এবং রাতের
উচ্ছ্বাসে মলমল সবুজাভ টার্ফে

শূন্য, মহাশূন্যের মতো এ পা ও পা মুসাফিরি শেষ করে
কেবল, কেবলই উলকি মুখরিত তোমার ওই বাঁ পায়ে আশ্রয় নেবে তাই

শোনো মানব, প্রিয় মহামানব হে

এরকম বহু আশ্রয় ভেঙে যতোবারই ওদেরকে ছুঁড়ে দিয়েছো
রহস্যাবৃত এক অনন্ত আলেয়ার দিকে প্রতিবারই
লিখিত পরবর্তী ওদের বিবিধ বেদনাদের আমি সাক্ষ্য নিয়েছি তোমার নতমুখী একেকটি বিদায়ে

পহেলা বার শিশুর বায়স্কোপ দেখার মতোন অবাক নিয়ে
দরদালান মুখরিত অলক্ত উচ্ছ্বাস এবং বিষণ্ণতাকে নর্তকী
করে পায়ের ইশারায় যাচ্ছেতাই করা তোমার আবির্ভাব বুঝেছি

পাপেট মাস্টার হে

এসমস্ত দরদ মনে রেখো তোমারই নামে দলিল দস্তাবেজে লিখিত ছিলো

আর এইসব অযুত কিংবা নিযুতের মতো হিসাব পার করে দূর, দূরবর্তী কোনো পথ যেনো সেই একাকী টানেলে তোমার সমস্ত খিন্নতাপূর্ণ হেটে যাওয়াগুলিরও সঙ্গে আমি আমার ক্রন্দনকে সহচরী করেছি বারবার

দেখার কথা নয়, জানবেনা

তোমার ব্যথাহত, রক্তবত পতনেরা কিভাবে কতো কতো হৃদস্পন্দনকে
নাটম্যাগ করে বেরিয়ে যাবার পর আবার বিবাগী ঘোড়ার মতোন
টগবগ সমেত ফিরিয়ে এনেছে ধুন্ধুমার আধারের গহীনতা থেকে

আমার গণিত ভুলে যাওয়া হাসি এবং ভারাক্রান্তিরা তোমার চারু আঘাত অথবা তার ফুঁৎকারে কর্পূর হয়ে বেঁচে ফিরেছিলো আমার বিষন্নতা কবলিত অনেক রাতের হিংসার মুখোমুখি যুদ্ধোত্তর বিজয়ী সৈন্যের হুলিয়ায়

এ যে কোন হিপনোটিজম
ট্যাঙ্গোর রিদম
অনুভবের মতো চোখের ব্যাসার্ধ বেড়ে যাওয়া চমৎকার তোমার এইসব ছোটা যেনো মথের শরীরি লেবাস ভেঙে রটে যাওয়া প্রজাপতির ফাঁৎ ফাঁৎ ডানার ক্যাওস লেগে রেণুর মতোন আন্দোলন
এইরূপ গোলকধাঁধার ভেতর আমার নিজেকে হারায়ে
জীবন খুঁজে পাওয়ার কারিগর

হে মহামানব

গ্রাসিয়াস গ্রাসিয়াস জিকিরে মুখরিত কাতালান থেকে রোজারিওর
আসমানে আমি শুধু তোমারই মুরাল রচে দিতে চেয়েছি
আর আমার প্রতিটি স্বপ্নে তোমাকে ভেবেছি বেঞ্জামিন বাটন

নির্ঝঞ্ঝাট ঘুমের মতোই এইসব স্বপ্নের ভেঙে যাওয়ার পর
বহু অদৃশ্যের চোখাচোখি চোখ রেখে চোখ লাল করে টেবিলে ছুঁড়ে দেয়া রানী তাসটির মতো জানার ইচ্ছাদের আত্মীয় করে সন্দেহ রেখেছি..

প্রেমময় পোয়েট্রি থেকে হাওলাত আনা তুমিই কী সেই গাঢ়তর আলো
যাকে দেখে আসমান জুড়ে ফায়ারওয়ার্কসরূপে সহসা বিদ্যুতও চমকালো..?

আবির আবরাজ

জন্ম ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৮ 
পেশায় শিক্ষার্থী
আগ্রহ কবিতা
ইমেইল - abirabraz@gmai.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: