শাজা’র প্রথম উপন্যাস তিতিয়া

প্রকাশিত হলো আলমাস হোসাইন শাজা’র প্রথম উপন্যাস ‘তিতিয়া’। বইটি প্রকাশ করেছে ফাহিম পাবলিকেশন্স। প্রকাশক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম নাজিম। প্রচ্ছদ করেছেন সারাজাত সৌম। বইটি পাওয়া যাবে অমর একুশে বইমেলা ২০২১ পানগুছি প্রকাশন এর ৩০৬ নং স্টলে। তিতিয়ার মুদ্রিত মূল্য: ২১০ টাকা।

তিতিয়ার প্রেক্ষাপট

বাস্তবের কাহিনীকে অবলম্বন করে তিতিয়ার গল্প ফেঁদেছেন ঔপন্যাসিক আলমাস হোসাইন শাজা। উপন্যাসের নাম চরিত্র তিতিয়া অজপাড়াগাঁয় বেড়ে ওঠা একটি সাধারণ মেয়ে। যার প্রকৃত নাম পিংকি। পিংকি থেকে তিতিয়া হয়ে উঠার কাহিনী এবং তার নিষ্ঠুর পরিণতি নিয়েই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট সামনের দিকে এগিয়েছে। আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারানো, চৌদ্দ বছরের একমাত্র ভাইয়ের কারখানায় কাজ করতে যাওয়া, কষ্টেসৃষ্টে গ্রাম থেকে শহরে গিয়ে মেধাবী তিতিয়ার পড়াশোনা এবং এইচ.এস.সি পরীক্ষার প্রাক্কালে টাইফয়েডের ভুল চিকিৎসায় তার সম্পূর্ণ চেহারা নষ্ট হয়ে কালো ও অস্থিচর্মসার হয়ে উঠা তিতিয়ার রূপ-লাবণ্য হারিয়ে পাগলপ্রায় হবার দশা। তার মধ্যেই মায়ের মাইল্ড স্ট্রোকে তিতিয়ার লেখাপড়ায় ছেদ। নানান চড়াই উৎরাই শেষে ডিগ্রী (পাস) কোর্সে উত্তীর্ণ হওয়া। এভাবেই কাহিনী যখন এগোচ্ছিল তখন তার একমাত্র ভাই বাড়ি এসে সুন্দরী বউ ঘরে তুলে। তারপরপরই শুরু হয় ‘তিতিয়া’র উপর ভাই ও ভাবির বিরূপ আচরণ। বাহ্যিক সৌন্দর্যের কদর্যতার কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়া, চাকরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার দরুণ ভাই ভাবির তিরস্কার সহ্য করতে না পেরে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে আম গাছে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তিতিয়া। আত্মহত্যাকে ধামাচাপা দিতে স্ট্রোকে মারা গেছে বলে প্রচার করে সহোদর ভাই। তিতিয়ার প্রায় ঠিকঠাক হয়ে যাওয়া বিয়ের জন্য কেনা ষাঁড় দিয়েই মহা ধুমধামে বোনের কুলখানি হয়।

সহজাতের সাথে বইটি নিয়ে কথা বলেছেন আলমাস হোসাইন শাজা। সহজাতের পক্ষে কথা বলেছেন শাহীন তাজ।

উপন্যাসটির পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে উপস্থাপন বাস্তবিক ঘটনার বর্ণনার ঢঙে, এমন কেন?

শাজা: বইটি পড়তে গিয়ে বারবার মনে হতে পারে বাক্যালাপ বা ঘটনাটি অন্যভাবেও উপস্থাপন করা যেতো। আমি বলবো, যেতো না। পুরো পটভূমির প্রেক্ষিতে বাস্তবিক জীবনে যা ঘটেছিলো তা এক মলাটের মধ্যে তুলে ধরার প্রচেষ্টা ছিলো মাত্র; অতীত হয়ে থাকা লিপিবদ্ধ ইতিহাস পাল্টে দেওয়া সহজসাধ্য বা সমীচীন কোনটাই নয়। তাই অতিরঞ্জন থেকে যথাসম্ভব নিজেকে সংযত রেখে ধ্রুব সত্যটাই তুলে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। যদিও পুরো ঘটনার ৫-৭ ভাগ এদিক সেদিক হয়েছে, তা নিতান্তই গল্পের গভীরতার প্রয়োজনে।

তিতিয়া চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলুন।

শাজা: ‘তিতিয়া’ আমাদের সমাজ বিবর্জিত কেউ নয়। আপনার আমার আশেপাশেরই কেউ। মেয়ে, দুহিতা, দুলালী, আত্মজা, নন্দিনী, পুত্রী, সূতা, তনয়া-যাই বলে অবহিত করি না কেন সে অনেকের দলের একজন মাত্র। এই একজনই আপনার সামনে একত্রিত করবে হাজারো শরীরি-অশরীরি তিতিয়াকে। চিরাচরিত সমাজ-সভ্যতার অযাচিত বিচারে তিতা তথা তিক্ত হয়েছে এমন অবাঞ্চিত যে যেন, সেই মূলত তিতিয়া।

বর্ণিত ঘটনার সামগ্রিক অনুধাবন ও অবলোকন শেষে কোনরকম মানসিক স্বস্তির নিঃশ্বাস মিলবে না, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তার জন্য দায়ী আমি-আপনি আর আমাদের ঘুণে ধরা সমাজ-সংস্কৃতির অপ্রার্থিত শিষ্টাচার।

বলে রাখি, পুরো উপন্যাসটি পড়া শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে দর্পণে একপলক দেখবেন। প্রচ্ছদটির দিকে তাকাবেন। নিজের সাথে সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য খুঁজবেন। আত্মোপলব্ধির প্রেক্ষিতে আপনার আত্মচিৎকারের বয়ান ৫-৭ লাইনে লিখে রাখবেন। সেটাই হতে পারে ব্যক্তি আপনাকে নিয়ে সামগ্রিক জীবনের নিঃসংকোচ পর্যালোচনা।

বইমেলায় কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

শাজা: আলহামদুলিল্লাহ। এককথায় আশাতীতরকম। এ পর্যন্ত ২৫০+ বই বিক্রয় হয়েছে যা দেশের বিভিন্ন পাঠকের কাছে পৌঁছে গেছে।

লেখালেখিতে আগ্রহ কেন?

শাজা: মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াকালীন প্রথম থেকেই শখের বশে লেখালেখির অভ্যাস। কেন বা কি কারণে সেটা আমি নিজেও জানি না। সমাজের অসঙ্গতি ও অন্যায্য বিষয় তুলে এনে তা থেকে উত্তরণের মানসিকতা তৈরিতে যথাসম্ভব চেষ্টা করি।

তিতিয়ার পরে কি নিয়ে কাজ করছেন?

শাজা: ‘তিতিয়া’র সূত্র ধরেই ‘তিয়াস’ শিরোনামের একটি উপন্যাসের কাজ করছি। আল্লাহপাক হায়াত দিলে ‘তিতিয়া’ ও ‘তিয়াস’ যুগল উপন্যাস হিসেবে রেখে যাবো।

সহজাতের পক্ষ থেকে আপনার জন্য শুভকামনা।

শাজা: সহজাত ওয়েবজিন এবং আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

সম্পাদক

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
জন্ম ২ জানুয়ারি, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
আগ্রহ -  কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও ফিচার

সম্পাদনা -  সাহিত্য সমাচার, কিশোর আনন্দ, সহজাত

প্রকাশিত বই-
কবিতাগ্রন্থ- সেলাইকল (২০১৮), স্মৃতিগন্ধনগর (২০২০) ছায়াবীথি প্রকাশন
গল্পগ্রন্থ- আমার প্রথমা (২০১৩)

ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *