আবোলতাবোল – রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

সোনার বাংলাদেশ

একটি ছবি আঁকছে খুকু
রংতুলিতে মাখছে খুকু
হাজার রকম রং,
দেখবে যদি সেই ছবিটার ঢঙ্-

আকাশ নামে দিঘির জলে
সূর্য নামে সন্ধ্যা হলে
তারার ফুলে
নাচে ঢেউয়ের দল,
নাও বেয়ে যায় খেয়ার মাঝি
ছলাৎ
ছলাৎ
ছল,
আঁকছে খুকু কোন্ ছবিটা বল্?

শিউলি ভোরে ফুল কুড়ানো
চোখ জুড়ানো
পূবাকাশে টকটকে টিপ লাল,
রাঙিয়ে হাসে কৃষ্ণচূড়ার ডাল।

রংধনু রং সাতটি বাহার
ঝর্ণা সাগর নদী পাহাড়
দিগন্তে নীল
ছুঁইয়ে দিয়ে
হাসে,
মেঘের সাথে ভাসে।

সেই ছবিটা আঁকছে খুকু
সেই ছবিটা আঁকছে পড়ার
ফাঁকে,
যেই ছবিটা
মাঠ পেরিয়ে
ঘাট পেরিয়ে
হাজার নদীর বাঁকে,
হৃদয় জুড়ে চোখের তারায়
থাকে।

আঁকছে খুকু আঁকছে খুকু
হয় না আঁকা শেষ,
আঁকছে খুকু রক্তে লেখা
সোনার বাংলাদেশ।

চামচা

সাহেবের পিছে চলে
লোকে কয়, চামচা
তাই রোজ পড়ে যায়
সাহেবের নামচা।

সাহেবের কান্নায়
কেঁদে ফেলে দ্বিগুণে
ভাব বুঝে আরো কাঁদে
কখনো বা ত্রিগুণে।

হাসলেও হাসে তাই
সাহেবের চেয়ে ঢের
আড় চোখে চেয়ে দেখে
প্রয়োজনে হাসে ফের।

হাত দুটো বিজি হলে
ছাতা ধরে নাকেও
আগে পিছে সামনে যে
স্ট্যান্ডবাই থাকেও।

ধমকালে রাগে না
কোত্থাও ভাগে না।

এভাবেই সিদ্ধি
ধনমান বৃদ্ধি।

আবোলতাবোল

হাট্টিমাটিম হাট্টা
পাটালি গুড় পাট্টা
খাবি যদি খা খেয়ে নে
কুল-তেঁতুলের খাট্টা।

হাট্টিমাটিম হাট্টি
মারিস নে আর চাট্টি
খুলে গেছে দাদুর খাটের
পুরানো সেই নাটটি।

হাট্টিমাটিম হাট্টু
রাজার ঘোড়া টাট্টু
রেসের খেলায় জয় পেয়েছে
পূর্ব পাড়ার বাট্টু।

হাট্টিমাটিম টিম না
টাট্টু ঘোড়ার ডিম না
নিতে পারিস বরফকুচি
হিমালয়ের হিম না।

হাট্টিমাটিম টিম
টাট্টু ঘোড়ার ডিম
ডিম খেয়ে তার মাথায় এলো
পদ্য লেখার থিম।

সেই আকাশে

খুঁজিস কী তুই, আকাশ নাকি মন!
ভাবছি অনুক্ষণ-

মনের ভেতর আকাশ,
বল শুনি তুই ঐ আকাশে
কেন অমন তাকাস!

সেই আকাশে ফোটে অনেক ফুল
সেই আকাশে ভুলের খেলা ভুল।

সেই আকাশে হয় না নিশি ভোর
সেই আকাশে কে আছে বল তোর?

সেই আকাশে আলোর ঝলক
যায় না ফেলা চোখের পলক,

বিজলী চমক বজ্র-অঘাত হানে
মৃত্যু-কপট বাণে।

জানি তো সব, নয় অজানা কিছু
তবু ছুটি সেই আকাশের পিছু।

সেই আকাশেই আমার বসবাস
প্রতিটি ক্ষণ, বছর বারো মাস।

শরত রানি

রৌদ্র-মেঘের লুকোচুরি
আকাশ ভরা রূপ
দেখি আমি চুপটি করে চুপ।

ভোরে শিশির হিম ঝরে
দুপুর আকাশ ঝিম ধরে
ঝিলিক দিয়ে ওঠে ঝিলের জল
ছড়ায় হাসি শাপলা-শতদল।

মাছরাঙা নীল চুপ করে
মাছ ধরে খায় ঝুপ করে
লাফিয়ে ওঠে পাবদা-পুঁটির ঝাঁক
মন ছুটে যায় তার সাথে, যায়, যাক।

নদীর ধারে কাশের বন
মিষ্টি-সবুজ ঘাসের বন
দিগন্ত-নীল সুদূর আমায় ডাকে
মন কি ঘরে থাকে?

মন থাকে না ঘরে
কোন সে তেপান্তরে
বেড়ায় ঘুরে প্রজাপতির পাখায়
তাল-তমালের শাখায়।

রাত কেটে যায় তারার মেলায় ভেসে
ভোর-বিহানে শিউলি-সুবাস এসে
দেয় জুড়িয়ে মন
তাকিয়ে দেখি শরত রানি
হাসছে অনুক্ষণ।

একটি ছড়া

একটি ছড়া হয়নি লেখা,
একটি ছড়া
যেই ছড়াটি অগ্নিঝরা
মিষ্টি-কড়া।

যেই ছড়াটি ঝর্ণা হবে
বৃষ্টি হবে
পথের সাথী, দৃষ্টিহীনের
দৃষ্টি হবে।

দুষ্টু কিশোর, চৈতী হাওয়া
দুপুর হবে
খুকুর পায়ে ঝুমুর ঝুমুর
নূপুর হবে।

পাখির কূজন, ফুলের বুকে
গন্ধ হবে
ধানের খেতে ঢেউ খেলানো
ছন্দ হবে।

বাবা-মায়ের আদর হবে
হাসি হবে
দুচোখ ভরা স্বপ্ন রাশি
রাশি হবে।

তারার মেলা, প্রভাত-হাসি
সূর্য হবে
কখনো বা ভয়াল রণ
তূর্য হবে।

কালবোশেখী, ঝড়ের মাতম
প্রলয় হবে
নতুন আলোয় স্বপ্ন-সুখের
বলয় হবে।

সেই ছড়াটি কোথায় আজো
হয়নি দেখা
সেই ছড়াটি, একটি ছড়া
হয়নি লেখা।

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

জন্ম- ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৬৫, শ্রীপুর, গাজীপুর।  
পেশায় কলেজ শিক্ষক। 
আগ্রহ- মূলত ছড়া।
সম্পাদনা - শিশুসাহিত্যের  কাগজ 'বাকবাকুম।'
এখনো কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি।

ই-মেইল: rafiqulislam6531@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: