রক্তে কেনো মানুষের উল্লাস

রক্তে কেনো মানুষের উল্লাস?

অযাচিত রাত নেমে আসে―
ভয়হীন প্রান্তরে ভয়ের ছোবল!
ইতিহাসের রোদ ভুলে গেছে রোদের কী মহিমা!
যদি কোথাও নামে বৃষ্টি, বারুদের গন্ধনিচয় ধুয়ে নেবে;
পবিত্র মুখশ্রী মুখোশে ঢাকা―
বেদনার পাহাড় গলে আসে ঝড়, গুঁড়িয়ে দেয় অনাদিকালের পূর্বপুরুষের ভিটা
বেহায়া নেতানিয়াহু!
ইতিহাসের পালকি থেকে নেমে গেছে মানববধূ লাজরাঙা।

বিনিময়ের পৃথিবীতে লজ্জাহীন কোনো প্রান্তরে আমি যেতে চাই না…
শুধু জানতে চাই― ‘রক্তে কেনো মানুষের উল্লাস?’

অমানুষ!

পরিসংখ্যান ব্যুরোতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি―এখানে অসংখ্য মানুষের খুলি পাওয়া গেছে…
জীবিত মানুষের সংখ্যা তারা দিতে পারেনি;
অমানুষের একটি তালিকা করার ‘প্রকল্প’ হাতে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে তারা আমার প্রস্তাব পাঠানোর পর― সারা দেশে ‘রিসার্চ প্রপোজাল’ আহ্বান করা হলো―
শর্ত ছিলো : ‘একজন অমানুষ, অথবা গ্রুপ অব ইনহিউম্যান’ এই গবেষণা কাজটি করতে পারবেন।
প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিলো প্রচলিত যে কোনো প্রকল্পের চেয়ে বেশি।
লুক্রেটিভ অফার!
কাউকে পাওয়া যায়নি― তার মানে কি অমানুষ নেই?
বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ ও বিস্মিত করেছে।
অবশেষে আমি যখন ‘রিসার্চ প্রপোজাল’ উপস্থাপন করলাম
আমাকে ‘বানর’ ভেবে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইলো
মিডিয়াকর্মীরা এলেন, ছবি তুললেন―বিদেশি গণমাধ্যমে হৈচৈ পড়ে গেলো;
একজন ‘অমানুষ’-এর দেশ বাংলাদেশ (এন ইনহিউম্যান লিভস্ ইন বাংলাডেশ!) শিরোনামে বিদেশি পত্রিকাগুলো লিড নিউজ করলো।

আমি এখন ভীষণ বিখ্যাত, যদ্যপি ‘অমানুষ’ আমি!

আধিদৈবিক

মেছোহাটে একবার দামি পারফিউম বিক্রেতা চিৎকার করছিলো
বিষয়টি নতুন ও অভিনব!
আমার পকেটে টাকা নেই― থাকলে কিনে নিতাম এক শিশি;
দাম অজ্ঞাত। শিশির গায়ে লেখা ‘সৌজন্য মূল্য’― সৌজন্য মূল্যহীন আমি
অনেকগুলো পাঙ্গাস মাছকে ফিসফাস করতে শুনলাম;
পুরো বাজারে ওরাই কেবল জীবিত ছিলো!

সবজির বাজারে জনৈক রাঁধুনি (তাকে কি জি-বাংলার সিরিয়ালে দেখেছিলাম?) সেকেন্ড হ্যান্ড একটি ফ্রিজ বিক্রির জন্য দিব্যি বসে আছেন ল্যাট মেরে―

আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম,
ফ্রিজের এক গ্লাস জল পেলে মন্দ হতো না
আমার টনসিলের সমস্যা
জল খাওয়া হলো না। পারফিউম কেনা হলো না।

একা শূন্য পথে হাঁটতে থাকলাম; আমার সঙ্গে বাজারের পাঙ্গাসগুলোও হাঁটছিলো…

গুরুর বারামখানা

পরিযায়ী বিকেল; সন্ধ্যানীড়!
ভেতর সুনসান;
আর্শিনগরে মানুষের দীর্ঘলাইন; কারো মুখে কোনো কথা নেই।
‘ভবে মানুষ-গুরু নিষ্ঠা যার, সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার’… এখানকার বাতাসে এই কথা ভাসছিলো…
শুভ্রবসন কহিলো আমারে ‘বিষয়-বাসনা পারিবি দিতে বিসর্জন?’
তোর নাই এতয়াত যথার্থ!
স্রষ্টার সকাশে ‘নে চেয়ে ক্ষমা’

সে-রাতে আকাশে পূর্ণিমা ছিলো; গুরুর বারামখানায় সহস্র মানুষের ভিড়ে পান্থ একাকী হেঁটে গেলো কতোদূর, সে নিজেও জানে না…

এখন বিপদ

কপাট খোলা, এসো― সময় হলে একবার
আমি এখন স্মৃতির ঘুড়ি, অবোধবালক
একা এখন কাটে না সময়, স্মরণ বারবার
রীতির কাছে চাইছি ক্ষমা, কৃপণ বাহক।
মুগ্ধমগন স্বপ্নদ্যুতি ছড়ায় আলো রাশি রাশি
যাবার বেলায় কী লাভ বাজিয়ে তবে
মোহন বাঁশি?

হত্যা করে ভূমি দখল করে― শকুন-শ্বাপদ
হার মেনেছি, হার জেনেছি― এতেও আছে
এখন বিপদ!

আল মাকসুদ

জন্ম ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬, শৈলের কান্দা, জামালপুর। 

পেশায় সরকারি কলেজে অধ্যাপনা (সহকারী অধ্যাপক, বাংলা, আনন্দমোহন কলেজ)  

আগ্রহ গবেষণা, গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ।

প্রকাশিত গ্রন্থ-
কাব্য- এই নাও শঙ্খচাঁদ (২০১৬), এবং তার জন্য এ পঙক্তিমালা (২০১৭), কুমারী রাতের আশীর্বাদ (২০১৯)

প্রবন্ধ- কবিতা অকবিতা-কাব্যপাপ ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০১৮) 

সম্মাননা- স্বতন্ত্র (শিল্প-সাহিত্যবান্ধব) লিটল ম্যাগ

মোবাইল: ০১৭১১-০৬০২৪২
ই-মেইল: almaksud12@gmail.com 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: