যে ছবি মানচিত্র সমান

জাতির পিতা

একটি সাহসী মুখ একটি অনড় মনুমেন্ট
কি করে হয়ে যায় একটি মানচিত্র!
একটি মানুষ সমস্ত জাতি-সত্ত্বায়
কি করে হয়ে যায় চেতনার জমিন!

হাজার বছর নিমজ্জমান থাকার পর
শৃংখলিত অন্ধকার প্রাচীর ভেঙে দিয়ে,
একটি রক্তাক্ত হৃদপিন্ড কি করে হয়ে যায়
উড্ডীন গর্বের স্বাধীন অস্তিত্বের পতাকা!

একটি কণ্ঠের ধ্বনি উত্তাল তরঙ্গমালা হয়ে
কি করে হয়ে যায় বাঙালীর কণ্ঠস্বর!
দুঃখ তাপের পাহাড় ডিঙিয়ে উঠে আসে
মুক্তির প্রতিজ্ঞায় শত শতাব্দীর উচ্চারণে।

নাম তাঁর আমার বাঙালি জাতির অস্তিত্বে লেখা
নাম তাঁর মাটির কণায় কণায় অক্ষরে লেখা,
নাম তাঁর চিরন্তন আলোর মহান দীপ্তশিখা
নাম তার শাশ্বত কালের মহান জাতির পিতা।

দ্যুতিময়ী হিরক 

(মুজিব কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপাকে)

মহান পিতার স্বপ্নময় আলোর ছটায়
প্রতিমুহূর্তে কার হৃদয় উদ্ভাসিত হয়
কার মুখ ভেসে বেড়ায় বাংলার ঘরে ঘরে
একমুঠো সুখ খোঁজে ফেরে কোটি মানুষের মুখে।

পিতার সাহসে কে জ্বালায় প্রাণ-প্রজ্ঞার বাতি
বুকের দেয়ালে ঢেকে রাখে আমূল কষ্টের ছবি।
পদ্মা মেঘনা যমুনা হাজার নদীর প্রবাহমান জল
বঙ্গোপসাগরে নয় তাঁর উঠোনে এসে জমা হয়।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে যার ঘরহীন ঘর
বাবার সোনালি স্বপ্ন ধূলির কণায় উড়ে
সিনার কপাটে টানিয়ে রাখে সে সব ইতিহাস
পিতা মাতা প্রিয় ভাই আর আপন স্বজনের মুখ।

দ্যুতিময়ী হীরক মাতৃভূমির প্রতিকণায় বুনে
তাবৎ বাঙালির সোনার কাঙ্ক্ষা পিতার আঙুলে
বুনে বুনে দিন রাত কার ঠিকানায় লিখে চিঠি
পিতা কি তার দেখতে পায় ভেতর চোখের জল। 

পিতা ও পূর্ব পুরুষ

‘যে গোলাপ মানচিত্র হয়ে ফুটলো সারা পৃথিবী সমান
গোটা বিশ্বে বাংলার মুখ আলোকিত হলো তাঁর গন্ধে
ছড়ালো স্বপ্নের চাদর স্বাধীন পতাকার কষ্টের জমিনে,
রক্তে ভেজা মায়ের আচঁল হাসলো দীপ্ত আলোর সূর্য হয়ে
বাতাসে বাতাসে ভেসে বেড়ালো অমিয় আশার কোরাস

যে পিতার আহ্বানে লক্ষ প্রাণের ছুটলো লক্ষ নদী
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলে হয়েছে ঝঞ্চার উন্মত্তগতি
সব ভুলে মৃত্তিকার মুক্তিই ছিলো মৌলিক কঠিন উচ্চারণ,
যার বজ্রধ্বনিতে পৃথিবীর তাবৎ শাসক শোষক স্তম্ভিত হলো
তাঁর বুকে কি করে হামাগুড়ি দিলো অসহ্য ঘাতক অন্ধকার!
সব শুনে সব দেখে বিস্ময়ে হতবাক অবিনশ্বর পূর্ব পুরুষগণ।

যে পিতার আগমনের জন্য জন্মভূমিকে জীবনের চেয়ে ভালোবেসে
যুগে যুগে স্বাধীনতার সবুজ প্রান্তর একটি পতাকা পাওয়ার জন্য
উড্ডীন করেছে সিনার ভেতর সবটুকু উষ্ণ রক্তের অনাদি স্রোত,
তাঁরা কি আকাশ ঠিকানায় এখনো পিতার কাছে লিখছে কান্নার চিঠি!
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের খামারবাড়ীর, লুট হওয়া ইতিহাস দেখে
তিতুমীর, সূর্য সেন, প্রীতিলতা, খুদিরাম, নেতাজী সুভাষ বসু এবং
ইলা মিত্র আরো কত আত্মাহুতির হাজার হাজার শাশ্বত নক্ষত্র প্রাণ
গ্যালাক্সিপাড়া থেকে অবাক চোখে ফেলছে চোখের বেদনা জল।

মানবতা পাগল মুক্তি পাগল কে আছে বিশ্ব তাঁর বুকের সমান
কার জন্য জনতার উত্তাল প্রবাহ ছুটে যায় পূর্ব পশ্চিম, উত্তর দক্ষিণে
কার সাথে তুলনা করব হে মহান পিতা শেখ মুজিব তোমাকে,
পার্টাকাস, ফ্রিদেল ক্রাষ্ট্রো, চে-গুয়েবারা, মার্শাল টিটো, নেলসন মেন্ডেলা
মহান মানবতার কবি বেনজামিন মলয়েজ অথবা মহা নায়ক আকাহিতো,
সারা রাত নির্ঘুম থেকেও কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারিনা যে আমি
বার বার চোখের সমুদ্রে ভেসে উঠে মাদার তেরেসা মহান মাতার ছবি
এখনো কি আকাশ ঠিকানা থেকে বার বার মুছেন চোখের হাজার নদী।

ঐতিহ্যের দাবী

আপনারা কেউ হাত তালি দিবেন না
আমার কবিতা পড়া শেষ হলে
হাত তালি দিবেন না
আমি বাহবাপাবার জন্য কবিতা লিখিনা
আমি রক্ত কণিকার যন্ত্রণা নিয়ে কবিতা লিখি
আমি সম্মানিত হওয়ার জন্য কবিতা লিখিনা
আমি জীবন যুদ্ধে বঞ্চিত প্রাণের জন্য কবিতা লিখি
আমি মাতৃভূমির কান্না শুনে কবিতা লিখি
আমি সমালোচিত হবার জন্য কবিতা লিখিনা
আমাদের আত্মার সম্ভার বার বার যেখানে লুণ্ঠিত
আমাদের সত্য ইতিহাস যেখানে কালো ধুম্রজালে আবদ্ধ
আমি তার জন্য চেতনায় রক্তলাল হয়ে কবিতা লিখি
আমাদের ঐতিহ্য যেখানে রাহুর হাতে বন্দী
আমাদের মাটির মানুষ যেখানে প্রতি মুহুর্তে জীবন ভাঙার শব্দ শুনে
আমি তাদের জন্য কবিতা লিখি
আমাদের বুদ্ধিমত্তা যেখানে অন্ধকারে হয় ক্রয় বিক্রয়
আমাদের স্বাধীনতা যেখানে রক্ত সাগর থেকে উঠে এসেও লাঞ্চিত হয়
আমি তার দুঃখ ও কষ্টের জন্য কবিতা লিখি
আমাদের পতাকার ইতিহাস দিন দিন দূরের গোধুলী দেখে
আমি কবিতার প্রতিটি পঙক্তির বিন্যাসে লিখি
আমার বুকের সমস্ত প্রগাঢ় প্রত্যয়গুলো
আমি শব্দের কারুকাজে লিখে যাই
আমার বদ্বীপের প্রতিটি ধূলিকণার দীর্ঘ কালের স্বপ্নের বাড়ি ঘর
আমি কবিতায় লিখি দাবির বলিষ্ঠ মিছিল
আমাদের রক্ত যেখানে টকবক করে বার বার
আমাদের মাটিতে গড়াগড়ি যায় প্রতিজ্ঞার সাহস নিয়ে।
জন্মের কসম
পতাকা আর মানচিত্রের কসম
প্রিয় মৃত্তিকার ইতিহাসের কসম
আপনারা আমার কবিতা শুনে কেউ হাত তালি দিবেন না
শুধু ত্রিশ লক্ষ খুন নদীর কথা স্মরণ করে উচ্চারণ করুন
না আমাদের মাতৃভূমির প্রাণের পতাকা
আর তার রক্তে লিখা ইতিহাস লুট হতে দেব না, দেব না।

যে ছবি মানচিত্র সমান

কলিজার সম্মুখ প্রাচীর বরাবর
ছবিটা মাটির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছি।
গোলাপটা মরেনি ঘুমিয়েছে,
আবার সৌরভ বিলাবে নিশ্চিত।
গানের সুর মুছেনি কষ্ঠের কারুকাজ হচ্ছে;
কবিতাও শব্দের মনুমেন্ট নির্মাণ করছে।

আবার জাগবে
যুদ্ধ হবে মাটির মমতায়
জাগবে আবার
যুদ্ধ হবে রক্তের মমতায়
আবার জাগবে
যুদ্ধ হবে ইতিহাস লেখার।

আকাশ সমান পতাকা সূর্য সমান
দীপ্ত ঐতিহ্য আলোড়িত হবে
তিন দশ গুণ লক্ষ, খুন
মৃত্তিকা থেকে আবার মশাল জ্বালাবে
নিকষ-রাত্রি সরিয়ে অরুণ বিজয় হবে।

ছবিটা বুকের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
যে ছবি মানচিত্র সমান
টানিয়ে দেবো বদ্বীপ মানচিত্রের সৌধ
সমান সমান।

পিতা তোমার রক্তের ইতিহাস

মৃত্যুই কি মুছে দিতে পারে সত্তার সব আকাশ
অন্ধকারে আলোর ইতিহাস মুছা যায় না কখনো,
পিতাকে যে অস্বীকার করে সে অন্ধ ও মূর্খ
নিশ্চিত সে জারজ রক্তবহনকারী জারজ সন্তান।

পিতা তোমার মৃত্যুতে আমরা হেরে যাইনি
তোমার রক্তেই আমরা অনড় শাশ্বত পাহাড়,
তোমার রক্তই এখন মহান উড্ডীন পতাকা
হাজার নদীর বুকের স্রোতের প্রত্যয় প্রবাহ।

পনেরই আগষ্টের কোমল রূপালি স্বপ্ন-প্রভাতে
কুক্কুরেরা হঠাৎ বুলেট হোলি খেলা খেলে,
ভোরের সূর্যের কলংকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে
তোমার বুকের রক্ত কি ওরা পেরেছে ছুঁতে?

পিতা তোমার মুখের ছবি এখন মানচিত্র
তোমার প্রতিজ্ঞা এখন স্বাধীন আত্মার জমিন,
তোমার হৃদয় মৃত্তিকা প্রিয় মাতৃভূমি আমার
বৃক্ষের পাতায় পাতায় তোমার জয়ধ্বনি শুনি।

যখনই মাটিতে ফেরাই আমার সন্ধানী চোখ
দেখি তোমার রক্তের কণায় হাসছে ফসল,
আকাশ অরণ্য ও সমুদ্রের প্রতিটি ঠিকানায়
হে মহান পিতা, তোমার বজ্রকণ্ঠ শুনতে পাই,
আর আমার অস্তিত্বে শোণিতের প্রতিটি মহল্লায়
তোমার আদর্শের গান বেজে চলে দিন রাত!

মৃত্তিকা ও পূর্ব পুরুষ

আমাদের এই বদ্বীপ গাঙেয় বাংলায় পলি মাটির মৃত্তিকায়
আর্য-অনার্য দ্রাবিড় তামাটে তামাটে মানুষ সকল,
ঝড় ঝঞ্ঝায় মারি ও মড়কে অসীম সাহসে বুক পেতে
খরা ও প্লাবণে ক্ষুধায় মন্বন্তরে কাটিয়েছে কাল-কালান্তর।

তবু তাদের প্রাণের দুয়ার ছিলো অবারিত-খোলা
চোখে মুখে ছিলো দিগন্ত সমান হাজারো স্বপ্ন মায়া,
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্ম ভেদাভেদ ভুলেছে সবাই
মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাঢ মিলেছে প্রাণের দুয়ারে প্রাণ।

রোজায়-পূজায়, পালা-পার্বণে, ধানে নবান্নে ছয় ঋতু গীতে
মিলেছে-দুলেছে, সুখে-দুখের কাটিয়েছে সারা বেলা,
কৃষাণ-ধীবরে, কামারে-কুমারে, মাঝি-মাল্লায়, জ্ঞানীতে-গুণীতে
হৃদয়ে হৃদয় পেতে শুনেছে শুনিয়েছে পরাণের শত গান।

যতোবার শাসক-শোষক, বেনিয়া-হায়েনা করেছে অত্যাচার
ততোবার কাঁধে কাঁধ রেখে কাদা মাটি দেহে হয়েছে প্রতিবাদী সোচ্চার,
মেরেছে-মরেছে হাজার বার শুধু সময় পায়নি শৃঙ্খল ভাঙ্গবার
তারা মেঘের গর্জনে কান পেতে ছিল মহান নেতার বাণী শুনবার।

যাঁর অপেক্ষায় কালে-মহাকালে সূর্যকে ডেকে ডেকে পুড়েছে পিঠ
আঁধার সরিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রহর কাটিয়ে ঝলসে গেছে মুখ,
তবু আশার মিনার ভাঙেনি আমাদের মৃত্তিকার পূর্ব পুরুষ সকল
প্রতিজ্ঞার দেয়ালী জ্বালিয়ে রেখেছে বুকে প্রতিনিয়ত বার বার।

ফিরিঙ্গি-বর্গীতে যতোবার পরিয়েছে অত্যাচারীর শৃংখল
ততোবার সংগ্রামে বিদ্রোহ বিপ্লবে আকাশ ফাটিয়ে দিয়েছে হুংকার,
বার বার ঈশা খাঁ, তিতুমীর, সূর্যসেন, সুভাষ বসু আরো কত প্রিয়
বীর বাঙালি মহান মানুষেরা সংগ্রামের গান্ডিবে উড়িয়েছে প্রাণ।

গ্রীষ্মে বর্ষায় মাঠের পরতে মিলিয়েছে আপন মায়ায় স্নেহ
শরৎ হেমন্তে শীত বসন্তে সুখের স্রোতে ভাসিয়ে শরীর
বধূতে কন্যায় পুত্রে পিতায় গানের লহরিতে মিলেছে এক ছায়ায়
পিঠায় পুলিতে মিঠাই-রসেতে আনন্দে মেতেছে সারা গ্রাম।

এই মেঘনা পদ্মা যমুনা ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে পলি মাটির সোঁদা গন্ধে
লাঙ্গলে জোয়ালে ছেনিতে কুরালে সুর তুলে, গো-ধন বাথানে
শ্রমে-রক্তে-ঘামে রাত-দিন ভাসিয়ে শরীর সবুজের মমতায়
সোনার ফসলে গোলার পরাণে প্রতিবার মেখেছে বুকের প্রেম।

তারপর জোসনার প্লাবনে মহুয়া প্রেমে রাতের শ্রাবণে
জারিতে সারিতে ভাটিয়ালী পূবালী সঙ্গীতে-গীতে
মায়ার উঠোন বাটিক ভাসিয়ে ভালোবাসায় আমৃত্যু স্বপ্নে
পূর্ণিমা অথবা তমাল রাত কাটিয়েছে অবারিত আনন্দ স্রোতে।

ধানে দুব্বায় তিল তিসিতে ফুলে হলুদে গাঙের জলে
বধূ বরণের নৃত্যে হল্লায় খুশির ঢেউ খেলেছে পাড়া-মহল্লায়
নতুন বছরে বাহারি মেলায় নানান খেলায় মাতিয়েছে সারা গ্রাম
মাটির পুতুলে রঙিন ছিকায় বাহারি বেলুনে সাজিয়েছে জীবন।

আহা মানুষ! আহা প্রেম! বাঙালি বাঙালির জীবনে শুধুই ছিল হেম
নদ-নদীতে খালে-বিলে নয়ালী মাছেদের বাহারী উৎসব,
মাঠে দিগন্তে বনে জঙ্গলে পাখ পাখালীর অপূর্ব গীতে
সুরে সুরে ছিলো মায়াবী দোলায় জীবন মধুতে গাঁথা।

আমাদের এই প্রিয় মৃত্তিকায় প্রিয় বাংলার পূর্বপুরুষেরা
এইভাবে সুখে-দুখে মমতা মায়ায় সংগ্রামে-বিপ্লবে
কাটিয়ে হাজার বছর, ফিরে পেলেন একজন মহান পূর্বপুরুষ
যার প্রাণের ভালোবাসা যার অগ্নিবৃষ্টির হুংকারে হুংকারে…

ভেঙে গেলো সকল শাসক শোষকের লোহার শৃংখল-কপাট
লক্ষ লক্ষ রক্ত নদী পাড়ি দিয়ে প্রিয় গোলাপের কান্নার অশ্রুতে
উঠে এলো একদিন মৃত্তিকার রক্ত মাখা পূর্বপুরুষের মহান পতাকা
স্বাধীন সত্তার চির জয়গানের পৃথিবী শোভিত প্রিয় মানচিত্র আমার।

সোনালী বেতের গোলা

যে ভাবে দাহন মূর্তিমান হয়ে সাজাও নিজেকে
গোটা ভিটে মাটি খাক হয়ে যায় পুড়ে,
এতো জলের প্রক্ষেপনে ভিতর বাহির ভিজাই
বিন্দু মুহূর্ত হলেও থামাতে পারো নিজেকে।

ঘূর্ণায়মান বৃত্তের বলয় ভেঙে যেতে চাই
অদৃশ্য দূরের পাওয়া না পাওয়ার কাছে,
একটি নগর চিত্রের এলবামের মলাট খুলে
দাঁড়াবো স্বপ্ন স্তম্ভের পাদদেশ স্পর্শ করে।

খুব র্নিদ্বিধায় তার কাছে ক্ষমা চাইতে পারি
বুকের পাকা শস্যদানার বিশুদ্ধ কসমে,
যদি শরত মাঠের মতো অভিবাদন জানায়
অনায়াসে বিলিয়ে দেয়া যায় এক মৌসুম ফসল।

ক্যালেন্ডার থেকে যে দিনটি হয় উড়াল ডানা
তাকে সময় সমুদ্রে খুঁজে ফেরা শুধুই অহংকার,
তার চেয়ে এসো সোনালি বেতের বুনি গোলা
নিশ্চিত আমাদের রক্ত-ঘাম মিথ্যে হবে না জানি।

ডাকবো নতুন মুদ্রায়

কেউ কি গেয়েছে হৃদয় স্রোতের গান
হয়তো শুনিনি তার মোহময় সুর,
অক্ষম নই তবু ব্যর্থতার শিলায় বিদ্ধ
শুধুই ভেসে বেড়ানো মেঘের পাহাড়ে।

যে গায় তাকে হয়তো বুঝিনি কিছুই
হয়তো বুঝেও পিঠ ফিরিয়েছি বিবরে,
ভোরের রোদ্দুর মেখে নেমে যাই মাঠে
রাত্রির অরূপ অন্ধকারে ঢেকে রাখি মুখ।

কি করে তার গানের মিনতি-পুষ্প সাজাই
প্রতি বাঁকে প্রতিশ্রুতির বাতি নিভে যায়,
প্রতিবার সমুদ্রের ঠিকানা ভুল হয় জানি
বিউগলে অন্তরায় থেমে থেমে কেঁদে ওঠে।

ফের মুখ ভাসাও অন্তর সুরের নদীতে
সাধ্যের অধিক খুঁড়ে যাবো প্রাচীন জমিন,
আদিম সভ্যতা পেয়ে ডাকবো নতুন মুদ্রায়
আজন্ম কাব্যের উঠোনে নামবে প্রিয় পাখি।

ও পাখি ও প্রিয় পাখি

ও পাখি ও প্রিয় পাখি
আমার নিজস্ব একটি বৃক্ষ আছে
তোমাকে বাসা বাঁধবার দেবো ঠাঁই,
ও পাখি আমার প্রিয় ভূমি আছে
যেখানে আমৃত্যু স্বপ্ন দেখি
যা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।

ও পাখি ও প্রিয় পাখি
জাতিস্মরের স্বপ্ন ছিল,
একটি প্রিয় উঠোন
একটি প্রিয় বাগান।

ও পাখি ও প্রিয় পাখি
তোমাকে একটি মুক্ত আকাশ দেবো
অন্য কিছু দেবার সাধ্য নেই,
আকাশের সাথে আমার খুবই সখ্য
প্রতিরাত ওর সাথে হৃদয় মিলিয়ে দেখি
যেন হুবুহু একাকার হয়ে যায়।

ও পাখি ও প্রিয় পাখি
তুমি আমার হৃদয় মেঘ-বৃক্ষে
অনায়াসে বসে যেতে পারো,
খড় বিচালী ঠোঁটে এনে
বাঁধতে পারো আপন শুদ্ধ নীড়।

Mahmud Al Mamun

Mahmud Al Mamun

মাহমুদ আল মামুন
জন্ম: ২৭/০২/১৯৫৭ ইং সিরাজগঞ্জ (পিতার কর্মস্থল) 
বসবাস: কবিতা কুটির, ২৭৫, গলগন্ডা স্কুল রোড, খলিফা বাড়ি, ময়মনসিংহ-২২০০। 
লেখালেখির সময়	: ৭০ দশকের মাঝামাঝি 
প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য - জোসনা নেই বৃক্ষ নেই, যে ছবি মানচিত্র সমান, কেমন আছো প্রণয় বিকেল, নীলখাম বাতিঘর, বনভোজন ও জয়নুলের কাক, ধুলিতে পাখির পা, পিতা তোমার রক্তের ইতিহাস, মৃত্তিকা ও পূর্বপুরুষ, সভ্যতার কানে কানে ও সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ, কাব্য ডিঙা-১, ২, ৩, ৪।
প্রকাশিতব্য কবিতাগ্রন্থ - কবি ও কবিতার দেশ
সম্পাদনা- কোরক সাহিত্য পত্র, বদ্বীপ সাহিত্য পত্র ও কাব্যডিঙা যৌথ কাব্যগ্রন্থ।
প্রাপ্ত পুরষ্কার - আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশন সম্মাননা-২০০০, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী সাহিত্য পদক-২০১২, সিরাজগঞ্জ, মহীয়সী সাহিত্য পদক-২০১৪, পাবনা, শ্রেষ্ঠ কবি সাহিত্য পদক-২০১৫, পাবনা, গাংচিল সাহিত্য পদক-২০১৫, রাজশাহী, অগ্নীবীণা সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ পদক-২০১৬, ঢাকা, পল্লী কবি জসীম উদ্দীন পদক, বগুড়া-২০১৭।	
মোবাইল - ০১৯১১-৬১৭৮৬০

One thought on “যে ছবি মানচিত্র সমান

  • Avatar
    April 6, 2021 at 1:20 pm
    Permalink

    “যে ছবি মানচিত্র সমান” অসাধারণ কাব্য, মামুন ভাই। জাতি অবশ্যই আপনাকে একদিন অনেক বড় সম্মানে ভূষিত করবে, ইন-শা-আল্লাহ। আপনাকে নিরন্তর অভিনন্দন ও অজস্র শুভকামনা জানাই।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *