যায়নবাদ: যে চক্রান্তের মুখোমুখি গইম

আজকে ইহুদিচক্রান্ত সম্পর্কে বলবো। আপনি চমকে উঠবেন। আপনার গায়ের সমস্ত লোম আলিফের মতো সোজা হয়ে যাবে। বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন, তাহলে শুরু করি! প্রথমেই উদ্ধৃতি টানছি ‘প্রটোকল’ থেকে- “গইম সমাজ সদাসর্বদা তাদের সংকীর্ণ চিন্তাধারাকে পরিতুষ্ট করাই যথেষ্ট মনে করে। অথচ এ নির্বোধের দল একথাও জানে না যে, তাদের এ চিন্তাধারাটুকুও তাদের নিজস্ব নয়। এটাও আমরাই তাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছি। “

“গইম সমাজের ধ্বংস সাধনের কাজ পরিপূর্ণ মাত্রায় পৌঁছার জন্য আমরা ফটকা বাজারীর সহকারি হিসেবে বিলাসিতা আমদানি করছি। বর্তমানে বিলাসী জীবন যাপনের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা গইম সমাজকে ক্রমেই গ্রাস করে চলছে। “

“গইম সমাজে এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির এবং এক জাতিকে অপর জাতির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছি। গত বিশ শতাব্দী জুড়ে এদের মধ্যে ধর্মীয় ও অন্যান্য ধরণের বিদ্বেষ ছড়িয়েছি। এজন্যই আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করার সময় একটি রাষ্ট্রও অপর কোনো রাষ্ট্রের সহযোগিতা আশা করতে পারে না।”

এবার স্বাভাবিক প্রশ্ন, ‘গইম’ কারা? ‘প্রটোকল’ সেটা আবার কী?

গইম মানে, ইহুদি ব্যতীত পৃথিবীতে যত জাতি বাস করে, সবাই গইম। আরো সহজ করে বললে, নন-ইহুদিকে গইম বলা হয়। এখন আসি প্রটোকলে। এটি একটি চক্রান্ত-গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত নাম। পুরো নাম- Protocol of the learned elders of zion. বাংলায় বলতে পারেন, বিজ্ঞ ইহুদি মুরব্বিদের কায়দাকানুন।

এ গ্রন্থের মূলবক্তব্য হচ্ছে –
(১) ধর্মের প্রতি যুবসমাজকে ভীতশ্রদ্ধ করে তোলা এবং ধর্মনেতাদের বিদ্রুপের পাত্রে রূপান্তর করা।
(২) শরাব জুয়া সিনেমা ইত্যাদির নেশায় যুবকদেরকে উন্মাদ করে তোলা এবং নাইটক্লাব ও সোসাইটি-লেডিদের মাধ্যমে নৈতিক উচ্ছৃঙ্খলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা।
(৩) পুঁজিবাদী অর্থনীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করা এবং শ্রমিক আন্দোলনের নামে সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করা।
(৪) একনায়কত্ববাদী শাসনের মাধ্যমে জনগণ ও সরকারের পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা।
(৫) মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে পারস্পারিক সন্দেহ ও শত্রুতা সৃষ্টি করে তাদেরকে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে লিপ্ত করা।

এ ছাড়াও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গইমদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করা এবং যায়নবাদকে পৃথিবীব্যাপী প্রতিষ্ঠা দেয়া।
ধারাবাহিকভাবে বিষয়গুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করবো। তার আগে প্রটোকল নিয়ে আরো কিছু কথা বলি।
প্রটোকল ইহুদিদের সেই সম্পদ, সাধারণ লোকতো পরের ব্যাপার, অনেক উচ্চপদস্থ মন্ত্রীও প্রটোকল সম্পর্কে জানে না। জানে কেবল গুটিকয়েক ইহুদি। যারা বিশ্বস্ততার অগ্নিপরীক্ষায় চরম সফল। আমানতদারীতার স্বচ্ছ জলে বিধৌত।

তবে এ বইটা সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর সামনে হাজির করেছেন একজন গোঁড়া রুশীয় পাদ্রী। যার নাম প্রফেসর সারকিল এ নাইলাস। ১৯০৫ সালে নাইলাস এ বইটি প্রকাশ করেন। বইটির ভূমিকায় তিনি লিখেন, ইহুদি ফ্রিম্যাসন ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রস্থল ফ্রান্সের একটি ফ্রিম্যাসন লজ থেকে একজন মহিলা মূল বইটি (সম্ভবত হিব্রুতে লেখা) চুরি করেছিলেন এবং তাকে উপহার দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে, এ ঘটনার পর থেকে কোনো মহিলাকেই ফ্রিম্যাসন আন্দোলনের সদস্য করা হয় না এবং সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে মহিলাদের ফ্রিম্যাসন লজে যাবার অনুমতি দিলেও বৈঠকাদির সময় এদেরকে বের করে দেয়া হয়। অতএব বুঝতেই পারছেন বইটির গুরুত্ব কতটুকু! এবার আসুন, দেখি বইটাতে কী আছে এবং সমাজে এর প্রভাব কতটুকু?

সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভি রহ. তাঁর ‘মা-যা খাসিরা’তে অতি সংক্ষেপে ইহুদিদের যে পরিচয় তুলে ধরেছেন তা এখানে উল্লেখের দাবির রাখে। তিনি জানান, “পৃথিবীর অন্যান্য জাতির মাঝে ইহুদিদের নিজস্ব ঐতিহাসিক ধারা এই ছিলো যে, একদিকে তারা দীর্ঘ দাসত্বের লাঞ্ছনা ভোগ করেছে, অন্যদিকে জাত্যাভিমান, বংশগৌরব, সম্পদলিপ্সা ও সুদখোরিতা এগুলো তাদের মধ্যে অদ্ভুত কিছু জাতীয় স্বভাব ও চরিত্র এবং ঝোঁক ও প্রবণতা সৃষ্টি করেছে এবং এগুলো ছিলো জাতিবর্গের মধ্যে তাদের একক বৈশিষ্ট্য। দুর্বলতা ও পরাজয়কালে আত্মসমর্পণ ও পদলেহন আর শক্তি ও বিজয়ের সময় নীচতা ও নিষ্ঠুরতা। তদ্রুপ কপটতা, প্রতারণা, নির্দয়তা, স্বার্থপরতা ও সম্পদ-আত্মসাৎ এবং সত্যের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা। এগুলো তাদের ছিলো স্বভাবদোষ।”

ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে তাদের অধঃপতনের পর মাতাল পশুর মতো তারা আচরণ করছিল। কোথাও তাদের ঠাঁই হচ্ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইন তাদেরকে আবারো ইস্পাতদৃঢ় একটি জাতিতে পরিণত করে। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়ানো বিক্ষিপ্ত কিছু ইহুদিকে ডেকে সে ভাষণ দিলো। সে ভাষণের মূলকথা হচ্ছে, তোমরা জার্মান, জাপান, ফ্রান্স, আমেরিকা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদেরকে মনে রাখতে হবে, তোমরা ইহুদিজাতি। তোমাদের নিজস্ব ভূ-খণ্ড অতি প্রয়োজন। অতএব কাজ চাই, কাজ। দেরী নয়, কাজে লেগে যাও।
সেই থেকে তারা স্থানের দিক থেকে বিক্ষিপ্ত হলেও একতায় আবদ্ধ। সম্পদের দিক থেকে নিঃস্ব হলেও আত্মবলে অপ্রতিরোধ্য। শ্বেত-কৃষ্ণের ব্যবধান থাকলেও চৈন্তিক দৃষ্টিকোণে অভিন্ন।

আর এই জাতিটাই বর্তমান বিশ্বে সন্ত্রাস ও অশান্তির উনুনে চব্বিশ ঘণ্টা পেট্রোল ঢালছে। আর এই ‘ঢালা’টা নিজেরা সম্পাদন করছে না। করাচ্ছে গইমদের দিয়ে। বিষয়টা পরিষ্কার করি প্রটোকল থেকে। “নেশাগ্রস্থ জানোয়ারের দিকে তাকাও, শরাব পানের ফলে তার মাতাল অবস্থা লক্ষ্য করো। এটাই হচ্ছে তাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করার উপযুক্ত সময়। এভাবে গইমদেরকে মাতাল করে কাজ উদ্ধার করার পথ একমাত্র আমাদেরই জ্ঞাত। এরা তরল পানীয়ের নেশায় বিভোর। এদের যুবসমাজ নৈতিক অধঃপতন ও শ্রেণিবিদ্বেষে বোধশক্তিহীন হয়ে গেছে। এদের এ অবস্থায় ঠেলে দেয়ার জন্য আমাদের এজেন্টগণ ধনীদের গৃহশিক্ষক, উর্দি পরিহিত ভৃত্য ও ধাত্রীরূপে কেরানি ও অপরাপর শ্রেণির কর্মচারীর বেশে কাজ করছে। জনসমাগমস্থলে আমাদের বিশেষ নারী এজেন্টগণও গইমদের নৈতিক চরিত্রের পতন কাজে লিপ্ত রয়েছে। আর নারী এজেন্টদের সাথে গইম সমাজের ঐসব ‘সোসাইটি-গার্ল’ রয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় দুর্নীতি ও বিলাসিতার ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করে চলে। অতি প্রাচীনকালে আমরাই সর্বপ্রথম জনগণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ‘উদারনীতি’, ‘সমানাধিকার’ ও ‘ভ্রাতৃত্ব’র ধোঁয়া তুলেছি। বোকা তোতাপাখির দল এরপর থেকে এ শব্দগুলোকে অসংখ্যবার উচ্চারণ করেছে এবং চারদিক থেকে ছুটে এসে আমাদের এ ফাঁদে ধরা দিয়ে পৃথিবীর সত্যিকার কল্যাণ ও জনগণের প্রকৃত আজাদী হরণ করতে সহায়তা করেছে এবং করছে। এর আগে জনগণের চাপ থেকে আজাদী ও কল্যাণকে বহুযত্নে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিলো। গইম সমাজের ভাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ এসব গুণকে উচ্চারণ করেছে কিন্তু এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতেই পারেনি। তাদের পারস্পারিক সম্পর্ক ও শব্দগুলোর মধ্যে যে গরমিল রয়েছে তাও তারা লক্ষ্য করেনি। তারা দেখতে পারেনি যে, প্রাকৃতিক জগতেই সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত নয় এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই আজাদী বলতে কোনোকিছুই নেই। তারা দেখতে পারেনি যে, প্রকৃতিই মন ও চরিত্র এবং কর্মক্ষমতার তারতম্য সৃষ্টি করেছে এবং যেভাবে সে সকলকে প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে নিতে বাধ্য করেছে ঠিক সেভাবেই সামাজিক তারতম্যও মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। এ বুদ্ধিমানের দল মুহূর্তের জন্যও এক জায়গায় থেমে চিন্তা করে দেখেনি যে, জনগোষ্ঠী একটা অন্ধশক্তি এবং যেসব ভূঁইফোড় ব্যক্তি এ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে তারাও ঐ ভোটদাতা জনগণের মতই অন্ধ। তারা এটাও ভেবে দেখেনি যে, অভিজ্ঞ ব্যক্তি নির্বোধ হলেও শাষনকার্য চালাতে পারে; পক্ষান্তরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি প্রতিভাশীল হলেও রাজনীতির ক্ষেত্রে কিছুই বুঝতে পারেনা। পৃথিবীর কোণায় কোণায় ‘উদারনীতি’, ‘সমানাধিকার’ ও ‘ভ্রাতৃত্ব’র বুলি বিপুল জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করেছে। এক বিরাট বাহিনী সোৎসাহে আমাদের ঝাণ্ডা নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। এ সাফল্যের জন্য এজেন্টগণ সত্যই ধন্যবাদার্হ। আমাদের প্রবর্তিত এ শ্লোগানগুলো গইম সমাজের সুখসমৃদ্ধিকে উইপোকার মত খেয়ে চলেছে। সর্বত্র সুখ, শান্তি, সংহতি ও গইম রাষ্ট্রের যাবতীয় সংস্থা ধ্বংস করে চলেছে। “

আমাদের যারা তরুণ তারা যুক্তিতে মুক্তি খোঁজে। জগত-সাফল্যের মুক্তি। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তি প্রশংসার্হ হলেও সবক্ষেত্রে না। সে আলোচনায় যাচ্ছি না। বলছি, তরুণদের এই যুক্তিপ্রিয়তা কোত্থেকে আসে? এই প্রশ্নের উত্তর আমার এবং আপনার জন্য অনেক আগেই জানা উচিত ছিলো। সমাজে প্রচলিত এইযে বিভিন্ন মতবাদ তা কেবল যুক্তির পীঠেই ভর করে চলে। যেমন মার্কসবাদ, লেনিনবাদ, মাওবাদ, প্লেটোবাদ, হেগেলবাদ ইত্যাদি। এই কার্লমার্কস, মাও সে তুং ইত্যাদি বাদস্রষ্টাদের দর্শন অধ্যয়নের পরই আমাদের তরুণরা যুক্তির পেছনে পাগলা ঘোড়ার মত দৌড়াতে থাকে। তারা জানে না, ওসব মতবাদ কাদের আলুমুলা খেয়ে ভৌতিকভাবে শরীর মোটা করেছে। এ জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছে স্বয়ং প্রটোকল।

“গইম সমাজের বুদ্ধিজীবী মহলের মনমগজকে আমাদের মতলবমতো গড়ে তোলা এবং উদ্দেশ্যসিদ্ধির পথে তাদের ব্যবহার করার জন্য আমাদের দালালগোষ্ঠীর বিশেষজ্ঞমহল অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা সহকারে বিশেষ জ্ঞান ও তথ্য পরিবেশন করে চলেছে। আর ঐসব বুদ্ধিমানেরা বিচার-বিশ্লেষণ না করেই আমাদের পরিবেশিত তথ্যগুলোকে কার্যকরী করতে প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। ডারউইনি মতবাদ (theory of evolution) মার্ক্সীয় মতবাদ (Marxism) এবং নাজি মতবাদ (nazism) সাফল্যের জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম তা খুব সাবধানে স্মরণ করে দেখো।”

আপনাকে এটা স্বীকার করতেই হবে যে, বর্তমানে বিশ্বের গতিপ্রকৃতির দেখভাল করছে সুচতুর মিডিয়া। সে যেকোনো মিডিয়াই হোক। কিন্তু এই মিডিয়াকে কারা পরিচালনা করছে? আসুন, এটাও জানি প্রটোকল থেকে। “সংবাদপত্রের প্রথমসারিতে থাকবে সরকারি ধরণের পত্রিকাগুলো। এগুলো যেহেতু সর্বদা আমাদের স্বার্থরক্ষার দায়িত্ব পালন পালন করবে সেহেতু জনমনে এদের প্রভাব থাকবে খুবই কম। দ্বিতীয় সারিতে আধাসরকারি পত্রিকাগুলো থাকবে। এগুলো নির্জীব ও লক্ষ্যহীনদের নিকটে টেনে আনার দায়িত্ব পালন করবে। তৃতীয় সারিতে আমাদের নিজেদের বিরোধিতার জন্য আমাদেরই জারিকৃত পত্রিকাগুলো থাকবে। এসব পত্রিকা বাহ্যত এমন হাবভাব দেখাবে যে, মনে হবে এরা আমাদের ঘোরবিরোধী। আমাদের প্রকৃত বিরোধীমহল এ সংবাদগুলোর ছদ্মাবরণ দেখে অকপটে এদের প্রতি আস্থা স্থাপন করবে এবং তাদের প্রকৃত রূপ আমাদের সামনে তুলে ধরবে।”
বর্তমান সময়ে তাদের হাতে কতটি মিডিয়া রয়েছে বা এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য সন্ধানী পাঠক ‘আমি বিজয়ের সন্তান’ বইটি পাঠ করতে পারেন। তবে মিডিয়াসংক্রান্ত কিছু তথ্য ‘প্রাচ্যবিদদের দাঁতের দাগ’ থেকে না টানলে স্বস্তি মিলছে না।

“ইসলামবিষয়ক সাময়িকী জার্নাল ক্রোড়পত্র ইত্যাদির অধিকাংশই প্রকাশিত হচ্ছে তাদের দ্বারা। ইন্টারনেটে তাদের তৎপরতা বিস্ময় সৃষ্টি করে। কোটি কোটি ওয়েবসাইট চালু করেছে তারা। জনপ্রিয় সার্চইঞ্জিন ‘ইয়াহু’তে ইসলাম লিখে সার্চ দিলে প্রায় দশহাজার কোটিরও অধিক ওয়েবসাইট চলে আসে। গুগলে অবশ্য এ সংখ্যা প্রায় সাতকোটি। এমনিভাবে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা.), কোরআন ইত্যাদি লিখে সার্চ দিলে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট নানারকম তথ্য নিয়ে হাজির হয়। অল্পসংখ্যক ব্যতিক্রম ছাড়া এইসব ওয়েবসাইট ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে পাঠকের মগজ নষ্ট করছে।

প্রতিদিন প্রায় দুইকোটি আশি লক্ষ মানুষ শুধুমাত্র ইন্টারনেটে ইসলাম সম্পর্কে সার্চ করে। প্রিন্টমিডিয়া ও বইপত্রের শরণাপন্ন হচ্ছে কত লক্ষ তার কোনো হিসেব নেই। ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী অমুসলিমরা ইসলামকে জানার জন্য মূলত এইসব মাধ্যমেরই দ্বারস্থ হন। তারা আগ্রহ সহকারে ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু পরিণতিতে কেউ কেউ হতাশা ও বিতৃষ্ণা নিয়ে পড়াশোনা বাদ দেন আর অধিকাংশই ইসলামকে মানবতার জন্য এক আপদ হিসেবে চিন্তা করতে বাধ্য হন। তবে সঠিক তথ্য যাদের ভাগ্যে জুটছে, তারা সবধরণের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ইমানের শামিয়ানা তলে ছুটে আসছেন।”

বাঙালিরা যে দুই সাহিত্য পাঠে সময়কে ক্ষয় করছেন, সে দুটি হচ্ছে বাংলা ও ইংলিশ। এ দুই সাহিত্যের হর্তাকর্তা যারা তারা মিথ্যা দিয়ে মিথ্যার স্তুপ তৈরি করে। অশ্লীলতার চাষাবাদ করে সাহিত্য-জমিনে। আর এই অশ্লীলতা বিচারবুদ্ধিহীন পাঠককে কৌশলে গেলাতে তারা ওস্তাদ। তারা ইসলামকে রুগ্নদেহ হিসেবে উপস্থাপন করতে চারপায়ে খাড়া। তারা বলে, তুমি প্রভুভক্ত না হয়ে কুকুর পুষে নিজেই প্রভু হয়ে যাও। পরকাল বিষয়ক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের সংবাদ কিংবা ভীতিপ্রদর্শনকে তারা পারলৌকিক মুলো বলে প্রকাশ করে। তারা আওড়ায়, আফিম তবুও ভালো, ধর্ম সেতো হেমলক বিষ। তাদের কবিতা হচ্ছে, প্রত্যেক পুরুষ তার পুত্রের দুধভাই। তাদের কবিতার মাধ্যমে মেয়েরা যেভাবে যৌনোন্মদনায় মেতে ওঠে অন্য কোনো পন্থায় সেভাবে মাতে না। এই অবস্থা কেন? উত্তর দিচ্ছে প্রটোকল, “উন্নয়নশীল ও জ্ঞানালোকপ্রাপ্ত হিসেবে যেসব দেশ পরিচিত সেসব দেশে আমরা কতগুলো অর্থহীন, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল সাহিত্য রচনা করেছি। কারণ, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর আমরা এসব সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবো। উচ্চতর মহল থেকে প্রচারিত বক্তৃতা ও পার্টি-প্রোগ্রামের তুলনায় এসব অর্থহীন ও কুরুচিপূর্ণ সাহিত্য প্রাচীন সমাজের প্রতীক হিসেবে প্রকারান্তরে আমাদেরই মহত্ব প্রচার করবে। আমাদের ট্রেনিংপ্রাপ্ত বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ গইম সমাজের নেতৃত্বের আসনে বসে বক্তৃতা, বিবৃতি, স্মারক ও প্রবন্ধাদি দিয়ে জনসাধারণের মনমগজকে আমাদেরই অভীষ্ট পথে পরিচালন করবে।”

ইদানিং দেখা যাচ্ছে কিছু লেকচারার নানা বিষয়ে লেকচারের ঝড় তুলছেন আর বোধজ্ঞানহীন সাধারণ জনতা তাদের লেকচার শুনে শুদ্ধির সীমা অতিক্রম করে অশুদ্ধির অতলান্তে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ঐসব লেকচারার কারা, যারা বিভ্রান্ত করছে সহজসরল মানুষজনকে? ওরা কারা? পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে প্রটোকল, “আমরা সকল দল ও মতের উদ্দেশ্য অনুধাবন করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে চাপিয়ে নেবো এবং তাদের সম্পর্কে বিরূপ প্রচার করার জন্য বক্তাদের মুখে ভাষা তুলে দেবো। আমাদের ঐ বক্তাগণ অবিরাম বক্তৃতা করে শ্রোতাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙে দেবে এবং বাকশক্তির এক অভাবনীয় চিত্র পেশ করবে।”

পাঠক, এ বই’র প্রতিটি বাক্য, শব্দ এবং বর্ণও উদ্ধৃতিতে স্থান পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘত্বের একটি সীমা আমাকে আটকে দিচ্ছে। যদি এভাবে উদ্ধৃতি দিতেই থাকি, দিতেই থাকি শেষ হবে না। শেষ হবার নয়। কারণ, এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে আমরা তাদের হয়ে কাজ করছি না। এই যে আমরা শ্বাস আনা নেয়া করছি সেটাও তারাই পরিচালনা করছে। করবে, যদি আমরা ‘নিদিতে’ই থাকি। আমাদের এ নিদ্রা ত্যাগ করতে হবে। মনে রাখা অতীব প্রয়োজন যে, এ নিদ্রাত্যাগ খুব সহজ নয়। দিগন্তকে ঢেকে ফেলছে যত আবর্জনা তা প্রথমে সরাতে হবে। তারপর শুরু করতে হবে মাটিখনন। অনেক গভীর পর্যন্ত যেতে হবে। যেখানে সত্যের সোনার খনি। যেখানে হিরে মোতি পান্নার সমাহার। সেই খনি আবিষ্কার না করলে আমাদের প্রকৃত স্বরূপকে পৃথিবীর কাছে উদ্ভাসিত করা যাবে না। সেজন্য যদি একটি প্রজন্মের জীবনকে কোরবানি করতে হয়, হোক না। আমাদের ইতিহাসকে অন্ধকারের আলকাতরা দিয়ে ঢেকে ফেলতে শত্রুরা যদি প্রজন্মের পর প্রজন্মকেই সপে দিতে পারলো, তাহলে আমরা আমাদেরই গুপ্তধন বের করে আনতে কেন পারবো না একটি প্রজন্মকে নবতর এক জিহাদের ময়দানে পাঠিয়ে দিতে? নিশ্চয় পারা উচিত।

কেননা, আমরা বাঁচতে চাই। পরাজিত হতে হতে এবং মার খেতে খেতে এবার চাই জীবনের জন্য ঘুরে দাঁড়াতে। তাই এখন সেইসব চক্ষুষ্মাণ তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে, যাদের কলমের নূরে দুনিয়ার মানুষ দেখবে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত যায়নবাদ নামক ভুলদেবতার অন্তঃসারশূন্যতা। মানুষ জানবে ইসলামের বিরুদ্ধে তার রণহুংকারের অসারতা ও মদিনার ইসলামের জীবনীশক্তি।

যায়নিস্ট ও তাদের গোলামদের রচনাবলী স্তুপস্তুপ মেঘের মত ভেসে বেড়াচেছ। তাদের প্রচারণার ফুৎকার বিষ ছড়াচ্ছে চারদিকে। এর স্বার্থক মোকাবেলার জন্য প্রতিটি পথ ধরে আলোর বাহনে চড়ে এগিয়ে আসতে সত্যের সৈনিকদের। প্রচারের মোকাবেলায় প্রচার। যুক্তির মোকাবেলায় যুক্তি। বিভ্রান্তির মোকাবেলায় অভ্রান্ত প্রত্যাঘাত। এই হোক ওহিভিত্তিক জীবন দর্শনে সমর্পিত লড়াকুদের জিহাদ। এই জিহাদ যখন ঘূর্ণিঝড়ের মত মিথ্যার আস্তানায় হানা দেবে, তখন খড়কুটোর মত উড়ে যাবে অন্ধকারের আস্তরণ। ফকফকা রোদের মত হেসে উঠবে ইসলামের শাশ্বত বিজয়। বিদ্বেষ ও বিষাক্ত মিথ্যাচারে বিব্রত মানবতা সেই বিজয়ের প্রতীক্ষায় চাতকের মত অধীর হয়ে আছে।
.
সহায়তা :-
(১) বিজ্ঞ ইহুদি মুরব্বিদের কায়দাকানুন [প্রটোকল ]
(২) তৃতীয় সহস্রাব্দের কিয়ামত
(৩) প্রাচ্যবিদদের দাঁতের দাগ
(৪) আমি বিজয়ের সন্তান
(৫) ইহুদি-চক্রান্ত
(৬) মা-যা খাসিরা…
(৭) ইন্টারনেট [উইকিপিডিয়া]

আলী আহমদ

জন্ম: ০৮ ডিসেম্বর ১৯৯৪
পেশা: শিক্ষকতা
সম্পাদনা: স্বপ্নস্বর, আলোকম্যাগ

প্রকাশিত গ্রন্থ: 
রক্তরোদন (কবিতা), 
অদৃশ্যের দৃশ্যায়ন (গবেষণা)
ইমেইল: alihafij3@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: