মুক্তাগাছার জমিদারি ও শশী লজ

ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে ৯ একর জমির উপর একটি অসাধারণ দ্বিতল ভবন উঠে। শহর আলোকিত করে উঠা দ্বিতল ভবনটির সুখ্যাতি তখনো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েনি। দৃষ্টিনন্দন অনন্য সুন্দর এই ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। যিনি মহারাজা সূর্যকান্ত নামে পরিচিত। মহারাজা সূর্যকান্তের বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি বিখ্যাত মুক্তাগাছা জমিদারির প্রতাপশালী জমিদার। সখ করে নিঃসন্তান সূর্যকান্ত তার দত্তক পুত্র (ভাই পুত্র) শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামে এই ভবনের নাম রাখলেন শশী লজ। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। অনেকটা মুক্তাগাছার জমিদারদের নিয়তির মতোই। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হলো রাজপ্রাসাদ তুল্য ভবনটি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে অত্যন্ত ব্যথিত হন সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। এরপর তিনি আর নতুন করে প্রাসাদের ব্যাপারে উদ্যোগী হননি।

সূর্যকান্তের উত্তরসূরী পরবর্তী জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী। তিনি ১৯০৫ সালে ঠিক একই স্থানে নতুন করে নির্মাণ করেন বর্তমান ভবন । নতুন সাজসজ্জ্বায় রাঙিয়ে তুলেন ভবনটি। ১৯১১ সালে শশী লজের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনি সম্পন্ন করেন আরও কিছু সংস্কারকাজ। এতে শশী লজ হয়ে ওঠে অপরূপ অনিন্দ্যসুন্দর এক প্রাসাদ। সেই থেকে নবীন জমিদারের প্রিয় স্থান হয়ে ওঠে প্রাসাদটি। কিন্তু ঠিক তখনো এই প্রাসাদটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের সব মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেনি। আরো এক স্রষ্টার হাত ধরে শুধু ময়মনসিংহ নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এই প্রাসাদটির সৌন্দর্য খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি হচ্ছেন এই জনপদের মানুষ, কথার জাদুকর নান্দনিক নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদ। তার লেখা ও নওয়াজীশ আলী খান পরিচালিত বিটিবিতে প্রচারিত বিখ্যাত ধারাবাহিক নাটক ‘অয়োময়’ এর দৃশ্যগুলো এখানেই ধারণ করা হয়েছিল। নাটকে এটিই ছিল জমিদারের বাড়ি। এই নাটক প্রচারের পর থেকেই এটি স্থানীয়দের কাছে ‘জমিদারবাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে অবশ্য রাখাল বন্ধু (২০০৩) নামে আরেকটি ধারাবাহিক নাটকের শ্যুটিংও এই ভবনেই হয়েছিল। এরপর হতে শুধু ময়মনসিংহ অঞ্চল নয়, বরং ভ্রমণপ্রিয় প্রতিটি মানুষ ময়মনসিংহ এলে একবার হলেও ঘুরে যায় শশী লজ। অনেকে শুধুমাত্র শশী লজ দেখতেই ছুটে আসেন সুদূর কোন স্থান হতে। ছুটি ছাটাতে সৌন্দর্যপ্রিয় দর্শনার্থীদের প্রিয় স্থান এই শশী লজ।

শশী লজের ভেতর বাহির

শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার পাশে অবস্থিত শশী লজ। বিভাগীয় কমিশনারের অফিসের বিপরীতে প্রবেশ দ্বার। যে কেউ এখানে আসলেই বিশাল প্রবেশ দ্বার স্বাগত জানায় দর্শনার্থীকে। ভেতরে ঢুকতেই অবাক করে সুরম্য এক অট্টালিকা। সদ্য মহানগরে পরিচিতি পাওয়া ব্যস্ততম শহরে এতো বিশাল জায়গা নিয়ে একটি রাজকীয় প্রাসাদ কল্পনাই করা যায় না। তাও আবার জমিদারদের স্মৃতি ঘেরা মনোমুগ্ধকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভিন্ন এক আবেশ মুহুর্তেই ঘিরে ধরবে যে কাউকে। প্রাসাদটি লালচে হলুদ রঙা ইট দিয়ে গাঁথা ১৬টি গম্বুজবিশিষ্ট একটি দোতলা বাড়ি। গম্বুজগুলো মূল ফটকের কাছেই। বাড়ির উঠান জুড়ে রয়েছে নান্দনিক এক বাগান। বাড়িটির ভেতরের প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছে ছাদ থেকে ঝুলন্ত, প্রায় একই রকম দেখতে বেশ কয়েকটি ঝাড়বাতি। যা এখনো জমিদারদের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। দ্বিতল ভবনে প্রবেশের জন্য রয়েছে বিশাল সিঁড়ি। জানা যায়, এই সিঁড়িতে বিশেষ বাদ্যের ব্যবস্থা ছিল। সিঁড়িতে কোন মানুষ চলাচল করলেই সুমধুর বাজনা বাজতো। কিংবদন্তি আছে, প্যারিস থেকে মহারাজা এক লক্ষ (মতান্তরে তিন লক্ষ) টাকা ব্যয়ে স্ফটিক সঙ্গীত বাক্সটি (মিউজিক্যাল স্টেয়ারবক্স) কিনে এনেছিলেন। এই স্টেয়ারবক্সে পা রাখলেই বাজতো সংগীত। কিন্তু ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে এটি ভেঙে খান খান হয়ে যায়। মহারাজা এতে খুব কষ্ট পেলেন, বিশেষ করে ওই সংগীত সোপানটির জন্য।

সাধারণ বাসভবন ছাড়াও বাড়িটিতে আছে নাচঘর ও স্নানঘর। স্নানঘরে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ পথ। সেই সুড়ঙ্গ নিয়েও রয়েছে এক কিংবদন্তি। অনেকে বলে থাকেন এই সুড়ঙ্গপথে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরবর্তী মুক্তাগাছা যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তার কারণ মুক্তাগাছার মূল জমিদার বাড়িতেও একইরকম একটি সুড়ঙ্গপথ রয়েছে।

মানুষের ভাবনা, জমিদার শশীকান্ত নিরাপত্তার জন্যই এই পথে যাতায়াত করতেন এক প্রাসাদ হতে অন্য প্রাসাদে। কিন্তু এই কিংবদন্তি কতোটা সত্য তা আজও জানা যায়নি। মূল ভবনের পেছন ভাগে রয়েছে আরো একটি স্নানঘর। পেছনের স্নানঘরটি দোতলা। জানা যায়, এই স্নানঘরে বসে জমিদার স্ত্রী পাশের পুকুরে হাঁস ও মাছের খেলা দেখতেন। দেখতেন পুকুরটির অপরূপ শোভা। পুকুরে রয়েছে মার্বেল পাথরে বাঁধানো একটি ঘাট, যা অত্যন্ত নান্দনিক এক দৃশ্যের অবতারণা করেছে।

শশীলজের মূল ভবনের সামনে রয়েছে একটি বাগান। সেই বাগানের মাঝখানে আছে শ্বেতপাথরের ফোয়ারা, যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে গ্রিক দেবী ভেনাসের স্বল্পবসনা স্নানরতা মর্মর মূর্তি। এটিই শশীলজের মূল আকর্ষণ। রাজপ্রাসাদে মনে দাগ কাটার মতো একটি স্থাপনা। ভাস্কর্যটি পুরো প্রাসাদটিতে ঝমকালো আমেজ এনেছে। ব্রিটিশ শাসনামলের সেসময় সৌখিন রাজা ওই নান্দনিক ভাস্কর্যটি ইটালি থেকে গড়িয়ে এনেছিলেন। রোমান পুরাণের দেবী ভেনাস। গ্রিক পুরাণে ভেনাসের সমতুল্য দেবী আফ্রোদিতি। গ্রিক পুরাণের আফ্রোদিতির মতো দেবী ভেনাসকে কিউপিডের মাতা হিসেবে জানা হয়। ইতিহাসের অমর স্মারক মাতৃসমা, প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভেনাস এই বাংলায় যেন জানান দিচ্ছে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ শিল্পমন ও মার্জিত রুচিবোধের।

বাগানের ঠিক পেছনেই লালচে ইট আর হলুদ দেয়ালে নির্মিত শশী লজ। এর পাশেই রয়েছে পদ্মবাগান। এই ভবনের পূর্বপ্রান্তের ঘরটি বর্তমানে ব্যবহৃত হয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কার্যালয় হিসেবে। শশী লজের অন্দরের বারান্দা অতিক্রম করে কয়েক ধাপ সিঁড়ি পেরোলেই রঙ্গালয়। সুদৃশ্য সেই রঙ্গালয়ের এক প্রান্তে রয়েছে বিশ্রামঘর। বিশ্রামঘরের পর কাঠের মেঝেযুক্ত হলঘর। হলঘরের পাশেই বর্ণিল মার্বেল পাথরে নির্মিত আরেকটি জলফোয়ারা। জলফোয়ারার ঠিক ওপরের ছাদ থেকে নিচে ঝোলানো স্ফটিকস্বচ্ছ কাচের ঝাড়বাতি। এতো আয়োজন এবং স্থাপত্যে আভিজাত্যের ছোঁয়া মহারাজা শশীকান্তের রুচির পরিচায়ক। এতেই বুঝা যায় কতোটা দরদে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর করে ভবনটি নির্মাণ করেছেন। এতো আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থায় মুক্তাগাছার জমিদারির শান-সৌকত চোখে পড়ে।

রাজমহলেও থাকে ব্যথা, আভিজাত্যেও থাকে কষ্ট

মুক্তাগাছার জমিদারির শান-সৌকত-ঐশ্বর্যের আড়ালে থাকা মর্মন্তুদ ব্যথা, ধরা পড়ে না খোলা চোখে। শশীলজের প্রতিটি ইট-বালি-সুরকি মুক্তাগাছার জমিদারদের প্রতাপের কথা বললেও তার আড়ালে থাকা দুঃখের কথা জানে ইতিহাস। জানা যায়, মুক্তাগাছার জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর তৃতীয় উত্তরপুরুষ রঘুনন্দন আচার্য চৌধুরী। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। বিশাল সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখবালের জন্য তখনো পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের বিকল্প ছিলো না। একারণে সম্পত্তি রক্ষায় একটি সামর্থ্যবান পুত্রসন্তান তার ভীষণভাবে প্রয়োজন। এ কারণেই তিনি দত্তক পুত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন। দত্তক নিলেন গৌরীকান্ত আচার্য চৌধুরীকে। মৃত্যুর পূর্বে দত্তক পুত্রের হাতে জমিদারির ভার অর্পণ করে নির্ভার হলেন রঘুনন্দন। এরপরের কাহিনী আরো করুণ। রঘুনন্দনের নিয়তি ভর করলো নতুন জমিদার গৌরীকান্ত আচার্য চৌধুরীকে। নিঃসন্তান অবস্থায় অকালপ্রয়াণ ঘটলো তাঁর। উত্তরাধিকার রক্ষায় গৌরীকান্তের বিধবা স্ত্রী বিমলা দেবী দত্তক নিলেন কাশীকান্তকে। কাশীকান্তের কপালও মন্দ ছিল ভীষণ। দীর্ঘ রোগযন্ত্রণায় ভুগে সন্তানহীন অবস্থায় পরলোকগমন করলেন তিনিও। তাঁর বিধবা স্ত্রী লক্ষ্মী দেবী আচার্য চৌধুরানী পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করে দত্তক নিলেন চন্দ্রকান্তকে। ভাগ্যের বিরুদ্ধাচরণে চন্দ্রকান্তও অতিদ্রুত ত্যাগ করলেন পৃথিবীর মায়া। তবে হাল ছাড়লেন না লক্ষ্মী দেবী। পুনরায় দত্তক নিলেন তিনি। দ্বিতীয় দত্তক পুত্রের পূর্বনাম পূর্ণচন্দ্র মজুমদার।

কুলগুরুর সামনে মহাসমারোহে লক্ষ্মী দেবী নতুন নাম রাখলেন সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সূর্যকান্ত চৌধুরীও ছিলেন নিঃসন্তান। পরে তিনি শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীকে দত্তক নেন। সম্পর্কে শশীকান্ত ছিলো তার ভাতিজা। আদরের শশীকান্তের নামেই তৈরি করেন শশী লজ। যা আজও সেই ইতিহাস স্মরণ করায়।

মুক্তাগাছার জমিদারদের মধ্যে সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর শাসনামলে ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী জনপদ প্রাণে ফিরে পায়। তিনি প্রায় ৪১ বছর জমিদারি পরিচালনা করেন। সম্পাদন করে বহু জনহিতকর কাজ। ময়মনসিংহে স্থাপন করলেন একাধিক নান্দনিক স্থাপনা। তারমধ্যে শশীলজের কাছেই বর্তমান টিটিসির গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত আলেকজান্ডার ক্যাসল অন্যতম। এটি ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার প্রতিষ্ঠা শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মহারাজা সুর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাসাদটি নির্মিত হয়। এতে সে সময় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। নির্মাণের পর নানা রাজকীয় আসবাবে ভবনটি সুসজ্জিত করা হয়েছিল। ভবন চত্বরে রয়েছে দীঘি ও বাগান। ভবন নির্মাণে লোহার ব্যবহারের কারণে এটি জনসাধারণ্যে ‘লোহার কুঠি’ নামেও পরিচিত ছিল। আলেকজান্ডার ক্যাসল ময়মনসিংহ শহরের প্রাচীন স্থাপনাসম‚হের মধ্যে অন্যতম। শহরের কেন্দ্রস্থলে কোর্ট-কাঁচারীর কাছে এটির অবস্থান। বহু বরেণ্য ব্যক্তি এই প্রাসাদে রাত কাটিয়েছেন। জানা যায়, ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহ সফরকালে আলেকজান্ডার ক্যাসলে চার দিন অবস্থান করেছিলেন। একই বছর মহাত্মা গান্ধীও এখানে এসেছিলেন। এখানে আরো পদার্পণ করেছিলেন লর্ড কার্জন, চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা, মৌলভী ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু প্রমুখ। তাদের আমন্ত্রণ ও আপ্যায়নের ত্রুটি করেননি তৎকালীন জমিদার শশী কান্ত। সেসব এখন অতীত।

শশী লজের অবস্থান

শহরের কেন্দ্রস্থল, ব্রহ্মপুত্র নদের অদূরে এই রাজবাড়ির অবস্থান। এক পাশে উদীচী ভবন, আরেক পাশে পৌর ভবন। সামনে রয়েছে ব্যস্ততম ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা সড়ক। রাস্তার ওপাশে আদালত ভবন, ল্যাবরেটরি স্কুল, জেলা পরিষদ। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভবনটির ঠিক উল্টো দিকে। এটি ১৯৫২ সাল থেকে মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল জাদুঘর স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তর শশী লজটি অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে একপাশে প্রাচীর ঘরে মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাদের কার্যক্রম চালালেও প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তর শশী লজের দেখাশোনার দায়িত্বে আছে।

সেই জমিদারি নেই, নেই জমিদারদের হাতি-ঘোড়া পাইক-পেয়াদা। তবে শশী লজের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পুকুর ঘেষে রয়ে গেছে হাতির খাবার হিসেবে পরিচিত বিপন্নপ্রায় বৃক্ষ নাগলিঙ্গম। এর বিশাল আকারের ফলগুলো যখন ঝুলে থাকে গাছে, তখন যেন স্মৃতির কোণে ফিরে আসে পুরাতন সেই জমিদার বাড়ির চেহারা। শশী লজের আশেপাশে রয়েছে বেশকিছু দুষ্প্রাপ্য ও প্রাচীন গাছগাছালি। আর আছে একদা জমিদারদের প্রিয় পদ্মবাগান।

ঢাকা থেকে যেভাবে আসবেন

ঢাকা থেকে এনা, আলম এশিয়া, শামীম এন্টারপ্রাইজ, শৌখিন কিংবা নিরাপদ পরিবহনসহ আন্তঃজেলা বাসগুলোতে চড়ে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় ময়মনসিংহ আসতে পারবেন। সময় লাগবে বড় জোর আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। মাসকান্দা বাসস্যান্ড কিংবা ব্রীজে নেমে অটো অথবা রিক্সায় চড়ে ঘুরতে পারবেন শশী লজ। ভাড়া লাগবে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। আসতে পারবেন যে কোন আন্তঃনগর কিংবা কমিউটার ট্রেনে। ভাড়া লাগতে পারে ১২০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত। স্টেশনে নেমে অটোতে ১০ টাকা, রিক্সায় ২০টাকায় আসতে পারবেন শশী লজ। শশী লজ ঘুরতে চাইলে সাথে রাখতে পারেন আলেকজান্ডার ক্যাসেল, জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ও পার্ক, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলভার ক্যাসল। একটু বেশি সময় নিয়ে আসলে ঘুরে যেতে পারেন মুক্তাগাছার জমিদার বাড়ি। খেয়ে যেতে পারেন দেশ বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছার মন্ডা।

থাকা ও খাওয়া

শহরে অনেকগুলো আবাসিক হোটেল রয়েছে। পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন যেকোনটি। খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রেও খাটে একই কথা। রুচি অনুযায়ী খেতে পারেন যে কোন দেশি, চাইনিজ কিংবা ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে।

লেখক- কলেজ শিক্ষক (বাংলা)

শাহীন তাজ

শাহীন তাজ

জন্ম ২ জানুয়ারি, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ। 
পেশায় কলেজ শিক্ষক। 
আগ্রহ কবিতা, গান, ছড়া ও কথা সাহিত্য। 

ওয়েবজিন সহজাতের উদ্যোক্তা ও নির্বাহী সম্পাদক। 

প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ- 
আমার প্রথমা (২০১৪)

কবিতাগ্রন্থ- 
সেলাইকল (২০১৮) 
স্মৃতিগন্ধনগর (২০২০)

মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *