মাতৃরঙ // হিম ঋতব্রত

মাতৃরঙ এক

মা তেলাপিয়া মাছটি পোনাদের সুরক্ষায়
একবার পেটের ভেতর নেয়
একবার ছাড়ে…

আর পেছনে একটি সাপ তাঁকে খাওয়ার জন্য ধাওয়া করে…

মাতৃরঙ দুই

একে একে সকলের খাওয়া শেষে হাঁড়ির এইটুকু বেচে যাওয়া
ভাত নিয়ে খেতে বসে মা— ঢকঢক জল খায়!

আর ক্রমশ সংসার শব্দটির ব্যাপক বৃদ্ধি হতে হতে
মায়ের শীর্ণ দেহ আরও ক্ষীণ হয়ে আসে…!

মাতৃরঙ তিন

উকুন : আমরা মায়ের মাথায় থাকি
তাঁর সন্তান
করি রক্ত পান…

যতদিন বাঁচেন—
এভাবেই তাঁকে খেয়ে আরও দীর্ঘ হবে
আমাদের জীবন ও আয়ুরেখা।

মাতৃরঙ চার

লোকগুলো মেয়েটিকে দেখতে আসে
গঠন-গাঠন ও মাংসের পরিমাণ হিসেব করে,
হাটের পশুর মতো দরদাম করে— কিনে নিয়ে যায়…

তারপর খাঁড়া ও ছুরি হাতে নিয়ে— তরতাজা মেয়েটিকে সাজানো গোছানো হয়…!

মাতৃরঙ পাঁচ

ঈশ্বরের মাংস খাওয়ার ইচ্ছে হলে
ধর্মের কাছে গিয়ে কিনে আনি।

দারুণ রান্না হওয়া
সুস্বাদু মাংস পাতে তুলে নিই,
খেতে গিয়ে দেখি মাংসের ভেতর কেমন
মায়ের গায়ের রঙ…

মাতৃরঙ ছয়

কোনও বাবা মারা যাওয়ার পর—
তাঁর শব শ্মশানঘাটে রাখা।

একটি সন্তানসম্ভবা মা গাছের দিকে তাকিয়ে
কাটা হলো গোড়া!
অনেক স্বজন ও শিশুদের কান্না—
গাছকে কাঠ
কাঠকে চিতা
চিতাকে আগুন করে তুললো…

অতঃপর খুব সেজেগুজে শব ও গাছ নদী দর্শনে বেরুলো।

মাতৃরঙ সাত

একটি ক্রুশবিদ্ধ নারীকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে…
আর চারদিক থেকে তীক্ষè বর্শা-ফলার মতো
ছুটে আসছে—
পৃথিবীর অজ¯্র শিশ্ন…

শিশ্নেরা তাঁকে তীব্র আঘাত করছে,
শিশ্নেরা দ- দিচ্ছে…!

মাতৃরঙ আট

মা একটি উদার বৃক্ষ।
তিনি বেঁচে থাকা কালীন আমরা তাঁকে ব্যবহার করি
মৃত্যু ও তার পরবর্তী কালীনও ব্যবহার করি..!

মাতৃরঙ নয়

দ্যাখো মা ছাড়া বাড়ি-ঘর কেমন
কৃষক ছাড়া ফসলি জমির মতো শ্রীহীন
ঝোপঝাড়— আগাছায় পূর্ণ…

গোরু, মোষ, ছাগলও যেখানে চড়ে না!

মাতৃরঙ দশ

একজন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর পর :
মা ও সন্তান ভূ-গর্ভে ঘুমালে
মাটির দেহ মাটিতে মিশে রইলো কেবল—
একটি বড় কঙ্কালের পেটে ছোট্ট কঙ্কাল।

অতঃপর পুনরায় মাটিজন্মে— মাতৃদেহ নিয়ে গজে উঠলো উদ্ভিদ।
অবিকল মায়ের চেহারায়— উদ্ভিদের পোয়াতি পেট…
পেটের ভেতর শিশুটি নড়াচড়া করে…

আর গভীর অন্ধকারে সেই পেটে কান পেতে শোনা যায়
মায়ের গুনগুন গান— শিশুর হাসি…

মাতৃরঙ এগারো

ব্যাপারীরা বাছুরটিকে ট্রাকে তোলার চেষ্টা করলে,
গাইটি প্রচ- লাফালাফি, চ্যাঁচামেচি করে-ছিঁড়ে ফেলে দড়ি,
ছুটে গিয়ে লোকগুলোকে ঢিসিয়ে বাছুরের কাছে যায়।

সন্তানও ছুটে এসে মায়ের ওলানে মুখ দেয়,
মা ওর গা চেটে চেটে আদর করে…

ব্যাপারী আর মালিকের তর সয় না!
শালাদের তর সয় না রে!
গাইটিকে জাপটে ধরে কয়েকজন,
আর কয়েকজন টেনে নিয়ে যায় বাছুর…

চারিদিকে হাম্বা হাম্বা রোল, হাম্বা হাম্বা…

মালিক ছ্যাপ দিয়ে টাকা গোনে!

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: