মমতার জয়ে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য

বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানৌত আর বিতর্ক একে অপরের নাম। অদ্ভুত সব কান্ড এবং চাঁছাছোলা মন্তব্যের কারণে মাঝেমধ্যেই পত্রিকার শিরোনাম হন বিজেপির দালাল খ্যাত কঙ্গনা। এতে অবশ্য নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেন সহজেই। এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বড় পাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের জয়কে মেনে না নিতে পেরে করেছেন বিস্ফোরক মন্তব্য। এতে টেনেছেন বাংলাদেশকেও। আর তাতেই নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। গতকাল ৩ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। এতে মোদী-অমিত শাহ জুটির লজ্জাজনক পরাজয় ঘটে। আর তা সহতেই না পেরেই বিজেপির দালাল কঙ্গনা পরপর তিনটি টুইট করেছেন, এমনটাই দাবি সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক ভারতীয়ের।

তারা বলছেন, তৃণমূলের বিজয়ে সর্বভারতীয় বিরোধীদলীয় নেতারা মমতাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণা শুরুর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এক টুইট বার্তায় মোদি এ অভিনন্দন জানান। কিন্তু বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির উগ্র সমর্থক কঙ্গনা রনৌত কোনোভাবেই তৃণমূলের এগিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না। বরং তৃণমূল তথা মমতার জয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কটাক্ষ করলেন কঙ্গনা।

তার দাবি, এই বিজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গাদের। কঙ্গনা টুইটারে একটি পোস্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গারা মমতার সবচেয়ে বড় শক্তি। যা চলছে, তাতে হিন্দুরা আর সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বাঙালি মুসলিমরা বেশি দারিদ্র্য আর সবচেয়ে দুরবস্থায় জীবন যাপন করে। ভালো, আরেকটি কাশ্মীর তৈরি হচ্ছে।’

টুইটটি রিটুইট করা হয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশিবার। তবে অসংখ্য টুইটার ব্যবহারকারী কঙ্গনার এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘এভাবে জোর করে গায়ে পড়ে বিজয়ীর অযৌক্তিক সমালোচনা করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবেন না। তাতে আরও বেশি করে আপনাদের অসহায়ত্ব ধরা পড়ে।’ আরো একজন লিখেছেন, ‘বুঝলাম আলোচনায় থাকতে চান, তার মানে একজনের বিজয়কে প্রশ্ন বিদ্ধ কেন করবেন? কেন অযথা পাশ্ববর্তী বন্ধু দেশকে টেনে আনবেন? ও ভুলে গেছেন, কিছুদিন আগেই আপনার মোদী বাবা সেদেশে ভোট ভিক্ষা করতে গিয়েছিলো।’

এরপর মমতার জয় নিয়ে আরও দুটি টুইট করেছেন কঙ্গনা। সেখানে তিনি বাংলার উন্নয়নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেছেন।তবে সেখানেও অনেক টুইটার ব্যবহারকারী তাকে দালালি করতে নিষেধ করেছেন। তবে উগ্র বিজেপি সমর্থকরা কঙ্গনাকে বাহবা দিতে ভুলেনি।

গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ভারতের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মমতার বিজয়কে সমগ্র ভারতের জয় হিসেবে বর্ণনা করছেন বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা। এই নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা নন্দীগ্রামে জয় না পেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ২১৬টি আসনে বিজয় লাভ করেছে। রোববার সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পরই ফলাফলের খবর আসতে থাকে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে।

পদ্মশ্রী ও তিনটি জাতীয় পুরস্কারজয়ী কঙ্গনার বেফাঁস মন্তব্য করে আলোচনায় থাকার ব্যাপারে নামডাক আছে। লকডাউনে ভারতজুড়ে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রি থমকে গেলেও, কঙ্গনার ঠোঁট সচল। কটাক্ষের সুরে যাকে তাকে তুলোধুনো করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুদিন পরপরই তাই কঙ্গনার ‘নীলবাক্যে’ বিস্ফোরণ ঘটে। বলিউড তো আছেই, ভারতের এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে এই তারকা তির্যক মন্তব্য করেননি। সমকালীন আন্দোলন, রাজনীতি, মাদক থেকে শুরু করে কৃষকের অধিকার সব বিষয়ে তাঁর মন্তব্য করা চাই–ই চাই। বিশেষ করে টুইটারে ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন প্রায়ই। গত বছরের অক্টোবর মাসে ভারতের কৃষি বিল নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে পড়েছিলেন কঙ্গনা। কৃষি বিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর জন্য কঙ্গনার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন রমেশ নায়েক নামের এক আইনজীবী। নির্বাচন নিয়েও তাঁর বেফাঁস মন্তব্য চলছে। তবে এবার বাংলাদেশকে ছোট করে আলোচনায় এলেন এই বলি অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: