বেদনার বোন দুঃখ // সাঈদ শ

ডিস্টোপিয়া ১

লোকটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদছে। সে তার অতীত হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানও ধুসর, ম্লান।

অনেকগুলো লোক জড় হয়ে আছে। অথচ কেউ জিজ্ঞেস করছে না লোকটি কেন কাঁদছে৷ কেউ জিজ্ঞেস করছে না, তার কোনো সাহায্য লাগবে কিনা!

এবং একটা সময় সবাই সরে যায়, চলে যায় যে যার মতো। লোকটি তখনও কাঁদে। ডুকরে ডুকরে কাঁদে৷ আর তার কোমল কান্নাস্বর মিশে যাচ্ছে বিচিত্র যানের হুইসেলে..

লোকটি দাঁড়িয়ে আছে আধুনিকতার গলি সামনে। এনলাইটেনমেন্টের রঙিন আলোয় ঝকঝক করছে রাত। লোকটি কেঁদে চলেছে তখনও, ভয়েজ রেকোর্ডারের মতো।

ডিস্টোপিয়া ২

প্রায়ই অন্যের স্বপ্নে ঢুকে পড়ি

একবার একটা লিলিফুলের স্বপ্নে ঢুকে দেখি

সেখানেও যুদ্ধ আর ধ্বংস!

পশ্চিমের বাগানে অসংখ্য ফুল মরে পড়ে আছে

ঘ্রান নেই, হাওয়া নেই

দূরে মানুষেরা গাছ কেটে
চলে যাচ্ছে শ্মশানবাড়ির দিকে..

মায়া

লোকটাকে দেখতে হারিয়ে ফেলা
রাস্তার মতো লাগছে

পকেট থেকে স্মৃতি বার করে
মিলিয়ে নিই

না, চেনা যাচ্ছে না

দাউদাউ– ঝাউমনে উজ্জ্বল
জ্যোৎস্না লেগে আছে

কুয়াশার ভেতর দ্রুত পা ফেলে
বাড়ি ফিরছে, চাঁদ..

ডমিনেন্স

প্রতিটা ফুলের বাসনা

যেন সে ঝরে যেতে পারে
মৃদু বাতাসের রেশমছোঁয়ায়

তবু বিনাশের নিয়তি
আসে ঘুরেফিরে

খোঁপায় গুজবে বলে
কোনো স্বেচ্ছাচারী হাতে
ছেঁড়া হয় ফুল..

রক্তহীন, নিষ্করুণ আঘাতে

বেদনার বোন দুঃখ

কান্নার রঙ গাঢ় সন্ধ্যা
বলেছিলো এক সবুজ নারী

ফলের মাংসে কিছুটা
লেগে থাকে বৃক্ষের স্বাদ

একথা যেদিন জানতে পারি
পাখিদের সমাবেশে–

বেদনার বোন দুঃখ বলে ওঠে

মানুষ হলো, আগুনে পোড়া
শুকনো কাঠের খড়–

অন্যের মাটি খুঁড়তে গিয়ে
নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখে কবর

আত্মজীবনী

আমি সময় লিখি
সময় আমায় জাগিয়ে রাখে

সূর্যের নিচে, চাঁদের আলোয়
দূর বনপ্রান্তে
আমারই অনুপস্থিতি
গানের মতো ডাকে আমাকে

আমি যেদিকে যাই; পথের বাঁক
হেলে পড়ে সেইদিকে
যেন পাহাড়ে উঠার সময়
পাহাড়ও কিছুটা নত হয়ে আসে

আমি লিখি বাতাস
আর বাতাস আমাকে বাঁচিয়ে রাখে

আমাকে দেখে যে
তার চোখেই
আমার সকল দৃশ্যমানতা

যখন আমায় কেউ
ডাকে নাম ধরে
জীবনে ও মরণে..

বেঁচে থাকি মূলত
আমি তার ভাষার ভেতরে

প্ল্যেজারিজম

আমি সময় লিখি
সময় আমায় জাগিয়ে রাখে

সূর্যের নিচে, চাঁদের আলোয়
দূর বনপ্রান্তে
আমারই অনুপস্থিতি
গানের মতো ডাকে আমাকে

আমি যেদিকে যাই; পথের বাঁক
হেলে পড়ে সেইদিকে
যেন পাহাড়ে উঠার সময়
পাহাড়ও কিছুটা নত হয়ে আসে

আমি লিখি বাতাস
আর বাতাস আমাকে বাঁচিয়ে রাখে

আমাকে দেখে যে
তার চোখেই
আমার সকল দৃশ্যমানতা

যখন আমায় কেউ
ডাকে নাম ধরে
জীবনে ও মরণে..

বেঁচে থাকি মূলত
আমি তার ভাষার ভেতরে

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: