বিষণ্ণ বালিহাঁস // মোহাম্মদ আনোয়ার

বিষণ্ণ বালিহাঁস

কতো কাল নির্ঘুম রাত কাটে
নরওয়ে কিংবা আইসল্যান্ড সূর্যস্নাত শহর
কেবল হালকা লাল কিংবা হলুদ রঙ,
কেবল আমিই ম্রিয়মাণ বিষণ্ণ বালিহাঁস।

কতো কাল নির্ঘুম রাত কাটে
গহীন আকাশে কালো কালো মেঘ
নীল রঙের ঘুড়ি উড়ে
চাতক পাখির পালকে হুহু করা শব্দ যেনো
বাতাসে ভাসে
স্বপ্নের কথা বলে না কেউ
বলে না কেউ আসবে সম্ভাবনার দিন।

কতো কাল নির্ঘুম রাত কাটে
কখন নেমে আসবে জোনাকজ্বলা আঁধার
প্রশান্তির শীতল হাওয়ায় হাওয়ায় সমস্ত পৃথিবী
আমারই কাটে নির্ঘুম রাতের সব প্রহর।

ধূলির উড়াউড়ি

উনিশ বছর হলো স্বপ্নের পৃথিবী আজ দ্বিখণ্ডিত
সূর্য গ্রহণ লেগে আছে বলে
আমার আকাশে উড়ে না সাদা কবুতর,
উনিশ বছর হলো
পড়েনি এক পশলা বৃষ্টি
কেবল উড়াউড়ি ধূলির কুঠুরি অন্ধকার
দেখিনা সূর্যের হাসি
ফুটে না মানবিক রঙের ফুল।

উনিশ বছর হলো
ধ্রুব নক্ষত্র ঝুলে থাকে অন্য কোনো গ্রহে অন্য রূপে
উনিশ বছর হলো আষাঢ়ে বুলি
উনিশ বছর হলো পাপড়ি ছড়ানো স্বপ্ন
উনিশ বছর হলো চৈত্র দিন চৌচির জমিন
বাগান মাঠ পুড়ানো চোখ।

আমাদের আগামী যাত্রীরা স্বপ্নের পতাকা হাতে
ভাঙা পথের পথিক, রক্তাক্ত পাখির দীর্ঘ নিঃশ্বাস
শঙ্কিত অষ্টপ্রহর
উনিশ বছর পরও হাসে না ভোরের নরম রোদ।

আসেনা ফুলদিন

হেলে পরা আম্রকাননে জ্যোৎস্নার ঝিলিক
পাতার গোপনে বাহারি স্বপ্নে বিভোর
ঝাপসা হয়ে আসে চোখ
রঙধনু বিকেলে।
কতোদিন চলে গেলো হাওয়ায় ভেসে
তবুও মনে হয় এই তো সবেমাত্র জন্ম হলো
নক্ষত্রের, দৃষ্টির সীমানায় কেবলই তুমি।

তোমাকে আর একটি বার দেখবো বলে
হাজার কোটি বছর তাকিয়ে থাকি
নিলীমা ঘিরে শুধু মেঘ উড়ে উড়ে যায়
উত্তরে আগ্নেয়গিরির গরম নিশ্বাসে
কীভাবে ক্ষত হলো বাগানের ফুল
সময়ের বিবর্তনে অচেনা কোনো হাত ধরে।

বহুকাল অজানা অচেনা দেশে দেশে ঘুরি
ফেলে আসা সেই পথ তবু্ও খুঁজি
এখন আর ফিরে আসে না কিশোর কিশোরী
চঞ্চল রোদ হেসে উঠা ভোরের সূর্য,
অপেক্ষায় থাকে না কেউ
অপলক কোনা দৃষ্টি ভেজা চোখ
আসে না ফিরে আর ফুলের দিন।

ঝিরিঝিরি বর্ষা

বর্ষা এলে মনে পড়ে সেইসব কাদারঙ উজ্জ্বল দিন
সোনার হরিণ নেচে নেচে মিশে গেলো গহীন বনে
সুসজ্জিত বাগান খেলার মাঠ শীতল বৃক্ষের ছায়া
কাঁদে এখন
ছোট ছোট ঘুঙুর আওয়াজ উঠোনে কিংবা আঙিনায়
কিশোর কিশোরী দিন
টিনের চালে খেলে যায় তুমুল খেলা,
হঠাৎ করে ঘুমের দেশে গুন টানে ধিরে ধিরে
মাটিকাটা নদীর স্রোতে ভাসে নৌকা মাঝিমাল্লা।

আকাশ কাঁদলে মাছের আমুদ লাল রঙে সাজে
ব্যাঙের ডাকে সুরে উঠে হারানো কালের মুখ।

বর্ষা এলে মনে পড়ে
ঝিলের পাড়ে বৃষ্টি ভেজা কদম ফুল চুইয়ে চুইয়ে
কাজলদিঘী টলমল-
সবুজ পাতার গোপনে পলকহীন চোখ
আবার কখনো দেখবো কি-না
পিতামহের পিঠের মতো মায়াবী ভোর-
কে জানে কোথায় আম কুড়ানোর ঝিরিঝিরি বর্ষা।

 নৈঃশব্দ্য হাহাকার বুকে

কেনো এতো নৈঃশব্দ্য হাহাকার বুকে
চারিদিকে মলিন চেহারার সমাহার
চাকা ঘুরে না কিছুতেই
নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকি
একে অপরের দিকে
পৃথিবীর অগুনিত আকাশ
যেনো মেঘে ছেয়ে গেছে।

হিসেবের সূত্র মিলে গেলে
কমে আসে অনেক দূরের পথ
তুলে নেয় জীবনের সুখ
যদি থাকে প্রেম, অপরিসীম দয়া।

কতোদিন হয়ে গেলো
দেখিনা মুক্তির সুবর্ণ সুযোগ
কেনো অলৌকিক বৃষ্টি নামেনা, ভিজেনা শরীর
কেবলই উত্তাপ দুপুর টুপটাপ কপাল
জানি না নিয়তি থাকে কোন দেশের কোন ঘরে।

মোহাম্মদ আনোয়ার

জন্ম ১৯৭০ সালের ৫ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার মুলাইদ গ্রামে।
পেশায় সরকারি চাকরিজীবী।
আগ্রহ মূলত কবিতায়।

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ-
স্মৃতির লোবানে ভাসে (২০২১)

ফোন: 01716-623169
ইমেইল: sianwar444@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: