ফিলিস্তিনি শিশুদের কবরের পাশে আমি বাংলা কবিতা পাঠ করতে চাই – রিগ্যান এসকান্দার

‘আরাফাতের ময়দান থেকে আমি পৌছালাম-
জামারাতুল আকাবা
জামারাতুল উস্তা
জামারাতুল উলা
এরপর ২১টি পাথর ছুড়ে মারলাম শয়তানের উদ্দেশ্য। ‘

ঈশ্বর বললেন,
এসকান্দার, ওহে বঙ্গদেশের কবি,
তবু তোমার আগেই স্বর্গে যাচ্ছে –
নাদাইন আবদেল তাইফ, এই দশ বছরের মেয়েটি।

তুমি যে ২১ পাথর ছুড়ে মারলে আরাফাতের ময়দানে
দেখছ কী কার বিরুদ্ধে?

আমি বললাম, না মহামন্য, দেখি নাই।

ঈশ্বর বললেন,
শয়তানকে না দেখে ২১ পাথর ছুড়ে মারার চেয়ে
দেখে ১টি পাথর ছুড়ে মারা উত্তম।

আমি তাইফের দিকে তাকালাম-

‘নাদাইন তাইফ, শিশু আমার, সন্তান আমার
তোমার নরম পায়ের নিচে আমার আরাফাত।
তোমার পুতুলের মতো মুখখানি আমার মক্কা।
তোমার মায়াভারা চোখ দুটি আমার দিদার।
মা, এই চোখে গুলি মেরেছে কে?

নাদাইন তাইফ,
আহা, বেহেশতের মতো স্নিগ্ধ দুটি চোখ,
এই চোখে রক্ত ঝরছে।
জেনে রেখ, ঈশ্বর সাক্ষী-
এই চোখে
দুটি রক্তজবা ফুটবে বেহেশতে।

আহা, ফ্রগপরা ছোট পরী আমার,
বলো তোমার এই চোখে বুলেট ছুড়েছে কে?

২১ পাথর বৃথা হয়েছে আমার আরাফাতের ময়দানে।’

ঈশ্বর বললেন, কবি-

শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতদের
পাথর ছুড়ে মারাই ইবাদত।

শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতদের
পাথর ছুড়ে মারাই পূর্ণাঙ্গ হজ।

তাইফের দেশে শিশুরা পাথর ছুড়ে মারে
রাইফেল হাতে রাখা দানব শয়তানের দিকে।
তাইফের দেশে শিশুরা পাথর ছুড়ে মারে
দখলদার সৈনিকের চোখের দিকে চোখ রেখে।
তাইফের দেশে শিশুরা পাথর ছুড়ে মারে
মাতৃস্তন্যের দিকে ছুড়ে মারা বুলেটের দিকে।

আমি বললাম, কোন সে দেশ মহামান্য?

ঈশ্বর বললেন-

ফিলিস্তিন।
যেখানে জন্ম নেওয়া
বাগানের প্রতিটি গোলাপশিশুই পরাধীন।

ফিলিস্তিন।
যেখানে জন্মভূমি রক্ষার জন্য
মায়ের কোল খালি হয়ে যায় প্রতিদিন।

আমি বললাম, মক্কার হজে
আমার ২১ পাথর বৃথা হয়েছে, হে ঈশ্বর।
এই অপরাধে আমি আর বেহেশত চাই না।

এখন থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের কবরের পাশে
আমি সকাল-সন্ধ্যা বাংলা কবিতা পাঠ করতে চাই।

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: