প্রিয় মুখ! টাইমলাইন থেকে // মুসা আল হাফিজ

এক

প্রিয় মুখ!
টাইমলাইন থেকে
ঘুঁষি এসে
পাঁজরে লাগছে
হাড়ের গুহা থেকে বেরিয়ে
রাতের দিকে হেঁটে চলা
একপরিবার দু:খ আমি
আমার বিধ্বস্ত মুখকে যখন দেখছি,
দেখাকে উড়িয়ে নিয়ে
দমকা হাওয়া
সাদাপোশাকমৃত্যুর ভারে
বুড়িয়ে যাওয়া স্ট্যাটাসের মতো
ধুকতে লাগলো!
একপরিবার দু:খ আমি
মাথার ভেতর ভিজিয়ে রাখি
বাবার শুকনো মুখ!
যা ছিলো শোবার ঘর,
এখন সে বিরানভূমির ছায়া!
সেখানে একটি
নিদ্রাহরণকারী ছবি ছিলো প্রিয়মুখের,
যার ডাকনাম সম্ভাবনা।
তার হাসির উপর চাপিয়ে
দেয়া হয়েছে বিশেষ নেমপ্লেট!
গতকাল নিখোঁজ বাবার খোঁজ
জলাভূমির দিকে এগিয়ে গেলো
হাওয়াবাহিত গন্ধের মারফত!
সেখানে বাবাকে পাইনি বটে!
তার সন্ধানে ব্যানার হাতে
উদ্বেগ ঝরানোর পাপে
আমার সেই
প্রিয় মুখ দেখি- শবদেহ হয়ে আছে।
সম্ভাবনার সারা গায়ে
ভনভন করছে পোকা, মাছি, কীট; যেন বাংলাদেশ!

দুই

এই বৃষ্টি
তোমার চোখ অনেক বেশি দুষ্পাঠ্য
এই বৃষ্টির পাঠ তার চে’ও বেশি কঠিন
এই বৃষ্টিতে বড়লঙ্কার ঝাল
এই বৃষ্টিতে মিথ্যা অঙ্গীকার
এই বৃষ্টি আসলে বেঁচে থাকার সতীন!
বৃষ্টিতে ঝরে পড়ছে ঝড় ও জ্বরের মন
আলোকে খেদিয়ে কুয়াশা এনেছে বলে
এই বৃষ্টিকে তারা বলছে মধুময় উন্নয়ন!
পানিতে ভাসতে থাকে ঈদের নামাজ
করোনারা ফেলে যায় বেওয়ারিশ লাশ!
সাগরে নাচে ঢেউ ; ভারি বদমেজাজ
সবুজে, বাতাসে লেখা কালের মারণ
ওদিকে – তোমরা হও আরো বেশি দাস!

তিন

মহানবী সা.
শব্দ একটি আশ্রয় এবং প্রতারণা;
বাতাসকে মিনারেল ওয়াটারের
বর্জ্য বোতলে ভরতে পারে;
দুনিয়ারে ঢুকিয়ে দেয়
আমার পুরনো জামার ছেড়া পকেটে,
সাগরকে এনে দেয় অধীর চুমুতে ;
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তোমাকে নিয়ে-
তোমাকে রাখার জন্য
শব্দ তার সকল রাজ্যকে উন্মুক্ত করে দিলো
কিন্তু শব্দের না রাজ্য
না রাজধানী
না দেশ, না মহাদেশ
পারছে ধারণ করতে-
তোমার পদভার!

চার

এখানে এখন
বলা হচ্ছে, আমরা বেঁচে আছি
এ গুজবে কেউ কান দেবেন না
আপনারা বেঁচে আছেন, এও গুজব
আমাদের কেউ গুরস্তানে দাফন করেনি!
আপনাদের কেউ শববাহকের হাতে তুলে দেয়নি!
কেন দেবে?
এখানে এখন
আমরা সকলেই যার যার গুরস্তান
আপনারা সকলেই যার যার শববাহক

পাঁচ

স্বরূপ
আচ্ছা, আমার কী হলো?
কিছুই দেখছি না!
না আকাশ, না জমিন,
না দিগন্ত, না নরনারী!
আমি এখন কোথায়?
কারো সামনে দাঁড়ালে তাকে দেখছি না
নিজেকে তালাশ করে কোথাও দেখছি না!
কিন্তু আমি অন্ধ নই!
অনবরত দেখছি আর দেখছি না
তোমরা কি জানো?
আমি কী দেখছি আর কী দেখছি না?
আলমে মিছাল আছে এক- স্বরূপের পৃথিবী
মহান রুমীর হাত ধরে সেখানে গিয়েছিলেন ইকবাল!
সেখানে তুমি আমি তুমি আমি হয়ে নই!
কেউ আছে সাপ হয়ে, ইঁদুর হয়ে কেউ
পোকামাকড়, মশা কিংবা বাঘ হয়ে কেউ!
কেউ আছে তারা হয়ে, ফুল হয়ে কেউ
কিংবা আছে নদী হয়ে চাঁদ হয়ে কেউ
তাদেরকে যখন দেখছো,
কোনো মন্ত্রী বা ভিখারিকে দেখছো,
পুঁজিপতি বা কৃষককে দেখছো,
খুনি বা নিহতকে দেখছো
দেখছো কোনো পীর কিংবা মুরিদের মুখ!
আমি তো তোমাকে দেখছি না,
দেখছি কোনো মাছি কিংবা ফুল
তুমি তাদের কে?
আমি তো আমাকে দেখছি না,
দেখছি কোনো সাপ কিংবা চাঁদ
আমি আসলে কে?

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: