পাহাড়ের গ্রীবা থেকে তুলে আনি পাখি

ফ্রেম

একটি রেখা হেঁটে যাচ্ছে তারপর নদী তারপর নারী

শিল্প একটি বিমূর্ত বিষয়—
কখনো রেখাকে নারী আর নারীকে নদীতে এঁকে দেয়।

আমি একটা রেখা আঁকতে চাই… ছুঁতে চাই নোয়ানো নদীর স্রোত ।

নিহত মাছের জন্য

একটি হিম-গৃহে সমাহিত করেছি তোমাকে
আর নিজেকে বিস্তৃত করেছি অগ্নিময় রোদে।

এই হিমঘর এই অগ্নিময় রোদ
এরা পরস্পর বিরোধী।

বস্তুত এর চেয়ে উত্তম শোক প্রস্তাব আমার জানা নেই।

আবর্তিত সময়

অন্ধকার থেকে পুনর্বার
অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছে স্বর।

রক্তমূখী নদী প্রবাহিত হচ্ছে কোষে…

দীর্ঘপথ অতিক্রমণের পর একটি
কমলার বাগান নিমগ্ন স্রোতের ভেতর
ডুবে গেল।

সমর্পিত মানুষেরা ক্ষয় ডেকে আনে;
আর অন্ধকার স্পর্শহীন—

ভ্রমণের শেষ ঘাটে পড়ে আছে
ছিন্ন ভগ্ন খণ্ডিত রোদ্দুর।

অপেক্ষা

জলে ডুবে আছি…

একটি দুর্বিনীত রাত অপেক্ষা করছে নিকটে।

খিলানের ওপাশে হলুদ পাপড়ির ফুল—
পাহাড়ের গ্রীবা থেকে তুলে আনি পাখি।

ফের ফিরে যাই— বসি আগুনের পাশে,
আড়াআড়ি দেখি;
ফেলে আসা ছায়াপথ পুড়ে যাচ্ছে দূরে।

সমান্তরাল

দৃশ্য থেকে ফিরে গিয়ে একটি উড়ন্ত বিড়াল
পুনর্বার বসে আছে দৃশ্যে।

উন্মুক্ত চণ্ডাল এক
তার অভিন্ন হাতের ইশারায় দেহটাকে
চেপে ধরেছে আগুনে।

দেহ শুধুমাত্র স্মৃতি,অপ্রতুল শ্বাসঘাত—
আর পৃথিবী ঘূর্ণায়মান একটি চাকতি…
ভেতরে ক্রমশ জমা হচ্ছে নির্নিমেষ অন্ধকার।

দৃশ্যকে আড়াল করে দৃশ্যমান হচ্ছে ছায়া—
আর হন্তারক সময়ের স্রোতে
ক্রমাগত ক্ষয়ে যাচ্ছে ক্রুশবিদ্ধ কাল ।

অনুক্রম

প্রতি রাতে বাড়িগুলো জায়গা বদল করে
নীল বাড়িটা লাল বাড়ির ভেতর
আর সাদা বাড়িটা সবুজে¬

প্রতি রাতে বাড়িগুলো ভাসমান নৌকো
তাদের শরীর থেকে প্রবাহিত প্রতিটি জলকণা
এক একটি শিশু-ফুল

প্রতি রাতে বাড়িগুলো ঘুম-নদী
শুয়ে থাকে অগ্রহায়ণের বারান্দার নীচে

কাচঁখেলা

কামার পাড়ায় বসে আছি, বিচিত্র রকম
মানুষের মুখোশ দেখছি
তাদের কাউকে কাউকে তাস মনে হচ্ছে।

আবার কেউ কেউ নিপুণ খেলাড়ি
সব তাস এক সাথে খেলছে না,
কিছু কিছু লুকিয়ে রেখেছে হাতের তালুতে…

বুদ্ধিমান মানুষেরা তাই করে
তারা মাছ ধরায় উস্তাদ আর
খেলিয়ে খেলিয়ে ছিপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

জীবন এক প্রসারিত জুয়ার টেবিল…
তোমাকে মাছ ধরার ধৈর্য নিয়ে তাস খেলতে হবে।

এলিজি

তোমাকে ডুবিয়ে দেয়ার পর
শুধু তোমার মাথাটাই ফিরে এলো,
ছিন্ন মস্তক এক!

শিশুরা ভয় পেয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ,
(শিশুদের ভয় পাওয়া খুব স্বাভাবিক)
কিন্তু আমি ভাবছি ভিন্ন এক কথা
কিভাবে ফিরে এলো সে!
কি করা যায় এই খণ্ডিত মস্তক নিয়ে…

ভাবতে ভাবতে অন্ধকারের জরায়ুর ভেতর
অলীক সন্ধ্যার পাশে ঘুমিয়ে গেলাম।

ত্রিশাখ জলদাস

জন্ম- ৭ মে ১৯৫৯, অঘোর বাবুর কলোনি, ময়মনসিংহ শহর, ময়মনসিংহ । 

পেশা- চাকরিজীবী 

আগ্রহ- কবিতা 

সম্পাদনা- জলসিঁড়ি (১৯৭৬-১৯৭৭), অরুণের হাতে ধারালো ছুরি (১৯৮০) 

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ- 
জড়তুল্য পাথর (২০১২) 
মোমঘর (২০১৬) 
কালো মোহরের দানা (২০১৯)
ত্রিশাখ জলদাসের কবিতা (২০২০)

ই-মেইল: trishakh.jalodas@gmail.com

One thought on “পাহাড়ের গ্রীবা থেকে তুলে আনি পাখি

  • April 29, 2019 at 1:19 am
    Permalink

    অনেক অনন্য অনুভূতি উপহার দিলেন কবি

    কামার পাড়ায় বসে আছি, বিচিত্র রকম
    মানুষের মুখোশ দেখছি
    তাদের কাউকে কাউকে তাস মনে হচ্ছে।

    আবার কেউ কেউ নিপুণ খেলাড়ি
    সব তাস এক সাথে খেলছে না,
    কিছু কিছু লুকিয়ে রেখেছে হাতের তালুতে…

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: