পাঠ্যপুস্তক, বিউটি-শপ ও অন্যান্য কবিতা

বন্ধু

বলার বাহিরে আমাদের কিছু দুঃখ আছে
বৃষ্টিরদিনে এই কথা বলেছিলো বন্ধু,
গতরাতে বন্ধুর বউ-
সে কথা চুরি করে আমারে শুনালো।

আমি আর বন্ধু
সুরমানদীর ধারে বিড়ি টানি আর ভাবি
বুঝি বৃষ্টির মন খারাপ হলে
এমন ঘন ঘন বজ্রফোটে আকাশে আকাশে।

মাটি

ফুল ভাগ্য আছে তোমার
তাই ভাগ্যপ্রেমে
তোমার পথে দাঁড়াই প্রতিদিন
পাতারা নাচতেছে সবুজ ডিলেমায়
এমন ওঝা নৃত্য
শেষ হবে কবে— বলতে পারো;

প্রতি সন্ধ্যেবেলা
বসন্ত প্রাচীর বেয়ে
শরীর ভর্তি ঘ্রাণ
মাকড়ের রূপকল্প নিয়ে ফোটে দূরের শহরে
সরিষা ফুলে কাছে গিয়ে দেখি
আমার যত পাপ—
নিজেকে মাটিতে রাখবো ভেবে;
মরতে ইচ্ছে করে না আর।

ফুল

প্রিয় ফুলটার মন ব্যথা
তারে দুঃখ পাইলে দারুণ লাগে
আমি জিগাই
ও ফুল তোমার মন ব্যথা কেরে?

তারপর আমার নামের মধ্যে
একটা ব্যথা ঢুকায়া কারে জানি কি কয়!
ঠান্ডা মেঘের মতো তার হাসি
জানি সিলেট তোমার ভালো লাগে না আর
তোমারে একদিন মৈমনে আনব কসম
তারপর দেখবা আমাদের ঘরে অনেক ফুলগাছ জন্মাইছে।

বিউটি-শপ

এমন হাওয়ার দিন এলো পাখিদের সংসারে
যেন বিউটিপার্লার থেকে
চুল গুলো বেধে এলো এই সন্তরণে

ডানায় সার্কাসের কারুবাসনা
সোনালু ফুলের মতো দুলে দুলে
উড়ে উড়ে কি যেন খোঁজে আকাশে-মহাকাশে

এত বিউটি আর পপকর্ন ভেজা সকালে
আমার পাখিটির মন ব্যথা হচ্ছে খুব; ধাতুমুদ্রার মতো।

যুদ্ধ

তুমি শুধু যুদ্ধের কথা বল
অথচ চাও পাখিদের ডাকে সকাল আসুক।
ভাবো তো পাখির বদলে মানুষ আর গানের বদলে ক্রন্দন
যদি হয় শরতের ভাষা
তাহলে কেমন হবে পৃথিবীর জলবায়ু?

যখন আমি ফেরারি হয়ে পড়লাম যুদ্ধঋতুর দিনে
মায়ের মুখে নানরুটির গল্প শুনে ক্ষুধা মিটিয়েছি
অথচ তখনো শিউলি গাছে ফুল- তারা যুদ্ধহীন।
যে মাটি ভিজে গেল ভাইয়ের রক্তে
তুমি কীভাবে সেখানে শান্তি পেতে পার?

তবু তুমি যুদ্ধের কথা বল
অথচ প্রতিদিন সন্ধ্যা এসে
তোমাকে পরাজিত করে ঘুমের বিছানায়
তুমি তলিয়ে যেতে থাকো; রক্তহীন, গুলিহীন
তোমার এই পরাজয়।

পাঠ্যপুস্তক

একটা আড়াই তলার কাঠঘর;
এখানে ঘূর্ণিনৃত্য ছাড়া পরিচিত কোন নাম নেই।

মাকড়ের জালে কিছুটা ঘর দখলের রাজনীতি ছাড়া-
কারো সীমারেখাও টের পাওয়া যায়নি।
তা হোক।
কথা বলাও তো এখন রাজনীতির মধ্যে পড়ে
ভাবো তো মনুষ্য রাজনীতির বাহিরে
আমাদের জীবন কেমন হতে পারে?

সে কি যিশুর মতো ক্রুশবিদ্ধ?

নাকি মুহাম্মদের লম্বা দাড়ির আলোকচিত্র?

দ্যাখো রাত্রির দিকে ভ্রমণ করছে জোনাকি—
ফেরাস্তার টিমটিমে চোখ যেন গাছের ছায়ার মতো;
ছড়িয়ে আছে— এই আড়াই তলার কাঠঘরে।

অথচ মানুষ আজীবন পাঠ করে এলো ঈশ্বরের মুখ—
কিন্তু ঈশ্বর চিনে কজন?

জাকারিয়া প্রীণন

জন্ম - ১৫ জুন, ময়মনসিংহ।
আগ্রহ - কবিতা ও প্রবন্ধ
সম্পাদনা - সহজাত (সহযোগী সম্পাদক) 
ই-মেইল : jakariaprinon@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: