পঞ্চস্বর ৬

আজগর আলী

বিগত পুরুষ

একটি সুনসান মৃত্যুর অভিপ্রায়ে আমি ক্রমশ খুন হচ্ছি
একটি নাম-শিরোনামহীন প্রচ্ছদে…
একটি অচেনা পথ
আমাকে জড়িয়ে ধরে শুনিয়ে যাচ্ছে তার
অন্তস্থ মর্মবেদনা….
আমি ক্রমশ পরিণত হচ্ছি আমাদের বিগত পুরুষে
ক্রমাগত আমি হারিয়ে যাচ্ছি
একজোড়া দূরাগত চোখের মণিতে…
চারদিকে করুণ বিউগলে
নেমে আসে রক্তের ডাকনামে আমারই
ভবিষ্যৎ
এসব ঘোরগ্রস্থ দুপুরে
যেনবা তামাম পৃথিবী ঘুরপাক খাচ্ছে আমাকে কেন্দ্র করে…
হাজার বছরের নিবিষ্ট
বৈরাগ্যের ভেতর আমার সমূহ চৈতন্য
বিবশপ্রায়..
আমি চুপচাপ বসে আছি
আম্মার দু’রাকাত নফল নামাজের পাশে..

কিংশুক

ঘৃণার সর্বনামে তুমুল ফুটে ওঠে এক আকাশ কিংশুক— হরিদ্রাভ আলোয় ঝলসে যাচ্ছে কারো কারো সঙ—প্রতিদিন কতিপয় কাক জন্মোৎসবে মেতে ওঠে কিম্ভুৎ আত্মহত্যার পাশে— শহর থেকে শহরে রচিত হয় মানুষ নামের ইতিকতা—একদিন যে সকল কূট বার্তাকে মনে হয়েছিলো ভালোবাসার মোটামুটি সারবত্তা— জাগতিক মাছেরা তাদের গায়েও মেখে দিয়েছে অনন্তর বিবমিষা— নিশ্চয় কোনো একদিন মানুষেরা ফিরে পাবে তাদের প্রকৃত অবয়ব ।

আহমাদ সালেহ

২০২১

স্তব্ধ; নিরাক আকাশ
জোনাকবিহীন, ঝিঁঝিঁবিহীন
কোকিল
শালিক
কাক, ফিঙে, শকুনবিহীন
এক সময়-

আমি বাড়ি ফিরতে চাচ্ছি মা
অথচ তুমি অসুস্থ
আমি বাড়ি ছাড়তে চাচ্ছি মা
অথচ তুমি অসুস্থ

কোথায় সে কবর, যেখানে তোমার আঁচল নেই?

একুশ পৃথিবীর প্রসব যন্ত্রণা আমার
তোমার সংখ্যা জানি না
জানবার সাহস আমার নেই

গুণিন

বৃষ্টিহীন এক সময়ে
আকালে নাকাল ভূমিতে
জীবনের প্রয়োজনে ডেকে আনা হলো এক গুণিন

তীব্র মন্ত্রো”চারণের আত্মনির্গত লাঙলের কর্ষণে-
ঝুমঝুমে নেমে এলো জলধারা…
অদ্ভুদ অসময়ের বর্ষা!

বিশ্বাস করো, ওই গুণিন ছিলো এক কবি।
হৃদয় তাঁর জন্মের পর থেকে নিসঙ্গ

গুণিন আমাকে শিখালো, জলধারা ধরে রাখতে হয় না
উড়ে যেতে দিতে হয় আকাশে

ধ্যানের জায়নামাজ পেতে বসো ঊষর-ধূসর সানুপ্রান্তর…
ডাক দাও আকাশ-বাতাস-সূর্য-চন্দ্র
মহাকাশবিস্তৃত অমিত-অদৃশ্য তারকারাজিকে…

গুণিন জানে!
গুরুমন্ত্র কখনো বৃথা যায় না।

উমর ফারুক জীবন

সম্রাটের মত দরজা

দরজা সে-ও সম্রাটের ভূমিকা,
নিখিল সাম্রাজ্য, নির্নিমেষ
দৃষ্টিপাত;

অদৃশ্য সিংহাসনে আসীন হতেই
রুদ্ধ কীলকের পাদপ্রান্তে
বন্ধ কপাটের পা ছুঁয়ে
লুটিয়ে পড়ে
কুর্নিশ,

অথচ দয়ার্দ্র সম্রাটের আজ্ঞা হলে
নির্দ্বিধায় পার হয়ে
যেতে পার
তুমি

নিঃশঙ্কোচে অভ্যন্তর ও অবকাশের
শেষে, নির্ভয়ে যেতে পার
অর্গলহীন দরজার
ওপাশে।

শ্বাস ও সারস

উড়ে গেলে শ্বাস ও সারস, ভিজে যায় ডানা,ভিজে
যায় মেঘের উইশপার,আকাশ দৌড়াতে থাকে,
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে একটি ঘোড়া,আকাশের শ্বাস
পড়ে আসে,তবু আকাশ ফুরায় না,ঘোড়াটি ফুরায় না,
ফুরায় না আশা ও আশ্বাস!

মারুফ আহমেদ নয়ন

জন্মান্ধ ফুলের গান

তোমার সুখ দীর্ঘস্থায়ী হোক। যেহেতু তুমি মিলনের অধিক কামনা করেছিলে করেছিলে বিরহ। আমি শিশুদের কান্না নিয়ে তোমার পাশে ছড়িয়ে পড়েছিলাম। যেনো জন্মান্ধ ফুলের গানের পাশে পৃথিবীর সমস্ত অশ্রু ঝরে যায়। কেবল জীবন এক আশ্চর্য স্বপ্ন ভেবে প্রতিদিন জেগে উঠি, তারপর তোমাকে দেখি। সূর্যের কড়া রোদ চোখে মুখে লাগে, এমন একটি বে-হিসেবী জীবনকে তুমি কি করে ইর্ষা করবে। তোমাকে অজস্র বার ভালবাসতে গিয়ে আমি জীবনকে ভালবেসে ফেলেছি। তোমাকে একবার ঘৃণা করতে গিয়ে আমি নিজেকে ভালবেসে ফেলেছি। একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বলেছি, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

লাশকাটা ঘরে

ক্ষমা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। দেখো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র আলোর রেখা। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা করো তবে আমিও তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। যদি এর ব্যাতিক্রম হয় তবে লাশ কাটা ঘরে ডোমের হাসি, ছুড়ি ও কাঁচির উল্লাস ফিরে পেতে পারো। হয়ত আমার বিছানাজুড়ে অন্য কেউ বিশ্রাম নেবে। আমি তার শিয়রে বসে মমি প্রস্তুত করবার প্রস্তুতি নেবো। তোমার সে দিকে কোন দৃষ্টি থাকবে না। তোমার একটা সুখী জীবন আমাকে সারাজীবন প্রত্যাখান করে। কাছে যেতে চাইলে কেবল পোকাদের গর্তে ঢুকিয়ে দেয়। আমার এই সমস্ত অনুভূতির কোন ব্যাখা নেই। সূর্য তো চিরকাল পূর্বেই ওঠে, পশ্চিমে অস্ত যায়।

মেহেদী হাসান রনি

বিদ্রোহী কবি

চলে গেলে ওহে মরমিয়া
ভেঙে দিয়ে যত জাতকুল
তোমারে যে ডাকে বুলবুল
তব-গীতি-কাব্য কন্ঠ নিয়া !
তুমি প্রিয় সেই দুখু মিয়া
দেশ-প্রেমী-বেশে মশগুল
হে বিদ্রোহী কবি নজরুল
তুমি যে পূজার দীপ্তি দিয়া !

নীলাকাশে তুমি ধ্রুবতারা
দিক-ভ্রষ্ট-দিশা নাবিকের
যে সাহসে ভরে ভীতু হিয়া !
প্রাণের কবি সে প্রেম সাড়া
পুষ্প-কাব্য নগে ফুটা ফুল
সিন্ধু সেঁচা মুক্তা ঝিনুকের !

তাঁর ভয়ে মুমিন হও

ফুল ফলে শস্যে পূর্ণ আমাদের এই দেশ!
সবুজ শ্যামল বন-বনানী রূপের নেই যে শেষ!
নদী-নালা সাগর তীরে বৃষ্টি মেঘের খেলা!
বাংলা যেন ঐ মহানের নেয়ামতের মেলা!
নদী-নালা গাছ-গাছালি পাখ-পাখালি দিয়ে!
বিশ্ব সেরা জম্মভূমি দিলেন সাজিয়ে!
ষড় ঋতুর নানান রূপ দিয়েছেন প্রভু!
সৃষ্টি রাজির অকল্যাণ হয় না যেন কভু!
খোদা দিলেন শুদ্ধ খাবার মানুষ মেশায় বিষ!
মানুষ হত্যার শাস্তি কি যে রাখেনা হদিস!
শোন মানুষ, সব কাজেতে সদায় সত্য কথা কও,
এক আল্লাহর পথে চলে তাঁর ভয়েতে মুমিন হও।

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
জন্ম ২ জানুয়ারি, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
আগ্রহ -  কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও ফিচার।
সম্পাদনা -  সাহিত্য সমাচার, কিশোর আনন্দ, সহজাত
প্রকাশিত বই-
কবিতাগ্রন্থ- সেলাইকল (২০১৮), স্মৃতিগন্ধনগর (২০২০) ছায়াবীথি প্রকাশন
গল্পগ্রন্থ- আমার প্রথমা (২০১৩)
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: