নৈশ পেয়ালায় জলপাই চুমুক // শিকদার ওয়ালিউজ্জামান

নৈশ পেয়ালায় জলপাই চুমুক

মায়ার বৃক্ষ আড়ালে রাখে রাতের পানপাত্র এক…

হাসিসমেত মেঘের নিঃশ্বাস গুনে
যাতির নীচে দুইফালি হই; কোন খেলা পুষে রাখো হে গীত?

আপেলরঙা মোমের বাকসে মিলিয়ে নাও
তোমার নিত্যকার টোল… এক, দুই, তিন…
মদ্দি গাঙের সাঁতার তো নেই!
ফলার কর্ষণে ঝর্ণা ওঠেনি কোনো!

তবু মাঝরাতে ঘুমভাঙা মেঘের হুংকার, কেন আমাকে শেকল ছেঁড়ার গল্প শোনায়? আয়ুর বাগান হলদে হচ্ছে দিন দিন… ও পথে শুধুই নিটোল পায়ের স্বর!

বৃক্ষ তোমার আঁচল ওড়ে; আমার কেবল ছায়ারা নাচে…
মানবী,
তোমার
একজোড়া পেয়ালায় আমাকে দাও জলপাই চুমুক…

নির্জলা শহর তৃষ্ণাকাতর মাছ

দাঁড়াবো
বলেই
বা
ড়ি
য়ে
ছি…পা… একাকী পাথরে আঙুল। জলে ভাসিয়েছি
ভোরের কিতাব। ২১ ফুঁয়ে নিভিয়েছি মোম-আলোর জন্মতিথি।

পাথর জাগেনি। মানুষও জাগেনি কোন…

এ শহর যেন প্রতিহিংসার প্রাসাদ। দেওয়ালের গায়ে রঙিন জামা, রঙের কফিন! ভেতরবাড়িতে নির্জলা মাছ কেবলই লাফায় দারুণ তৃষ্ণায়…

বোহেমিয়ান মেঘ টুপটাপ ফোটে নিভাষা ঠোঁটে। ঠোঁটের প্রাচিরে অবিরাম-
বি
দ্বে
ষ…!!!

একতন্ত্র

দুই পা আছে। পাখা তো নেই!
কীভাবে পাখির আকাশ ছোঁবে?
আঙুল আছে; তাই
গীটারবাদক!
এমন পাঠ
শিখিয়েছে কে?

মুর্খ ধ্যানে ভেবে নাও দক্ষ সাধক!

একের জমিনে হরেক যাদু… ভুলে গেছ!
একের
চোখে
সারা পাহাড়, সফেন সাগর;
আঙুলের উপর মহাশূন্য এক…

আমি এক।
অন্ধকারও এক। কেবল রকমারি আলোর বিপরীত।

আমার হৃৎপিন্ডে বসতিও এক…
সে ঘরে এসো প্রিয় নিঃশ্বাস, বিশ্বাসী ঘুম।

যখন অশ্রু নামে নবগঙ্গায়

উত্তর জমিনে আশ্রম

দূর গ্রাম

নদীঘাট

শবের শ্মশান

ঘাটে বসে মেঘঢাকা অন্ধকার… বৃষ্টি … ছন্দের ধ্যানে পাতায় পাতায় বিনয়ের জপ…

দেহ রাখার ঘরে শ্যাওলা জমতেই আর একটি কাক বার্তা পাঠায়। জলের ভেসালে একাকী ফিঙে। কী এমন বিরহ তার? আমাদের সময় কেবলি ফুরোয়…

তোমার নগরেও মেঘ জমে। বসে থাকো জানালায়। কামনার মেঘ নিমেষেই হয়ে ওঠে ডাকপিয়ন। আমি গাছের আশ্রমে মেঘের বার্তা পড়ি… বৃষ্টি নামে নবগঙ্গায়… অগণিত ফোঁটা গড়ে তোলে জলজ ফুল…

ফুলগুলো মিলে গেলে অদৃশ্য নাউয়ের গলুই আমাকে চোখ রাঙায়। শ্যাওলার দিকে নিঃশ্বাস রাখি। তোমার দীর্ঘশ্বাস টের পাই। বুঝে নিই আশ্রমঘেরা প্রেমের জালি, মানুষের কঙ্কাল…

ক্রীতদাসের হাসি

ক্রীতদাস
কৃত দাস
আমার দাস
তোমার সৃষ্ট এমন শব্দ আমাকে দাসত্ব শেখায়

তুমিও তো ক্রীতদাস সময়ের!
তুমিও তো ক্রীতদাস চেতনার!

তোমার শীতল স্পর্শে
আমি
ক্ষয়ে
যাচ্ছি
অবি+
রাম

চোখ বেঁধে রাখলেও স্বাধীনতা আমার
হাত
বেঁধে
রাখলেও
স্বাধীনতা বুনবো তোমার কপালের ভাঁজে
এই বিশ্বাসটুকু তোমায় থমকে দেবে তৃষ্ণার ঘুমে…

আমাকে যতই ক্রীতদাস মানাতে চাও, তাতে কী?

প্রেম এক উড়ন্ত সন্ন্যাস

কীভাবে থামবে মায়াবী ভ্রম?
তোমার অভ্যর্থনা…
সীমানা পাড়ায় উঁকি দেয় দিনের বারুদ
বিদায়ে ঢলে পড়ে রক্তের ফেরারী ঘাম।

রাত্রির তিমিরে কী চাও মহাবীর?
পায়ের শেকড়
হাতের বাকল
বাড়ন্ত শরীর > < আঁকড়ে আছে মমতার জলাধার। মৃত্যু আসে- মৃত্যু যায়। বাকলগুলো আবারও ধরে মাটিরঙ! মাটিপ্রিয় মানুষের চোখ। এই প্রিয়তায়-
ক্ষয়ে গেছে পাহাড়ের বয়েসীকাল…

সিদ্ধি, সেতো ভাতের ফেনা! মায়ের হাতে উড়কিতে তোলা পরিত্যক্ত মাড়! হারিয়ে গেছে প্রথার দিব্য দান, ভক্তির পদ্মাসন।

মহাবীর, সত্যের জপ ভুলে গেছে আকাঙ্ক্ষার প্রান্তর…!
আমরা মানুষ,
গঙ্গার জলে গায়ে মাখি সত্তার অবিরত ভয়!

আন্ধারবাড়ি

যদি হেরে যাই, হাতের তালুতে লিখে দিও অন্ধকার।

শাঁখের আবেশে অগনিত বিকেলকে ঘুম পাড়িয়েছি সন্ধ্যায়। বিবেকের দুপুর, পলিতে জমানো দু পায়ের ছাপ সবই বন্ধক রেখেছি কালরাত্রির গঙ্গায়, যেখানে কেবল মাটির শ্মশান… পাখিদের উড়াল, ঘুরাঘুরি…

মানুষের এই আশ্রয়বেদিতে সকলেই তো নাট্যশ্রমিক। হাসিতে ঢেকে রাখে কষ্টের খামার! মৌমাছি ভিড়াতে বিষাদের ক্ষণকে বানায় নাটকীয় উচ্ছ্বাস!

যদি হেরে যাই, আমাকে শুনিওনা বিরহী গীত। নাচের আসরে ডেকে নিও প্রতিবেশি মধুকর! অমন আসরে আমি চোখের নীচে গড়ে নেব আন্ধারবাড়ি। ডুবে যাবো আরো অন্ধকারে…

উড়ুক্কু

চায়ের চুমুকে ওড়ে এক আকাশ শারদীয়া ফুল!

উড়তে উড়তে-
উড়ুক্কু হয়েছো
হাঁটতেই ভুলে গেছো;
ফুলের কিতাব ছিঁড়ে শান্তির কলমে বুলেট ভরছো সভ্যতার বরপুরুষ!

বিড়ির ধোঁয়ায় মার্কিন যান
সুখটানে তালেবান
কলোনির পাহাড় নাচে আবোলতাবোল-
তলস্তয়ের চোখে!

বাড়ি ফিরলেই নিজেকে ভাবি নাফের নীরিহ স্রোত;
হরিণের বেদখলি পায়ের ছাপ নিয়ত ভাবায়
আহা! সুন্দরি বন ।। বোন আমার
তোর জঙ্ঘা ভেঙেছে হায়েনার কুটকৌশল!

মনে পড়ে-
রহস্যের দশদিক,
বৈভবে হারানো অগুনতি মানুষ!

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: