দ্রাঘিমালন্ঠন

দ্রাঘিমালন্ঠন-৪৮
উৎসর্গ- কবি আসাদ মান্নান, প্রিয়ভাজনেষু)

বহুদূরে চারুকলা ফেলে এসে
আমাদের দেখা হবে আগুন-পাহাড়ে;
এর ধারে সোনালি ফোরাত নদী, এর ধারে
ঘাস থরথর!

কে পারে বলো তো মেঘা
সম্রাটও কি পেরেছে তাহার
মৃত্যুর তারিখ পেছাতে?

বহুদূর গোধূলির গা’য়, ঘৃতকুমারির ঝিরি
গান গায় বনস্পতি, শিলা বৃষ্টির স্মৃতি, বিস্মৃত মাঠ জুড়ে
ভাসমান সব, খড়ের কুটির; সিঁড়ি হয়ে ঝিরিঝিরি
উঠে গেছে, ছায়ার ধনুক মেঘে; মনে মনে হাতছানি দেয়;
পলকে পলক ঢাকে!

শুনে তুমি আশ্চর্য?

মিথের নদীতে নেমে, মেঘের ধারালো ঘাই
অবিহিত ছিঁপে, বধ করে পাহাড়ে ছড়াই;
লিখে রাখি চরাচর, গ্রহের করাল রাত
দিগন্তে জেগেছে ভোর, অচেনা আয়াত!

দ্রাঘিমালন্ঠন-৪৭

যে কথা বলব বলে ডেকেছি তোমায়
সে কথা পথের ধারে জলে পড়ে যায়-
কাহার সে কথাটুকু বাঁধাই-মলাটে
তোমার সে চেনা নাকি? চেনো কি নিজেকে?

কতটা ঝিলম হলো ভোরের বাতাস?
মনে হয় তোতাপাখি শিখছে বাহাস-
হৃদয়-হৃদয় করে সকলে ব্যাকুল
কোথায় প্রেমের তোড়া? কই মশগুল?

যেদিকে এসেছি তুমি, সেদিকে কি থাকো?
মসনবি জপ করা, পাখিরেও ডাকো?
এসব ভাবনা নিয়া মাথার ভিতর
জীবন কাটায়ে দেবে, শোকের পাথর?
জীবন, আঁতশ-কাচে, ঘোলাটে দেখায়
প্রেমিকও দুঃখ চেনে, মাথা চুলকায়!

কতটা ঝিলম তুমি, খোয়াবে এঁকেছো!
সময়, যে বৃদ্ধ, ঋষি, তারে কি দেখেছো?
কোথায় যাবার কথা, থামলে কোথায়?
ভ্রমণ লাগছে নীল, দ্বিধা ও ব্যথায়!

তারপর ডেকারের, ডাবল যে সিটে
একটায় বসলেও, থরথর শীতে
একটা ফাঁকাই থাকে, পাশের আসন;
এমনই শূন্যতাকে খুব প্রয়োজন!

যে-কথা আমল তুমি করোনি হৃদয়ে
সে-কথা নিলাম আমি, নিব কি ফিরিয়ে?

দ্রাঘিমালন্ঠন-৪৬

স্বপ্ন হতে ঝরো বাতাস এসে ভাসিয়ে নিচ্ছে আমায়, এরকম ঘুমের প্রবাহে যতিচিহ্ন লাগে নিজেকে-

তুমি এক মালার ফুলে চিরায়ত, যেনো ফসল ডোবানো বৃষ্টির দিনে বর্শা হাতে বেরিয়ে পড়েছো একা, তোমার মনে পড়ছে মেঘঠুমরির তাল, বাসনাকে ঝরাপাতায় বসিয়ে তুমি ছেড়ে দিয়েছো নদে, সেই থেকে ধানের গুচ্ছে নেমে আল টপকানো মাছের দিকে হাত!

এরকম ঘুমের বিভিন্নতা আমাকে এলোমেলো করে

আর শত অর্ধনমিত স্বর, নেমে এসে কবিতাকে প্রশ্ন করতে থাকে, মায়াবী চিরকুট নাকি মানুষের অন্তর? তত্ত্বকে উপেক্ষা করে তুমি এসে দাঁড়িয়ে রয়েছো নাকি ভাষাবিদ, মার্জিনে?

রেস থেকে ঘোড়াদের খুনসুটি এসে
লোকালয়ে ঢুকে যাচ্ছে, একটা প্রাণপণ দৌড়ের দৃশ্য এসে তোমাকে ধাক্কা দিয়ে জাগায়, আর জিপসী কোনো রমণীর মতো মহাকাশ রাশভারী!

দ্রাঘিমালন্ঠন-৪১

বরই পাতারা ঝরে হামনিশিথে
কোথাও ফুটেছে রোদ, মেন্দি গাছে!

স্নায়ুর বিরাম নাই, টের পায় ঘ্রাণ-
মেঘেতে পিছল খায় কালো আসমান!

এইভাবে বসে থাকি, নিম ফল হাতে
পরনে পোশাক লাল, নিন্দার আঘাতে-
মানুষই দ্রুতগামী, আর সব গতি
বিশ্ববৃক্ষতলে গড়ানোর স্মৃতি!

সাজ্জাদ সাঈফ

জন্ম- জুন, ১৯৮৪, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।
পেশা- চিকিৎসক।
আগ্রহ মূলত কবিতা।
সম্পাদনা- নীহারিকা(রম্যপত্রিকা, ঢাকা, ২০০২, ঈক্ষণ(ছোট কাগজ, ২০০৭, বগুড়া), ক্ষেপচুরিয়াস ওয়েবজিন(সহ-সম্পাদক, ২০১১)

পুরষ্কার- বঙ্গভূমি সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'বর্ষসেরা কবি-২০১৯' সম্মাননা (কবি নেবে যীশুর যন্ত্রণা)

প্রকাশনা- কবিতাগ্রন্থ- কবি নেবে যীশুর যন্ত্রণা (২০১৭), মায়ার মলাট (২০১৯), ভাষার সি-বিচে (২০১৯)  বহুদিন ব্যাকফুটে এসে ( ২০২০), প্রেমপত্রের মেঘ ( ২০২১)

ইমেইল- dr.sazzadsarker@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: