দেমাকফুল // গিয়াস গালিব

অদ্য

সেদিন, শুভ রোদবার
যেন বাউল গানের সহিত পাকাধানে একদৃষ্টে দাঁড়িয়ে ভুখের দুপুর

অতঃপর
একটু একটু পুড়ে ধ্যানীহাওয়া

লেঙটা বৃক্কের আশ্রমে
বসে বসে রাইফেলের শব্দে উড়ে যাওয়া ঘুঘুর আখ্যায়িকা ভাবে, অদ্য।

নাকফুলের গন্ধে

যেন ছোট্টশিশু কুলঘেষে দাঁড়ায় আছে
আত্মীয় আত্মীয় লাগে

তুমি ওড়না একটু ঢালু করে
যেইনা উষ্ণতা ভেঙে ভেঙে সীমানা পার হইয়া গেলা, আমার অধোগামী আয়ু

আকাশের সুনেত্রা
বিধবা নদী
জলের অবয়ব
সাক্ষী
দীর্ঘরাত

আমি তন্দ্রাহীন নাকফুলের গন্ধে, ষাণ্মাসিক প্রহরে বকুলের টোকা দিয়া ভেঙ্গোনা বহুব্রীহি।

দেমাকফুল

বিলজুড়ে ছেয়ে গেছে থৈথৈ ধান
চোখেমুখে লেগে আছে গভীররোদ
সুদূর বাজে মুশকিলে আসান

ফড়িঙয়ের দুপুর পেরিয়ে—

যেইনা সামনের দিক এগোই
পায়রার আহ্লাদী গুটি গুটি বৃষ্টিতে
ভিজে পথের সারাংশ
নাকে বাজে দেমাক ফুলের ঘ্রাণ।

ছিপ

তাহলে ওই আলাপই থাকল
যার যাহ্ আছে তাই নিয়া ছিপ
বিভাসরাঙা মথিত ঝড়
উল্টাগাঙে নোঙর বাই

ঘাটেবাটে উড়োসড় বকঠুঁটো মাছ
সোনার বাংলায় সোনার ফাঁদ
আমি-ই প্রেম, আমি-ই দ্রোহ
আমাকে ঠেকায় এমন পয়দা নাই।

ভোমরা

কাঁটাতার বুঝে না
বুলেট বুঝে না!
সব’চে অশ্লীল ভোমরা মৌ আহার করে

স্বকপোলকল্পিত আচরণে ধরাপড়ে ব্যাঙ

হামেশা (অ)কারণে ভোঁ ভোঁ কইরো না ভ্যাবাচোদা,

ফুলেরমৌ খাঁকতি নেই।

প্রেমিকার সাবলেটে

প্রেমিকার সাবলেটে গুইসাপের মতো প্রায়এক বয়স্ককে ঘুরঘুর করতে দেখা যা। কে উনি, কে-বা হৈতে পারে! আমায় খুব ভাবায়।

প্রেমিকারে কিছু বলিনা
এইজন্য বলিনা —
কোনো পরিস্থিতেই প্রেমিকাদের প্রশ্নের সম্মুখীন করতে নেই।

ঘাইখাওয়া পেরিল মাছটির মতো
বয়স্ক আমার অত্যধিক ভয়

তারপর

গোলোমালে গোলোমালে ঢের দিন চইলা যায়, যেই একদিন প্রেমিকার ঠোঁটে চুমা খাবো বয়স্ক বয়স্ক গন্ধ ।

গোপন দুক্ষখানি

দরিয়ার পানির সঙ্গে নুনের কী-যে এক বেফাঁসরতি, সমুদ্রস্নানের পর লাবনী পয়েন্টে নগ্নাশ্রমে বসে বসে ভাবি।

সুবোধ ঢেউয়ের টিটকারি গুনতে গুনতে
যেই টুকলা থেইকা বাদাম বের করে চিববো এমতাবস্থায় ‘ভালোবাসা কিম্বা ঘৃণা নয়
বরঞ্চ, ‘প্রেম আর দ্রোহ একসাথে চলতে পারে’, বলেছিল মেজো ভায়রা।

অনেক বিরহের পর
স্বীয় যে সফর, সুদূর ঘেরাণ ছড়ায় চুমোফুল
যখন, তুমিনামক গাছের খুঁজে
হৃদ-বীচে হাঁটতে হাঁটতে চিবুকে চিবুক পায়—
এ-যেন আগুনে আগুন ঘর্ষণ/ ভুখ নিবার
নয় এক অভিনব কায়দায়,
দরিয়ার পানি থেইকা জোদা করো।

বাতাসের গামছা

পাখি সত্য, সত্য আকাশ
তার’চে অধিক সত্য মধ্যাকর্ষণের বাইপাস
এতো এতো সত্যের ভিত্রে
ঋতুরাগে বর্ষা আসেনি
হামেশা ক্যান ভিজে দুপুরের টানেল, অমর্ষ পায়ের চাপ

পাহাড় দোলে, নাকি দোলে ক্লাবঘর
মধ্যবিত্ত ছাতের ন্যায় ধরে রাখে যে আয়ু
ডাল ভেঙে ঝরে যায় আড়ষ্টচড়ুই;
ভাবতে ভাবতে—
ঘামে মংহ্ল্যা চাক, সাথে নাইক্ষ্যংছড়ি লেক;
মুছছে পুনরায় ঘামছে
গামছে পুনরায় মুছছে
বাতাসের গামছা দিয়া।

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: