দূরের সফর

দূরের সফর

দূরের সফর নাও ভাসালাম দারুণ সমুদ্দুর
রাক্ষুসে জল ফুলছে ঢেউয়ে মনেও বহুতজোর
আঁধার সাথে মেঘের গর্জন উলঙ্গ চারদিক
লক্ষ-বহুত সামনে ওপার; মানুষের শতো ধিক্।

নাও ভাসালাম নতুন সলিল নতুন নাবিক আমি
বুকের ভেতর দহন-জ্বলা নিশীথও গভীর যামি
আসুক আঘাত, আঘাত এলেও লক্ষ বহুত-দূর
দূরের সফর নাও ভাসালাম দারুণ সমুদ্দুর-

তাড়িয়ে দিলাম রঙের শহর; কালাপানি ঢেউ
আসমান আর জলরাশি বাদ সঙ্গ নেই কেউ,
সফর আমার সফল হলেই- শিশিরস্নাত ভোর
দূরের সফর নাও ভাসালাম দারুণ সমুদ্দুর-

মানুষ থাকে না

মানুষ থাকে না, যা নেয়ার নিয়ে চলে যায়।
পথ নেয়-রথ নেয়, দেহ নেয়-মন নেয়; কিছুই রাখে না, যা নেয়ার নিয়ে চলে যায়।

এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
তুমি কি নেবে!
কিচ্ছুটি নেই আর বাকি…

এবার আমাকে নিতে দাও!
নির্জনে ঝরাতে দাও এক সমুদ্র সলিল।
পারলে দিয়ে দাও তিন টুকরো কাফন;
এতোটুক নাহয় হারলে…

মানুষ হতে কতোটুক দূরে

সুবে-সাদিকে-ই উঠি, নিরব কূজন
শয্যা রয়ে গাছে-গাছে-বনে মনে খুঁজি,
কোথায় মানুষ, পাখি? কোথায় সৃজন!
পরখ পরেই পাখিডাক ভাসে; বুঝি__
আমিও পাখি- জীবাণু; মানুষ কেমন?
মানুষ কেমন শুধু? “শুধু-ই লাফাই”
সূর্যোদয়ে স্পষ্ট ধরা; একি অবেক্ষণ!
আজব ব্যাপার ঘটে, কি-সব হাঁটাই?

নখদর্পণে সুরত দেখাই বিশদ
নই পাখি ও জীবাণু, তাহলে মানুষ!
সুরত পেলাম এবং হলাম এ নদ
সন্দেহ জাগে তথাপি, এসবে মানুষ?

দিন যায় রাতে আসে প্রশ্নগুলো ঘুরে
মানুষ হতে কতোটুক; কতোটুক দূরে!

এবার সামাল দাও

সকালের কাঁচা রোদ কত লাগে ভালো,
কতটুকু থাকেই বা সময়ের দৌড়?
কতটুকু থাকেই বা সময়ের জোর?
ধীরে-ধীরে ফুটে ওঠে কালোময় কালো।
নিভে যায় উবে যায় ক্ষণে-ক্ষণে তাল;
কেন তবে টেনে নিবে ধূসরিত ভোর?
কেন তবে হাঁফাহাঁফি ধুলোহৃদ তোর?
ঘোলাটে সে পাণ্ডুলিপি হয়ে যায় ভালো।

দেখে দেখে বুঝে বুঝে; চশমা দ্যাখো চোখে,
ঘোরাঘুরি করে করে হাতে দ্যাখে লাঠি;
সময়ের ধারাপাতে কবরে-তে ঘাস।
এবার সামাল দাও, তালা মার মুখে,
জায়নামাজে শেষপ্রহরে গুন তাঁর কাঠি ;
দিনশেষে পেতেও পার: স্বর্গীয় সু-বাস।

সূর্যোদয়

আপনার অপেক্ষায়, মেঘাকাশ আজ-
দেখেন কেমন ঝলোমলো রূপ তার
ঝিলিমিলি তারা যেন, প্রফুল্ল উদার
আপনার অপেক্ষায়, প্রেমময় সাজ!
দখিনা হওয়া তুলে, শিহরণ ঝাঁজ-
উন্মুক্ত আকাশে ভাসে, কৌতূহলী ভার
আপনি এখনো নাকি কারাগারে কার!
তৃষ্ণায় ফেটে পড়বে তবে কি এ রাজ?

শপথ এ আপনার, নীল হলো ঠোঁট
শপথ এ জোছনার, বলিনি তো ঝুট।

আমি জানি আপনার পোড়ে মন রোজ,
শয়নে স্বপনে ঘোরে, আকুল- হৃদয়।
এই রাতে হবে তবে, আপনার খোঁজ,
প্রেমের-পরশে দিলে, হবে সূর্যোদয়।

স্বাধীনতা

দিনমান বৈরী হাওয়া কর্ণে ঢালে বিষ,
নিরুপায়-অসহায়, মুখেতে কুলূপ।
মৃত্যুর সামিয়ানায় বাঁচার এ ঝোঁক,
কতটুকু রাখা যায়! কতটুকু শীষ?
ছলোছলো আঁখিজলে নেমে আসে ঘুম,
যামিনীতে ভাঙে ঘুম-দুঃস্বপ্নের শীত।
ঘর্মাক্ত জিগারে ত্রাহি, মরণের ভীত,
স্বাধীন কোথা হলাম? মৃত্যুর এ রুম।

ন’মাসের রক্ত মোর, যোনি ফাটানাদ,
শুধু শুধু বৃথা গেল! আজো আর্তনাদ।

সুরেলা কূজন আজ বুলেটের মত
নব বধুর চুমুতে ফেড়ে যায় বুক;
স্বাধীনতা তুমি আজ ধূর্ততায় নত
এখন পালিত হয়, স্বাধীনতা শোক।

আমি কি ভীত

পাতারা ঝরে যায়/ঝরে যায় পাতা;
নিভৃতে থাকে পড়ে কিছু শাখা-প্রশাখা।
কেমন যেন জিগাগাছ প্রাণ পেয়েও মৃত
এসব কেনো চোখে ভাসে আমি কি ভীত!

জলেরা ঢেউ তুলে/ ঢেউ ওঠে জলে;
হেমন্ত শেষে কেনো..জলেরা শুকাই!
এতো এতো আলো রয়েও কালো রয় থিত
এমন কেনো আমার মনন আমি কি ভীত!

ঢেউয়ে ঢেউয়ে তীর ভাঙে / তীর ভাঙে ঢেউয়ে;
একূল ভাঙে অকূল গড়ে কে রয় পিছে দাঁড়িয়ে!
এতো এতো মুকুল ফোটে, কতো হয় বুঝি ঋত?
মগজে কিসের এতো পীড়া আমি কি ভীত!

ভয় লাগে কোনো? কোনো? এ প্রণালি আমাতেও ব্রত?
আদতেই কী তাহলে আমি;
আমি কি ভীত!

চাপা-ব্যথা

চাপা-ব্যথা রুদ্ধ-কন্ঠ শেষে
টুপটাপ অশ্রুবিন্দু,
সময় অ-সময়ে হয়ে যায়
সাগর কিংবা সিন্ধু।

কখনো কখনো এমন আবার
দৃঢ় প্রাচীরের বাঁধ,
প্রাচীরের ও-পাশে থাকে জমা
ক্ষত-বিক্ষত খাদ।

নম্ফোদ্র দিলাওয়ার

 
জন্ম ৩০-ই আগস্ট ২০০১, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ। 
কবিতা ও মুক্তগদ্যে জীবন খুঁজে বেড়ানো মানুষ।
সম্পাদক - চিন্ময়
ফোন - ০১৯৯৬৩৭৬৭১৬
ইমেইল - mohammaddilawarhossain@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: