দুধভাত কবিতা

আমি তো কবিতা লিখি স্যার

আমার নাক বরাবর ভদ্রলোক
আবহমান বাংলার নৌকায় চড়েন
বাংলায় কথা বলেন, বাংলা গান করেন
উদার এক লাল সবুজের নদী হয়ে উঠেন

ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন যে ভদ্রলোক
উনিইতো সবুজ সোনালি ধানের চাষ করেন
লাঙলের ফলায় খুবই মায়ার কায়ায় ফসল

ভালোলাগে- খুবই জরুরি ভালোবাসা বন্ধুগো

ডানপাশের ভদ্রলোক উনি অদৃশ্য এক শক্তি
দাড়িপাল্লা নিয়ে বণিক চেয়ারে বসে থাকেন
ভীনদেশী প্রোডাক্ট কেনাবেচা করেন- ঠকান

বামপাশের ভদ্রলোক ও দেশেই থাকেন
দেশের কথা হয় ভালোবাসেন লাল দল
রাজপথের মহান শ্রমজীবী মানুষের কথা
ভদ্রবাড়ির কেউ কেউ রাতের অন্ধকারে
হয়ে উঠেন চায়না প্রোডাক্ট দালাল চক্ষু

ঘেন্নাপিত্তি- প্রতিবাদ মহামান্য আদালত থু

অতঃপর
কারো গহীন বনে সুন্দরের ভাগ বসাতে চাইনি
আমি কবিতা লিখি লিখতে হয় তাই-
বই চুরি করেছি বউ চুরি করিনি করবোও না
কবিতাই লিখতে আসছি ছলা গল্প করতে নয়

দুধভাত কবিতা

কোথাও উঁচু কোথাও নিচু
স্বরে বা সুরে শালিকের ওড়াউড়ি
উড়ে অন্যরাও- প্রবল আস্থা

দূরের আকাশ দূরে রয়
দুধভাত মন্ত্র পড়ে ঋষি পাখি
গোল হয় মানুষের চিন্তা

ঘোরে অঘোর সম্পর্কে ভাটা পড়ে
ফিরে আসে রূপালি সন্ধ্যা প্রিয়তু

এখন শালিকেরা ফিরে তীরে উঠে
অন্ধকারে শালিক মানুষ বন্ধু হয়
ভেদাভেদ হয় ঝগড়া হয়- মানুষ

কিছুই ভালো লাগেনা

চারপাশে শুধু দেখি কুবেরের ধন রক্ষক
মান রক্ষক দেখিনা, নেই কোথাও নেই

কিছুই ভালো লাগেনা
কি বলার আছে- পথিক
দূরের গ্রাম পথ ধরে হাঁটি
মুচকি হাসি হাওয়া খাই

ভাবছি একটা গ্রাম কিনবো
মান রক্ষক নিয়োগ দিবো

এখন
ধন ধোনে যাক কিচ্ছু যায় আসে না

মিস ইউ

খুব কী জরুরি এখন এমন প্রস্থানে প্রিয়তু
পাঠে অপাঠে কিছু সময় থাকতেই পারতে

আজ আহ্ কী মায়ায় কায়ায়
কিছু মেঘ বুকের বাম পাশটায়
খুব করে কাতরাচ্ছে কাঁদছে
এই শাদা শূন্য রাত বিরাতে
যুগল স্রোতের পাল তাড়িয়ে

এই বেশ ভালো নেই- এখন
মুখের ব্রুন ও চোখের নিচে কালো দাগ
সেই সাথে ভালো নেই হাত ও পায়ের নখ
ভালো নেই, মন খারাপ করতে নেই

ভালো নেই পাশে আছি এইসব কথালিপি
ভালো নেই ভালো নেই ভালো নেই
মনে পড়ে মনে করে যাপনের সুখ…

ফানুস উৎসব থেকে বলছি

শাদা কালো ফ্রেমে আমরা পাতাদের গান করি
দেখি শৈশবের দৈত্যদের বেভুল অসতর্ক প্রেম
দেখছি তুই তুমি আপনি সময় সতর্কে কৌশল
ভাবছি পাখাঝাপটায় সম্পর্ক কতোটা অসহায়
দেখছি সোনালি ফুল রোদ বৃষ্টি হচ্ছে অনবরত
দেখি শরীরের আড়মোড়া ভাঙন গতিবিধি স্বর
শুনছি হাওয়াদের কামছলা অতীত কথার গল্পে

অতঃপর তাহারা সুখে-শান্তিতে
সহবাস বসবাস চাষবাস করছেন
প্রাগৈতিহাসিক সময় ধরে

এখন
দেখি এইসব মৃত ফানুস উৎসব অনুষ্ঠান

কবিতার কবিতা

বহুকাল শূন্যতায় আমার একাকী জীবন, আমি পুরোহিত হতে শিখিনি, শৈশব ইশকুল আমার দুধের পেয়ালায় সাপ পোষার এক গল্প মাত্র, এখন আমি আমার শৈশব কেটে যৌবনে। নিশ্চয় অবগত, ইশকুল বদলে গেলো, আমার খাসিলদ বদলালোনা, শুধু সামাজিক একটা পরিচয় হলো। কিছু সময় পর আমি বাবা হলাম, রক্ত ও মাংসের ব্যবহার বুঝতে চেষ্টা করলাম, কেউ কেউ বলতে লাগলো মহান পুরুষ আমি, অনেকে ভিন্নমত পোষণ করলেন ”খচ্চর পুরুষ” আমি ইতিহাস ও ভূগোলে গেলাম, সেই সাথে বুঝতে চেষ্টা করলাম মহান পুরুষ আর খচ্চরের ব্যবধান, কিছু সময় পর আমি শূন্য মগজ নিয়ে ফিরে এলাম। খরচের খাতায় পড়ে গেলো আমার সময় ও শ্রম।

জহির খান

জহির খান

জন্ম- ১ জানুয়ারি ১৯৮১ 
আগ্রহ - কবিতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণ
সম্পাদনা – রাস্তা (শিল্প সাহিত্য বিষয়ক কাগজ)
প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ : অননুমোদিত কবিতা, নিয়মের কোন গতিই মিথ্যা না, অভ্যন্তরীণ কবিতা 
প্রকাশিতব্য কবিতাগ্রন্থ - খান সাহেবের কবিতা
ফোন- 01712500916, 01612500916
ইমেইল - poetzahirkhan@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *