জুতা বিষয়ক ভাবনা // শাহীন তাজ

ভাবনা

হাওয়া
কথার সুরে দিও বিন্দু তাল
উড়ছে হাসি উড়ছে খুশি
উড়ছে চুলের এক মুঠো জঞ্জাল

জলে
সিম্ফনি কার ভাসছে পানা পাতা
উড়ছে মেঘে বৃষ্টি নামার ছাতা
বনের পরে বনের ছবি রাতা।

মাটি
বুকের ভেতর আঁকড়ে ধরে রাখি
যা দেখছ নয়তো মেকি রাঙা
গমের শিষে তাবৎ কাঁপন বাকি।

আগুন
কোকিল ডাকা অমর্ত্য এই ফাগুন
ভাব বিনিময় দুটি পলক পড়ে
এই কামনা আমার প্রেমে জাগুন।

জুতা বিষয়ক ভাবনা

হাওয়ার দ্রাঘিমাকলে উড়ে যায় পাখির দল
তাদের কোন জুতো লাগে না
তারা জানে না তার মূল্য~ যেহেতু মানুষ না

আমার এক জোড়া জুতো আছে
তবুও পাখির মতো উড়তে চাই মেঘের দেশে
অথচ যে পায়ে জুতো গলে তার দেহে থাকে না ডানা
এই এক অলীক সত্যে চেনা পথ হলো অচেনা।

পৃথিবীতে একমাত্র জুতোই সত্য
একমাত্র মনুষ্য পা জানে জুতোর মূল্য
জুতো জোড়া জানে পায়েই তার শেষ ঠিকানা।

তবু কথা থেকে যায়, ভাষা থেকে জন্মে অজস্র প্রশ্ন
মানুষেরা কেন বুঝে না কেন জানে না
জীবন ভাষ্যে জুতো নয়, একমাত্র মানুষই সত্য।

মেসার্স ঝামেলা কিনি

এই অবসরে হাঁপিয়ে উঠছে যাঁরা
চলে আসুন আমাদের বহুজাতিক আউটলেটে
আমরা খুব সাশ্রয়ে বিকিকিনি করি উঠতি বোঝা
মা কিংবা বাবা, ভাই কিংবা বোন
এখানে ছেড়ে যেতে পারেন আত্মার স্বজন
‘মেসার্স ঝামেলা কিনি, ২/৪ জেলখানা রোড’

আমাদের আর কোন আউটলেট নেই, শুধু-
এই ঠিকানায় মেলে শৈশবের অবাধ্য প্রেম
এই ঠিকানায় খেলে পায়চারি করে আসা কিশোর বয়েস
এই ঠিকানায় পাবে রোজকার মাতাল যৌবন
ঘরের একটি পরিত্যক্ত জীবনের বয়ান
মায়ের বকা, বাবার শাসন
এখানে মেলে সম্পর্কের বিশ্বাস কিংবা ফর্দ হিসাব
মনে রাখুন,-‘মেসার্স ঝামেলা কিনি, ২/৪ জেলখানা রোড’

চলে আসুন চটজলদি সবার আগে
তারপর দেখুন, সব ফিনিশ। আত্মা কিংবা সম্পর্ক।

ঘুম কেন ভাঙে

রোজ কেন ঘুম ভাঙে-
একদিন নাইবা ভাঙুক অনায়াস সত্যে
একদিন সুরেলা পাখি না বসুক মগডালে
না খুলুক গানের ছিপি প্রিয় গাইনের দল
রোজ কেন রাজকার্য ভেবে ঘুম ভাঙে
গুম হওয়া শান্তি রেখে পাখিরা গায় আনন্দম আনন্দম।

আমরা স্বপ্ন ঘুম প্রিয় জাতি
তবু রোজ কেন অনিদ্রা আসে
একদিন একটানা ঘুমে দিনমান গেলে গেলো
একদিন রাজকার্য ভুলে না ভাঙলো ঘুম
কার কী তাতে! সব চোখ বন্ধ যখন!

দরোজায় ওৎ পেতে আছে একজন কড়া মাস্টার
সব ঘুম গুম করেছে আত্ম-উন্নয়ন
সমস্ত জগতে সব প্রিয় মুছে মুছে হলো শেষ।

তোমার মনে

তোমার মনে দুঃখ এলে নীরবে
পাখির চোখে পাথর গলে জল এলে
হ্যাঁ ঈশ্বর, আমায় ডেকো;
হাজার অযুত হাসি এনে ভরিয়ে দেবো।

তোমার মনে কু ডাকলে সৌরভে
কামিনীকে লাগলে মলিন ভৈরবে
হ্যাঁ ঈশ্বর, আমায় ডেকো
যতেক পারি মন্ত্রণা সব ছুটিয়ে দেবো।

তোমার মনে বাঁধলে বাসা কষ্ট চিল
আকাশলীনার বুকে রাখা অনন্তনীল
হ্যাঁ ঈশ্বর, আমায় ডেকো
আনন্দ দিন এনে সকল গুছিয়ে দেবো।

তোমার মনে আসলে ব্যথা অন্ত্যমিল
কবির প্রলাপ গভীর নুনে খুঁজলে দিল
হ্যাঁ ঈশ্বর, আমায় ডেকো
ব্যথার প্রলেপ গায়ে মেখে ঝেটিয়ে দেবো।

তোমার মনে গহন কালো আঁধার এলে
সুরমাকালো চোখের ভাষা হারিয়ে গেলে
হ্যাঁ ঈশ্বর, আমায় ডেকো
জোনাক পোকা থোকায় থোকায় রেখে দেবো।

তোমার মনে জমলে মেঘের ঘনঘটা
হারিয়ে গেলে বর্ষা প্রেমে ময়ূর ছটা
হ্যাঁ ঈশ্বর, আমায় ডেকো
তাড়িয়ে দিয়ে ভয়ের পিশাচ ভরসা দেবো।

আমি তেমন ষন্ডাপান্ডা কেউ গো নই
ভালোবাসার ব্রাত্য আমি~ বাইরে রই
তুমি রোজই মধুচক্রে দারুণ মৌ
গোপন করে বসাও চাকু ডাকুর বৌ,
হল্লা করে বিঁধাও ছুরি ত্বরিত বুকে
দারুণ প্রেম মরছে আমার ধুকে ধুকে।

আমাকে কে একবিন্দু আগুন দিবে শীতের রাত?
মনে মনেই রাত পোহাবে, কারাবাসে হোক প্রভাত।

শাহীন তাজ

জন্ম ২ জানুয়ারি, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ। 
পেশায় কলেজ শিক্ষক। 
আগ্রহ কবিতা, গান, ছড়া ও কথা সাহিত্য। 

ওয়েবজিন সহজাতের উদ্যোক্তা ও নির্বাহী সম্পাদক। 

প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ- 
আমার প্রথমা (২০১৪)

কবিতাগ্রন্থ- 
সেলাইকল (২০১৮) 
স্মৃতিগন্ধনগর (২০২০)

মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: