ছায়া // শোয়াইব শাহরিয়ার

ছায়া

এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছায়া সরে যাচ্ছে। আমিও যাচ্ছি ঐ ছায়ার পেছনে৷ ছায়া স্থির। আমিও স্থির। ছায়া সরে যায় ফের। আমিও ছুটে যাই ফের।

ছায়া
ছুটছে,
আমিও
ছুটছি…
ছায়া
ছুটছে,
আমিও
ছুটছি…

ছুটতে ছুটতে, ছুটতে ছুটতে ছায়াকে বললাম, সর!
তারপর থেকে আমি কোনোদিন আমাকে দেখতে পাইনি!

প্রবাহ

তুমিহীন আমি এক তৃষ্ণার্ত দুপুর
জীবনের চিত্তে তুমিও কি তা?
…তবে, একটু দাঁড়াও
একটুখানি বৃষ্টি হয়ে নামো
এটুকু সেবা পেলেই—
হৃদয়ে শীতল ঝর্ণা প্রবাহিত করবো!

স্বপ্ন

কর্কটে মায়ের প্রস্থানে ঘরটাই কবর হয়ে যায়—!

এদিকে প্রিয়তমা, তুমি—

বাড়ির দিকে আসতে চাচ্ছো। অথচ অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছি! বারবার বলছো, ‘ওটাই তোমার বাড়ি। চলো, ওদিকে যাই।’ আমি তবু অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছি!

এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে,
আমি একদিন সন্ন্যাসী হয়ে যাবো!
আর প্রিয় মানুষের প্রস্থানে—
তুমিও সন্ন্যাস জীবনের স্বপ্ন দেখতে থাকবে!

নিবারণ

তোমার দিকে যেতেই পালাচ্ছো
যেন ক্ষুধার্ত বাঘ তাড়া করছে তোমায়!

বনমল্লিকা, পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাও
বাস্তবে বা অবাস্তবে
স্বপ্নে অথবা দুঃস্বপ্নে
শুধু তোমার দিকেই যাবো।

যেতে যেতে একদিন বাঘ হবো
আর ক্ষুধা নিবারণে—
গোগ্রাসে গিলবো তোমার দেওয়া সমস্ত অবহেলা!

আম্মার জ্বর

আমাদের পরিবারে দুঃখ লেগেই থাকতো—!

সন্ধ্যায় কেরোসিনের অভাবে আলো জ্বলতো না।
প্রায়ই এমন হতো—
চাল থাকতো না
রান্না হতো না
আমরা না খেয়ে থাকতাম!

বৃষ্টি পড়তো—
টিনের ফুটো দিয়ে
মাটির দেয়াল বেয়ে;
হালকা বৃষ্টিতেও
হালকা বাতাসেও
আম্মার তুমুল হৈচৈ ছিল!

আমরা ঘুমাতাম
আম্মা তখন ছালে!
আম্মা তখন ভেজা
আম্মার জ্বর আসতো
আমরা টের পেতাম না!

আম্মার এখন জ্বর আসে কিনা জানি না—
তবে, আম্মার অভাবে আমাদের জ্বর আসে, টের পাই না!

সম্প্রসারণ

আমাদের ডানা থাকবে। আমরা উড়বো। মেঘের ভেতর দিয়ে ঢেউ হবো। ঢেউ হলে ভিজে যাবে পথ; বাড়বে ভালোবাসার জোয়ার!

একদিন হয়তো আলাদা হয়ে যাবো। কোনো অভিমান, কোনো ঘৃণা থাকবে না; বেদনাহত মারাত্মক স্মৃতি থাকবে!

মন্দ নয়, মন্দ নয়!
ভালোবাসার দুটি ফুল হয়ে—
স্মৃতির ভেতর বাড়াতে থাকা হৃদয়ের সম্প্রসারণ
মন্দ নয়, মন্দ নয়—!

গ্রহণ

তারপর—
মাংসপিণ্ডের লোভ সামলাতে না পারা কুকুরের
অথবা স্মৃতিতে দায়বদ্ধতা না থাকা শুয়োরের প্রতি
তোমার মায়া জন্মাবে!
দূর থেকে বটবৃক্ষ হয়ে সব দেখবো
মনে হবে অন্ধ
অথচ আরশে আজিম থেকে নেমে আসা ছায়া!

তারপর—
একদিন ক্লান্ত হবে;
সূর্যের মতো ডুবে যেতে যেতে
একটি শিশির বিন্দুর মতো টলাতে টলাতে
টুপ করে পড়বে আমার বুকের উপর;
ঠিক তখন, হাজরে আসওয়াদের মতো—
গ্রাস করে নেবো তোমার সমস্ত পাপ ও অন্যমনস্কতা!

শোয়াইব শাহরিয়ার

শোয়াইব শাহরিয়ার
২৮শে এপ্রিল, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার অন্তর্গত পূর্ব ইলশা গ্রামে জন্ম।
পেশায় ছাত্র। আগ্রহ কবিতায়।
প্রকাশিতব্য কবিতাগ্রন্থ – কপালের কৌতুক (২০২১)
ইমেইল - shoaibshahriar99@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: