গোহারি কিংবা লেখা // সব্যসাচী মজুমদার

গোহারি কিংবা লেখা

আজও তো ঘূর্ণায়মান
বাগানে চাঁদ উঠেছে
নদীটির সাপের মতো
নূরাতীত প্রমায় মেশে

তবে কী সমান্তরাল
কূহকের যৌন সাড়ায়
পাল্টালো প্রাতিষ্ঠানিক!
ঋতুপথ অরণ্যে যায়!

তৃণহীন ঠাণ্ডা রঙে
লকলকে চঞ্চলতা
জমিতে কী জান্তবে
সন্তান যে সমঝোতা

কাঙাল

নির্জনতার একটা নিরলস আছে
গোখরোর গন্ধের মতো
ক্রমাগত ইনিয়ে বিনিয়ে পথের ভেতরে ঢুকে পড়ে

অস্পষ্ট চাঁদের ঘ্রাণ চলে গেল
মাতৃহত্যার দিকে
ফুলে তখন অনেক প্রতিক্রিয়া
মরে যাওয়া মেয়েদের যোনির ওপর ঝরে পড়ে
পিঁপড়ে
এই
শুভকালে
ঋতুপর্ণ হয়ে আছে কাঙাল জনতা

প্রত্নাতীত

জীবন্ত শিশুর ভাষা বলতে গিয়ে নবী
হারিয়েছে রমণের প্রত্নাতীত ছবি
হারিয়েছে রেণু আর মোকাম গড়ন
চারিদিকে কলস্বর চন্দ্রঘন রণ
ছিন্ন হাত রিক্ত মাথা ঝলসে যাওয়া ঘিলু
ম্যানগ্রোভে বংশী ধুন। রাগ:মিশ্র পিলুঁ

উজানে মেলার আলো। ঋদ্ধিকামী শব।
এসো হে, ওড়াও দগ্ধ ঝিলির আতপ
মহৎ রোদন নাকী যৌনতম ঘর-
কোনদিকে যেতে পারে এসব আদর
সমূহ বুঝেই তুমি ধৃত সম্মোহন,
লহরে লহরে একা খুঁজেছো জঙ্গম

জনপদে তীক্ষ্ণ হয় অন্ধফণাস্রাব
প্রমাকষ্টে শিশ্ন সাজে পিতার প্রলাপ

হিরণ

তবে কী তুমিও হিরণ চেনো না!
এই যে একপাল জীবনের মতো হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছি তোমার সঙ্গে। কিন্তু তুমি জানো না, মানুষ দেখলে আমার লিঙ্গ জন্মায়।

নদীটি বাঁওড়হীন তোমার ভেতরে ঢুকে এসব ধুতুরা পুঁতে আবার বেরিয়ে গিয়েছে গোসাবার দিকে। কেননা তোমার শরীরে আফরোজা। তোমার শরীরে মশাদের পরিত্যক্ত হুল। এভাবে রোমাঞ্চিত হই আমাদের রোহিঙ্গা যোনিটুকু পুরোহিত হয়ে যায়। তোমার ধ্বনিটি যেন কৃকলাস ও ছাগলের চামড়ায় ভরা জননীর ভেঙে যাওয়া জল।
এসব সময়ে সূর্য থাকলে ভালো হতো। পথে পথে ডোম ও মাংস ছড়িয়ে আছে। পথে আছে শেয়ালের কংকাল।পরজন্মের হাঁড়ি।
হত্যার পরে আমি চাষ করতে পারি।

প্রচোদয়া

শিরোধার্য করে রাখি নলিকাটা আঁখি
শিরোধার্য বসন্তমেহন
জননীরা নক্ষত্রের স্তন ছিঁড়ে এনেছে এনেছে আর আমি খাই ব্রম্ভাণ্ডের মাছ।তার ঝিল্লি থেকে গড়িয়ে পড়ছে জীভ ও বিসর্জন। পৃথিবীর প্রতিটি তণ্ডুল জানে ক্রমশই ক্ষয়ে যায় জ্বীন ও মধুমালবিকা।

শিশু কুকুরের শবে বৃহন্নলা তাকিয়ে থাকলে আমার লিপ্যন্তর ঘটে।তারপর সবার জলের শেষে ভেসে গেছে অসুরের দাগ। ভেসে গেছে কীরাতের ভাষার ধারণা।

অনপেক্ষ

একটা মানুষের মৃত্যু হলেই রোদ ভরা ক্ষেতে দেখি পড়ে আছে আপিলা-চাপিলার ঘিলু।একটা মানুষের মৃত্যু হলেই আমাদের বসতির মানুষেরা নেমে পড়েছে রাস্তায়।যে রাস্তার ছিলো না ক্যাওয়াজ।
আমাদের সমস্ত মৃত্যু আসলে উপাংশু।
কেঁচোর ভেতরে জন্মায় ছোবলের নেশা
নেশার ভেতরে ছাতিমের গাছ আর দীর্ঘতম নৌকো পড়ে আছে সূর্যাস্তের গায়ে।
দ্রাঘিমার মৃত্যু হলে হত্যাকারীও জন্মায়
বাড়িটিতে তার লেগে আছে নুন বিছানার গায়ে। সে রং থেকে বেরিয়ে আসে ছিন্ন গরুটিও।চাঁদ ঝরে পড়ে শিঙ থেকে।ভেজে বিমূর্ত লাশের গন্ধ।শুনি বউল ঝরেছে পুনঃ তাহার উঠোনে।কে তার হিন্দোল জানে!কে জানে হৃৎকার!গণসারিন্দায় কেবল বেজে ওঠে তিমিরাভিসার।
গর্ভিনী উঁই চাটে বৃক্ষের স্বাদ। তারপর লিপি লুপ্ত হয়।
কমিউনের মৃত্যু হলে যোনিপ্রেত যুবকের গুলিবিদ্ধ ছড়ায়।
অনুক্ত কষাকের মতো আলোর একদিনে বুঝে ফেলি এসব রোমাঞ্চমালতী।

এরপর থেকে আমাদের নো ম্যান্স ল্যান্ড নেই।নদীরমণে নেই কোনও মনস্তাপ।

আত্মভূক

শব্দ নয়
শব্দ নয়
জন্ম নেয়
আত্মভূক

জঙ্গলের
দৃশ্যহীন
দাঁত নখে
অন্নসুখ

ডাইনিরা
নৃ খোঁড়ে
টলটলায়
দুগ্ধবুক

দুগ্ধমুখ
কার ফণায়!
কার কোথায়
আত্মভূক!

শব্দ নয়
শব্দ নয়
জন্ম নেয়
আত্মভূক…

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: