গোলাপের অববাহিকা ও অন্যান্য কবিতা // পিয়াস মজিদ

চাঁদের বুড়ি

চাঁদের বুড়ি রুটি বেলেছে রাতভর;
সেই আলোতে ঘুমন্ত পৃথিবী
রান্না করেছে
হাসির ফোয়ারা,
কান্নার কারুকাজ।
সূর্য উঠল;
এখন সব খাবার
বিতরণের পালা।
চাঁদের বুড়ির কথা
কেউ আর মনে রাখে না;
যদিও দিনের পৃথিবীর
দিকে দিকে
রাতভর তারই বেলা
রুটির ভাগ-বাটোয়ারা!

প্রথম প্রেম

রাত্রি থেকে দূরত্ব কত
ভোরের!
জীবন থেকে যেমন
মৃত্যুর!
ভোর হচ্ছে রাত্রির
পহেলি পেয়ার।
মৃত্যু যেমন জানিয়ে যায়-
এতদিন বেঁচে থাকার সওগাত;
‘শেষ নিশ্বাস’ আসলে
সুন্দর পৃথিবীর প্রতি
চলে যাওয়া মানুষটার
পহেলি পেয়ার।

গোলাপের অববাহিকা

জলপটে যে ফুল
অনলকুসুম
তোমার নিভৃত নৃত্যের জোগানদার।
স্বপ্নকেশ বেণি বাঁধে
বাস্তবের,
এমন অন্ধকার স্মারকপত্র
মুদ্রিত গদ্যদেশে
কবিতাপাহাড়ে
বেঁচেবর্তে থাকা জারি রাখা।
গ্রামোফোনের গ্রাম থেকে
স্বপ্নদোষের শহরে
যেমন
নগ্ননীল
যেমন
মগ্নমীড়।
সুরের পল্লবে
ভেসে যেতে গিয়ে
কার খোঁপায় বাঁধা
আগুনের জোয়ারে
খাক হতে হতে
বুঝে নেব কাল
যা ঘটে থাকে
গোলাপের লাল অববাহিকায়,
তার কোনো শুমার হয়না
সংখ্যার দুনিয়ায়;
তবু কার আলো এসে লাগে
কালো শার্টের গায়ে!
অশ্রুর আশ্রমে
যা কিছু জমাখরচ
রঙিন কান্নার দুনিয়াদারি।
বলো,
আমার এমন আমিহীনতার
কোন অবদানকে
তুমি অস্বীকার করবে?

কবির কান্না

এই যে অনাথ রাত;
আমি তার ঘোড়সওয়ার।
ভুলে গেছি আস্তাবল,
নিকট-সুদূরের
গন্তব্যপুরাণ।
ছুটে যাওয়া-
যতদূর বাস করে
কান্নার কারাভান।
লোরকার গ্রানাডা থেকে
কে পাঠিয়েছে
লিলির পসরা!
তবে কি আমারই জন্য
সমস্ত সুবাসের সত্ত্ব?
কফিনের বাক্সে
আমার দেহাকারে
শায়িত, সে তো
পিয়ানোর মৃতদেহ;
যদিও শব্দের শবে
আমার জন্মের
শেষ নেই কোনো…

বেঁচে থাকি জারি রাখা

এই পারাবারে
এত খরার অভাব!
প্লাবন ঠেকানো
এখন কাজ।
ঈশ্বরীর রক্তের ঘ্রাণে
এই যে মানুষের
বেঁচেবর্তে থাকা
জারি রাখা,
গার্বেজের বিউটি
দেখে যাওয়া;
নিষিদ্ধ মল্লারে
পুড়ে-ভিজে
জীবনের দিকে
বাড়িয়ে দেয়া
মৃত্যুকামী গানের গলা…

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: