কৌতূহলের ক্ষেত্রফল – আশির ব্রত চৌধুরী

ঠিকানা

পদছাপ ধরে ধরে আঙিনা চিনেছে নদীবাঁক
তোমার প্রবাসতীর্থে ভেসে আসে শেয়ালের ডাক
হাতের গোধূলিখেলা অগ্নি চেনে তবলার বোল
সমগ্র জীবনজুড়ে মানচিত্রে আবোল তাবোল।

আমার নিবাস নেই বুকজুড়ে উড়োসুতো টানা
সাগরে সফেদ জল পাখি উড়ে অনন্ত ঠিকানা
আততায়ী আলো চেনে দেয়ালের পেছনে ফিসফিস
শিকারী আনাড়িজন কত গুলি হয়ে যায় মিস।

বিচ্যুতি কালোদাগ প্রস্রবণ চিনেছো তুমিও
স্বপ্নরেখা হাতছুঁয়ে আমাকে সাকিন গড়ে দিও

সঠিক অভিধা

কে কার শক্তি যোগায় উনুনের জলন্ত অঙ্গারে
অতএব, যাবতীয় স্তব, আক্রোশে মেলেছে নিবিড় পরিখা
ধার নাও স্মৃতিচিহ্ন, সুকোমল হাতের পরশে।

কে জানে এমন হবে
দূরত্ব ক্রমেই অন্ধগামী।

সর্বনাম ভেদ করে চিনে গেছে সঠিক অভিধা।

ঘৃণার বসতি

নিবিড় হওয়ার আগে ভুল হয় শ্যামল মুখশ্রী
আগ্রহ একধরণের সুবোধ কবিতা
গুঞ্জনকে পরাশ্রয়ী করে লাভ নেই।

যারা ফাঁদ পেতে রাখে, তারা অপেক্ষার রাত
দীর্ঘায়িত করতে পারে।
নীলকন্ঠ হয়ে থাকতে, কসরতের মুখাপেক্ষী হয় বারবার।

সে সব পুঁথিসামগ্রী আজগুবি গল্পের দোয়াত।
সুজন কখনও ঘৃণা ছড়িয়ে রাখে না।

কৌতূহলের ক্ষেত্রফল

ঝাপ ফেলে দিলেই যাবতীয় চোখেরা সক্রিয় হয়ে উঠে।
আসলে গুচ্ছ থেকে আদর্শ ফুল চেয়ে নেয়ার কোনো মানে হয় না।
কারণ, বিরামচিহ্ন উপযুক্ত জায়গা চেনে।

বর্ধিষ্ণু গলিপথ কোন আঙিনায় গিয়ে থামে, তা দেখার দায় আমার নয়।
কৌতূহলের ক্ষেত্রফলও আঁকা এত সহজ নয়।
তবুও, হিমচূর্ণ গায়ে দিয়ে বসে থাকি, অলৌকিক আলোর প্রত্যাশায়।

ধারণাকে উঠোন দিও। জলে খেলার জন্যে কতটুকু জলের দরকার,
পরিণত মাছ, তার হদিস কাউকে বলে যায়নি।

শিকারী প্রবেশ জানে

চোখের শুশ্রূষা ভেঙে জল জমে গহীন শেকড়ে
সমাপ্তি নিকটে আসে আমি এক কুরুক্ষেত্র ঘোড়া
বারবার ধোঁয়া দিই ক্ষত হওয়া পুরোনো আঁচড়ে
সমাধান পুড়ে গেছে সন্ধিপত্র বল্কলে মোড়া।

অসম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র অচেনা সময়ে নিশিডাক
পৃথিবীর সুখদাগ এটা এক অন্ধের বিকার
হঠাৎ স্রোতের তোড়ে কিভাবে জমেছে ঘূর্ণিপাক
আলোক নিভিয়ে দিয়ে কারা করে হরিণ শিকার।

শিকারী প্রবেশ জানে কোনখানে রাখা যায় টোপ
চারদিক বন্ধ করে চালিয়েছে কামানের তোপ।

খোলাডিঙি অফুরান দাঁড়

সমুদ্রে আজন্ম ভুল খোলাডিঙি অফুরান দাঁড়
কতটা নিজেকে বেচো পুরোটায় কতটুকু ছাড়
ক্রমশ রাত্রির ঘোর চেনালোক অচেনা সুজন
অখণ্ড সামগ্রী থেকে অসম্পূর্ণ জীবন কথন।

কখনও প্রচ্ছায়া থেকে ঠিক লোক চেনা হয় ভুল
সাঁতারেও ভ্রম হয় দিয়ে যাচ্ছি জীবন মাশুল
আলোরও পশ্চাৎ থাকে জীবনের থাকে শরিকানা
দরোজা আবদ্ধ করে দিয়ে যাবো চাবির ঠিকানা।

জীবনে প্রচ্ছদ নেই জমে নাই ফুটো কানাকড়ি
আমার বিরহগান জটলায় অবমুক্ত করি।

বিষাদকুঁড়ি

সমূহ বিষাদকুঁড়ি ঝরে গেছে বড্ড অসময়
অদেখার মুখপদ্য সুতোয় বেঁধেছি নীলঘুড়ি
কালকূট ঘিরে আছে কবেকার চতুর প্রণয়
অলক্ষ্যে কুড়িয়ে যাই না ফোটা ফুলের সদ্য কুঁড়ি।

অদর্শন ভূয়োচাঁদ সাঁকোখান স্ফীত হচ্ছে আরও
বৃষ্টিকে লুকিয়ে রেখে তুমিও আকাশ হতে পারো।

অস্তিত্বসমগ্র

যৌবন নিশুতি ফুল চন্দ্রটান বিপুল জোয়ার
আমার পড়শির মুখ খোলানৌকা টলমল জল
পৃথিবী বিশ্বাসগ্রন্থি কোনজন আসলে সফল
পুনরায় যুদ্ধে নামি কার অস্ত্র কত ক্ষুরধার।

আমি কি দেখেছি ভুল মানুষই অনন্ত অস্ত্রাগার
সুসময় পথলেখা কোনজন আসলে ঋত্বিক
লুকোনো সম্পদে ভাগ কার কার ছিলো অধিকার
অস্তিত্বসমগ্রে দেখি কবেকার রূপালি ঝিলিক।

প্রত্যাশায় ধূপ দিই বাতাস এখনও বিপরীত
আমাকে লুকিয়ে রেখে আহ্নিকে বসেছে পুরোহিত।

আশির ব্রত চৌধুরী

জন্ম ১২ এপ্রিল ১৯৬৪ সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার বলরামপুরে।
পেশা শিক্ষকতা। (অধ্যাপক, সরকারি আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ) 
আগ্রহ মূলত কবিতা ও গানে।
প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ - শিরোনামহীন (২০২০)
ইমেইল - ashirchoudhury@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: