কিছু কথা…

ফিলিস্তিন এক রক্তাক্ত অগ্নিগর্ভ। এখানে জন্ম আসে মৃত্যুর স্বাদ নিতে। কয়েক দশকের এই উত্তপ্ত অগ্নিগর্ভে নিরাপত্তার নামে চলে হত্যা, হত্যার স্বীকৃতি চলে সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে। সমগ্র বিশ্বে যেখানে বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম দেশগুলোর তথাকথিত মানবতাবাদের চর্চা চলে, মানবতা রক্ষার তোড়জোড় দেখা যায়, সেখানে ফিলিস্তিন এক হাহাকারের নামান্তর। নীরব এক কান্নার নাম। এখানে যায়নবাদী ইজরাইলি দখলদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জীবনের নাম যুদ্ধ, বেঁচে থাকার দায় একখন্ড লড়াই। দিনের পর দিন একপেশে যুদ্ধের বিরুদ্ধে জীবন বাঁচানোটাই তাদের লড়াই। ইতিহাস কী বলে!

ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাংশের একটি ভূখণ্ড, যা ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মাঝে অবস্থিত। হালের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড এখানেই অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এই তিন মহাদেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এই ফিলিস্তিন ভূখন্ড। এখানেই ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের জন্ম। ভৌগোলিক অবস্থান ও দুটি প্রধান ধর্মের সূতিকাগার হওয়ায় স্বভাবতই ফিলিস্তিন নামক ভূখণ্ডটির রয়েছে ধর্ম, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও রাজনীতির এক দীর্ঘ ইতিহাস। আদ্যকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফিলিস্তিনের এই সম্পূর্ণ ভূ-খণ্ড বা এর কোন কোন অংশ বিভিন্ন রকমের মানুষদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। এদের মধ্যে আছে- কেনানীয়, আমরীয়, প্রাচীন মিশরীয়, ইসরায়েল বংশের ইহুদি, ব্যাবিলনীয়, পারস্য, প্রাচীন গ্রিক, রোমান, বাইজেন্টাইনীয়, প্রাথমিক যুগের মুসলিম খিলাফাত (যেমনঃ উমাইয়াদ, আব্বাসীয়, সেলজুক, ফাতমি প্রভৃতি), খ্রিস্টান ক্রুসেডার বা ধর্মযোদ্ধাগণ এবং শেষের দিকের মুসলিম খিলাফত (যেমনঃ আইয়ুবি, মামলুক, উসমানীয় সাম্রাজ্য প্রভৃতি), ব্রিটিশ, জর্ডানি (পশিম তীরের অংশটুকু), মিশরীয় (গাজা অঞ্চল), এবং হাল আমলের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিসহ বহু জাতি ও অঞ্চলের ব্যক্তি বা শাসকবর্গ দ্বারা শাসিত হয়েছে। ফিলিস্তিন কানান, জায়ন, দক্ষিণ সিরিয়া, জুন্দ ফিলাস্তিন এবং পবিত্র ভূমি নামেও পরিচিত।

ফিলিস্তিন অঞ্চলটি পৃথিবীর প্রাচীন অঞ্চলগুলোর একটি যেখানে মানুষের বসবাস, কৃষিনির্ভর জনসমষ্টি এবং সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। ব্রোঞ্জ যুগের প্রথম ও মধ্যভাগে স্বাধীন কেনানীয় নগর-রাষ্ট্রগুলো গড়ে উঠেছিল এবং প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া, ফোয়েনেশিয়া, মাইনোয়ান ক্রিট, এবং সিরিয়ায় গড়ে ওঠা সভ্যতা দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছিল। বলা যায় চার হাজার বছরের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রক্তাক্ত প্যালেস্টাইন। বিভিন্ন সময়ের দখলদার শাসকদের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে এই অঞ্চল এখনো লড়াইয়ের ময়দান হয়ে মাথা উঁচু করে আছে। হয়তো থাকবে অনাদিকাল। যায়নবাদীদের মিথ্যা ঐতিহাসিক দাবিকে ভুল প্রমাণিত করে আবার কবে স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা উড়বে সেদিকেই আমাদের দৃষ্টি। রক্তাক্ত প্যালেস্টাইন রক্তের নহর বইয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে স্বমহিমায় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে একদিন পথ চলবে, এটাই আমাদের কামনা।

আমাদের ক্ষুদ্র এই আয়োজন সংগ্রামী ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে। আমাদের প্রেম, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের শুভকামনাগুলো পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। ইতিহাসের দায় থাকে, দায় থাকে ইতিহাস সচেতন মানুষের। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমাদের কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিকদের ভালোবাসার নৈবেদ্য ‘রক্তাক্ত প্যালেস্টাইন’। এই সংখ্যার সূচি লেখকের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী করা হয়েছে। সহজাত সম্পাদনা পর্ষদের পক্ষ থেকে সবার প্রতি শুভেচ্ছা রইলো।

জয় হোক মেহনতি মানুষের
জয় হোক দৃঢ়চেতা সংগ্রামী মানুষের…

শাহীন তাজ
সম্পাদক, সহজাত

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: