একা হবার কবিতা

একা হবার কবিতা

এই পরানে বাতাবী নেবু
বাদাম তেলের ঘ্রাণে
নিঃস্ব পাখির কোল
সরল কোন অংক কষে বাড়ছে শহর
মানুষ কেবল খুটছে দানা
পাখির ঠোঁটে জ্বর
কেমন সব ক্যানভাসে
রাত বাড়ে সিল্যুয়েটে
নাচবে ময়ূর তোমার ক্ষতে
বিরাট আসর মুজরা ফেলে

তুমি পথিক প্রবীন পথে
হাত খোলো একা হতে?

অসুখ

বিধি আমারে দিলা কেন তুমি এমন অসুখ
শিমের তরকারি, ফুলকপির ঝোল
সেখানেও ভাসে প্রেমিকের মুখ…

প্রতিস্বর

একটা অন্ধকার কবিতায় আমি তোমাকে জন্ম দিয়ে চলেছি প্রতিনিয়ত
সকালের শুরু থেকে সমস্ত আমার মধ্যে ধারণ করেছি
আমি এঁকেছি তোমাকে খোঁদাই করে সমুদ্রে, গাছে, আগুনে

এইতো তুমি –
একটা পথ কেউ একজন ঝুড়ি নিয়ে পার হচ্ছে প্রতিদিন
হয়তো তুমি –
একটা সিগারেটে আগুন ধরানোর মধ্যবর্তী স্থির সময়

মাঝখানে ভালোবাসা আর সম্পর্ক
পথিকের দ্রুতগামী টুপির বিভৎস হাসি।

তুমি সেই নির্জন মঠ যেখানে ধ্বংস হতে আসে প্রতিটি আমি
যেখানে রাতের পটভূমিতে
মিথ্যে মিশিয়ে ফেলি চাঁদের উপমায়।

তাকিয়ে থাকি ভালোথাকার অজুহাতের দিকে
যে চারাগাছ বুনে রাখি বাগানে
জানালার ফ্রেমে শুধু তাদের বিবর্ণ হবার গান।

এই বারান্দা মরুভূমির সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায় খুঁজে আনতে
পঁচে যাওয়া শেকড় আর নির্বাসিত ভাবনা

সেখানে ছোট্ট আলপথ
যেখানে আমার হৃদয়
লুকিয়ে রেখেছে প্রতিবেশী শৈশব।
সময়ের ভ্রমণ থেকে
ঝরে যাওয়া অবয়ব
তেমন যেমন মৃত শরীর ফেলে রেখে যায় কেউ
সেই মাছের মতো
সরোবরে…

মানুষ

আমার যে বন্ধুটি আত্মহত্যা করেছিলো
সে বলতো-
কেউ কেউ মানুষ হয়!
মানুষগুলো ঘুড়ির মতো
সুতো কেটে গেলেই মুখ থুবড়ে পড়ে হারিয়ে যায়
ফানুসের মতো উড়ে যায়, ফুরিয়ে যায়!
আমার সেই বন্ধুটি সুতো কাটা ঘুড়ির মতো মুখ থুবড়ে পড়েছিলো
হারিয়ে গিয়েছিলো,
ফানুসের মতো উড়ে গিয়েছিলো, ফুরিয়ে গিয়েছিলো।
.
সেদিন সবাই আফসোস করতে করতে বলেছিলো
আহা! শেষে কিনা নিজেই কেড়ে নিলো নিজের প্রাণ
কেবল আমিই জেনেছিলাম জীবন কেড়ে নিয়েছিলো তার বেঁচে থাকার অধিকার।
সবাই মুখোশ হয়ে বাঁচতে পারেনা
“কেউ কেউ মানুষ হয়! “
.
আমার যে বন্ধুটি আত্মহত্যা করেছিলো
আমি তার মরণোত্তর সুখী জীবন কামনা করে কোনো প্রার্থণা করিনি
কারণ আমি জানি মৃত্যুর পর সুখের কোনো প্রয়োজন নেই!
আমি প্রার্থনা করেছি পৃথিবীর বুকে নিঃশ্বাস নেয়া মানুষগুলোর জন্যে
ওরা হেরে না যাক, ওরা ভালো থাক
ওরা বেঁচে থাক, ওরা জিতে যাক।

ভীতি

ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছো
একদা ভালোবেসেছিলে –
যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়

…আর আমি আছি এখানে
চারকৌনো টেবিলে বেড়ে রাখা জড়ানো ভাত
যার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপ
বড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

অনুভব আহমেদ

অনুভব আহমেদ

জন্ম : ৫ই নভেম্বর ১৯৯৩
আগ্রহ - কবিতা
প্রকাশিতব্য গ্রন্থ - মৃৎফুলের নকশা
ইমেল - onuvob96@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *