একটি দৃশ্যের পজেটিভ

হাসপাতালের লাশকাটা ঘরের পাশটাকে সবাই ভয় পায়। কুমু অন্ধকার ওই স্থানটাকে আবিষ্কার করে। এই রাতে তার হিমশীতল হয়ে আসা রক্ত আস্তে আস্তে প্রবাহমান হওয়ার পর সে জানে, তার অস্তিত্বে এক ভদ্রলোক আছে- যে তার রক্ত প্রবাহেরই একজন।

কুমু যখন ওই ব্যক্তির উচ্চারণে মাগি ডাক শুনে তখন সে ক্ষণিক রাগত হলেও পুরুষটিকে পোষা অথচ মাগি উচ্চারণটিকে শিশু কন্ঠের আম্মু ডাকের মতো জ্ঞান করে এবং কুমু টের পায় তার অভ্যন্তরে এক আঁঠালো তরল স্রোতের স্বচ্ছতা। তখন সে কামাতুর হয়ে ওঠে। যে লোকটির বাঁচা-মরার কোন আগ্রহ নেই, কান্ডজ্ঞানহীন আর সকল সময় অদ্ভুত সব অশ্লীলতায় ডুবে থাকে; তখন তার গুণের কথা দূরে থাক- সকলে তাকে সমীহ করেই চলে। কুমু কিছুই বুঝে ওঠতে পারে না। তার ভাল লাগা না লাগা এক অবিমিশ্র অনুভবে, চোখ ইশারায় আলো-আঁধারির মতো লোকটি তাকে কাছে ডাকে-
আমার লগে আইজ রাইতে থাক।

লোকটির হাত তখন মস্তবড় দুই স্তনের একটিতে স্পর্শ লেগে থাকে ও আরেকটু পরে দুই স্তনের মাঝখানে হাতটি স্থাপনের পর অনুভূত হয় যে তার শরীরে উষ্ণতায় নাকি ঠান্ডায় কী যেন প্রবাহিত হচ্ছে।

মাথায় তার আগামীকালের রোজগারের চিন্তা বাদ দিয়ে সে তখন আরেক আবিষ্কারের নেশায় মেতে ওঠে। ভাবে ভবিষ্যৎ মানুষের কাজে আসবে না হেতু আজই কিছু রোগা দৃশ্যের মৃত্যু হউক।

কুমু মৃত্যুকে জানে পরিতৃপ্তির অন্ধকার হিসেবে। আর লোকেরা মৃত্যুর পাশ থেকে আরেক মৃত্যুর পাঠোদ্ধারের নেশায় ছুটে আসে মাত্র। কুমু আজ এখানে না আসলেও পারতো। তবু আসে। আসতে হয়। কারণ তার রোজগারের নেশা উবে গিয়েছিলো। প্রতিদিনই এসব দৃশ্যের আড়ালে বিরল সে অভিজ্ঞতায় নিজেকে জাগায়।

যে নারী ভালোবাসে তার স্তন চাপলে মন গলে। যে পুরুষ ভালোবাসে তার মনে স্তনের গন্ধ লেগে থাকে।

পুরুষ লোকটি ভালোবাসা বুঝে না। স্তন চুষে বেঁচে থাকার জন্য। আর ভালোবাসা বেঁচে থাকে মৃত্যুর অধীর আগ্রহে। লাশঘরের পাশে মৃদুস্বরে কুমু ও লোকটির কথোপকথন উপভোগ করে উঁইঢিবি থেকে নাক বের করে উঁইপোকা, মাটি, পাথর ও ইটের নিচ থেকে চোখ বাড়ায় শুয়াপোকা আর পিঁপড়েরা।

আসলে লোকটি ভদ্রলোক! এখানে তো কোন দৌড়াদৌড়ির ব্যাপার-স্যাপার নেই। তাই লাশঘরের দেয়ালে ঠেস দিয়ে এসে দাঁড়ায়। এখানে তাদের বা অনেকের না এসে উপায় নেই। তাদের আসতেই হয়।
এই মাগি তাড়াতাড়ি আয়।

কুমু তাকায়। লোকটির শরীরে কাপড়ের কোন লেশমাত্র নেই। সে ভয় পায়। লোকটিকে তখন নেশাগ্রস্ত মনে হতে থাকে। তখন ইটের টুকরো আর পাথর তাকে মনে করিয়ে দেয় এখানে লাশঘর আছে। এখানে মৃত্যুরা থাকে। আর থাকে শেয়াল-কুকুর।কুমু আর কোন কথা না বাড়িয়ে মৃত্যুর ভঙিমায় শুয়ে পড়ে। রাত শেষে তখন-
পিঁপড়ে
উঁই
শেয়াল
কুকুর
শকুন ও
অন্যান্য মেটেপোকারা সকালবেলায় সুস্বাদু আহার খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

Avatar

সরকার আজিজ

জন্ম ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৬১, ৩৪/১ বলাশটুর রোড, কেওয়াটখালি, ময়মনসিংহ।

পেশায় সাংবাদিক। আগ্রহ কবিতা ও কথা সাহিত্যে।

সম্পাদনা-
ছোটকাগজ ময়মনসিংহ জং

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ-
চলো যাই বলিনি
উত্তরে তুমি
জনপদে ঘোড়ামনুষ
যেভাবে ধনুর্বিদ্যা শেখা 
সীমানায় কাঁটাতার

গল্পগ্রন্থ

মহা মহেশ্বরগণ(প্রকাশের অপেক্ষায়)

ইমেইল: azizjong@yahoo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: