ইশ্বরের কান্না – বিমুক্তি

আমার বেদনা পীড়িত অনুভূতি চমকে উঠে,
মাথার ভিতরে একে একে ফাটে আবেগের বুদবুদ;
এই যে তোমার আমার মাঝে হাজার আলোকবর্ষের দূরত্ব,
এই যে হাজার বছরের ঘনিষ্ঠতাবিহীন পরিচয়,
আর এই যে, তুমি এবং আমি আলাদা থাকবো চিরকাল ব্যাপী…
আমার বিছানার কোণে পড়ে থাকে বালুচরি!
এসবের বেদনা, এসব বৃহৎ বেদনার সর্বময়ী বিস্তার,
আমাকে ঘিরে ধরে। আমি দেখি। চমকাই।
শুধু আমার না, তোমারও না।
এ বেদনা স্বয়ং ইশ্বরের।

আমাদের নিয়তি লিখেছেন তিনি পরিহাস করে,
কিন্তু সেই পরিহাসের নির্মমতা?
তোমার আমার এক না হয়ে ওঠা?
ইশ্বর এবার দলিত হচ্ছেন অনুতাপে,
তাঁর বুকের কাছে দলা পাকিয়ে উঠছে কান্না।
তোমার আমার বেদনায় এবার ইশ্বর কাঁদবে।

তুমি কতো দূরে, তাতের শাড়িটি বরং না পেলে,
এসবে আর কি হবে।
চলো ইশ্বরের কান্নায় ভিজি!
আমি ছাতা ছুড়ে ফেলি বিছানার কোণে,
ঠিক যেখানে বালুচরি পড়ে আছে সযত্নে
আমি চলে আসি আঙিনায়, দু’হাত ছুড়ে দিই বৃষ্টির দিকে।
তুমি বাইরে না বেরোও, বারান্দায় আসো।
সর্বাঙ্গ না ভেজাও, অন্তত ইশ্বরের কান্নার ছাঁট লাগাও গায়ে…
ইশ্বরের কান্না বৃষ্টি হয়ে ভূমিতে নামছে…

ইশ্বরের কান্না বৃষ্টি হয়ে ভূমিতে নামছে…
আমার কব্জিতে বৃষ্টির ফোটা,
চোখে বৃষ্টির জল কিংবা বেদনা
তোমার কাধে বৃষ্টির হালকা ছাট
গালে বৃষ্টির দাগ কিংবা বেদনা।
ইশ্বরের কান্নায় ক্ষণিকের ঘোরে গিয়ে,
আমার হাত-তোমার কাঁধ-আমার চোখ-তোমার গাল
হলো কি এক ক্ষুদ্রতম সময়ের ভ্রান্ত মিলন?

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: