আমার সাং ফিলিস্তিন – আবির আবরাজ

রুকু দেবার আগেই সহসা সিজদায় চলে যাওয়ার মতোন সঙ্গিন
কোনো ভুল যেনো হয়ে গেছে, পৃথিবীর পরবর্তী বিগ্রহকে
এইরূপে বিশেষায়িত করা যাবে। ফলত আপার হাসির
কাছাকাছি এমন মোলায়েম যেনো ধার্তি যেনো পারুল গাছটায়
হাওয়া বৈরী জারুলের ফুলে মারণ বিকারের মতো আচ্ছাদন ঘটে গেলে
পূর্ববর্তী ফুলগুলি তাই জমিনে মিশে যাওয়ার খানিক আগে বলে যাচ্ছে —
আমিওতো একই গাঙের মীন, আমার সাং ফিলিস্তিন…
মনে করি জগতে আর বরিষণ ঘটে নাই তারপর আর, উদ্ভিন্ন মেঘের
গুড়গুড়ের হুতাশে যেরম নদীর অবয়ব ক্রমে শুষ্ক হতে হতে
কশেরুকার মতোন কাছাকাছি মিলে যায় ওইরূপ সঙ্কোচনের
ভেতর লক্ষাধিক আদম জানছে, নিশ্চয়ই কোনো পাপে
আমাদের কবরের পরিপার্শ্বের মাটিকণারা এসে মিলে যাবে পরস্পরে তাই
মিশে যেতে হবে তোমাকেও তাদের ভেতরেই যেনো তিতপুটি তুমি
হতে পারো তবুও রাক্ষুসে মাছগুলি তোমারই আপন ভাই।
এমন অনেক মিথ্যার প্রতিপাদন শেষে খোদার অস্তিত্ব বিষয়ে
বিস্তর জানাশোনা হয়ে গেলে ভাবো পৃথিবীর আচোদা ইতিহাসে
তার পাপ লিখবে এমন কিরামান আর কাতিবীন কার ঘাড়ে সাওয়ার হয়ে আছে
ভয়াবহ বিদ্রুপে যেখানে মাসিয়াহ্ চিরকাল শাসকের জন্যেই আসে?
পোয়েট্রি অথবা মহাবিশ্বের পাপ পরিশোধনাগারের ভেতরে হল্লা
বলছে যাও, বুলেট গিলে খাও, আর বেহেশতে গিয়ে আব্বা আর আম্মাকে
আফটার লাইফ পেরেন্টিং শেখাও, যারা— সামান্য আপেলের লোভে
স্বেচ্ছা নরকে বাল ছিঁড়ে টাল দিতে পারে ওহাদের সন্তানেরা
তোমার মাথায় গুলি করতে পারে, করবেই। ভাববে তোমার চিন্তাদের
এইরূপেই খুন করা যায় তোমাদের শিশুদের মতোন একইভাবে
হাতে গুলি করবে তাকে মিছিলের প্রতিক ভেবে আর পায়ে করবে
যেনো তুমি যূথবদ্ধ মাছেদের সহচরী নও, কোনো দলছুট ফিনিক্সের মতো
উড়ে বেড়াচ্ছো তানহা মরুভূমে। পিঠেও করবে, যেহেতু তুমি
ওদেরই গাঁথা দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে যাবার ধৃষ্টতা করেছো। এই-সবই হবে
তোমাকে সামান্য আদম ভাববার ফল। সমস্ত হলাহল ভেঙে তত্রাচ
তুমি তোমার হিস্যা বুঝে নেবে তাই এনার্কিপূর্ণ এই জাহীমের মানে
এই পাতালের নিবাসী হওয়ার তাড়না ভুলে গিয়ে স্মরণ করবে সু-সময়
মানে শৈশবে কোনো জেনারেলের মৃত্যুতে আসমান তাক করে তার অনুচরদল
একের পর এক গুলি ছুড়লে দেখা গেছিলো সেইসমস্ত সিসাকণা
আর ফিরে আসে নাই কভু এই ধরণীতে, তাই জনমতে
অন্তর্বর্তী সেই নভঃস্থলের নাম হয়েছিলো সিসাভুক বলে ।
নেপথ্যের গূঢ়লিপিতে যে লেখা ছিলো সেই কৃষ্ণগহ্বরের কথা
তা শুধু তুমিই পড়বে আর সহজ মানুষটিকে ভজে দেখবে দিব্যজ্ঞানে।
আখেরে বুঝবে তুমিই ওই আসমান, বুকের ভেতর কৃষ্ণগহ্বর ধৃত,
বসে আছো ওদেরই মাথার উপর খুব দূরে নয়, খুব কাছাকাছি।
আনকা চোখে দেখলেও মনে হয় যেনো দুনিয়ার জমিন হাসর হয়ে গেছে,
সমূহ ধ্বংসের পরে তোমাদের জমিনের হিস্যা পাই পাই বুঝিয়ে দেয়া হবে
আরশিল আযিমের ছায়ায়। আপাতত কিছুটা ধ্বংস দেখো, ধ্বংস হও
আঁচ অল্প হোক অথবা অত্যের অধিক নিজেকে অনেকটা পোড়াও।

আবির আবরাজ

জন্ম ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৮ 
পেশায় শিক্ষার্থী
আগ্রহ কবিতা
ইমেইল - abirabraz@gmai.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: