আফগানিস্তান // জুবায়ের দুখু

ময়ূরাঙ্গ

একটা ময়ূর পাখি প্রথম মৃত্যু পর
দ্বিতীয়বার জ্যান্ত হয়ে,
ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর
হৃদপিণ্ড
এফোঁড়ওফোঁড় করে, উড়ে যায় বাঁশবনে।

দিগন্ত বাড়ি, ঘুমিয়ে আছে
পাখির জননী।
নৌকায় চড়ে পাড়ি দিচ্ছে হৃদয়হীনা মানুষ গুলো।
জবা ফুলে ছাওয়া
মায়ের অলংকারের জীবন।
তুমি একবার বিশ্বাসের করে চেয়ে দেখ,
দাউদাউ জ্বলছে বাবলাফুলের ভোর৷

ময়ূর পাখি তারপর দ্বিতীয় মৃত্যুর পর,
তৃতীয়বার জ্যান্ত হবার ভরসা পাচ্ছে না।
পৃথিবীর এমন অসুস্থ পরিবেশ দেখে।

ফোরাত নদীর তীরে

কুফাবাসী, ও কুফাবাসী
তোমরা কি জানোনা?
রসূলের নাতি বলছি আমি
আমাকে চেনো না?

ইয়াজিদের প্ররোচনায় হলে
দুশমন রাসূলের
কেয়ামতের দিন ক্যামনে করবে
প্রায়শ্চিত্ত এ ভুলের?

তোমাদের নাজাতে মায়ের দোয়া
লাঘব হলো এই নীড়ে
দশ মহরম কারবালার মাঠ
ফোরাত নদীর তীরে।

হিপোক্রেসিস বর্ষা

মদের আসরে নয়
মেঘের শারাব খেয়ে বর্ষা ঋতু মাতলামো করে,
আউশধানের তেপান্তরে।

তখনও ঘুমোইনি
উঠোনের ভেজা কাদামাটি, বাতাবিলেবু ফুল,
ঘুমোইনি আমার চোখ দুটি
তোমার স্মৃতিতে মশগুল।

হিপোক্রেসিস বর্ষার মতো
বেলা অবেলায় তোমাকে নিয়ে আর
ভাবি না কখনো বিন্দুমাত্র
সাপ্তাহে কোনোবার।

আফগানিস্তান

ফিরে এলো– বিষাদের দিন আবার
এদিন গুলো, একান্ত আমার।

আমার দুঃখ নিয়ে অনেকেই
করে হাস্য-রহস্য
কত দুঃখ আমার আর?
চেয়ে দেখ– আফগানিস্তান, কাবুল শহর জুড়ে,
দুঃখ ঝরে পড়ছে পাতার মতো।

শিশুর দুঃখ, নারীর দুঃখ, পুরুষের দুঃখ,
দুঃখ
দুঃখ
দুঃখ,
শুধু সারা আফগানে পপি ফুলের চাষীরা
কাধে বন্দুক ঝুলিয়ে উৎযাপন করে নকল সুখ।

প্রতিক্ষা

সোনালী রোদে একদিন আবার হেসে উঠবে এই আফগানিস্তানের ভোর।
নারীরা স্কুলে যাবে–
গান করবে, সিনেমা করবে, সাংবাদিকতা করবে।

খুব দেরি নয় সেই ফুল ফোটার দিন,
আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে এলে
ফুল গাছে পাতা বের হবে নতুন, ডালে ডালে।
তারপর বসন্ত আসার আগেই
পপি ফুলের বদলে আফগানের টবে টবে ফুটবে
রঙবেরঙের দোলনচাঁপা, টগর, আর লাল জবাফুল।

প্রতিক্ষা করে আছি ভাইকে হারিয়ে
প্রতিক্ষা করে আছি বাবাকে হারিয়ে।
প্রতিক্ষা– সোনার মন্দিরে তোমার আরাধনা করি,
তোমার আরাধনার শেষ প্রহরে ফুল ফোটা দেখতে।

সফর

ছাতিমগাছের ছায়ার অদূরে দাঁড়িয়ে সূর্যের আলো,
শরীর জুড়ে ঘামের গন্ধ
অক্লান্ততা নিয়ে আর এগোব কতদূর?

নদীর কলকল শব্দে ভেঙে ওঠে ঘুম
বেলা কত ছাতিম পাতা?
যেতে হবে বহুদূর– মদিনার শহর।

সঙ্গী নেই কেউ, সফর সঙ্গী,
তবু যেতে হবে একা একা–
গুরুত্বপূর্ণ সফর নবীজীর রওজা তাওয়াফ করার জন্য।

খোয়াব

ঘুমের ভেতর খোয়াব দেখি–
দেখি, আমি হয়ে গেছি উস্তুতে হান্নানা
আমাকে ধরে খুতবা দিচ্ছে রাসূলে আকরাম।

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: