আত্মহত্যা প্রসঙ্গে সিরিজি ও কয়েকটি কবিতা

আগুনপাখি

বাবা বলেছিল পিপীলিকার জন্ম আগুনের জন্য
খুব হালকা ভাবে নিয়েছিলাম কথাটা

আগুনপাখি এসে জলের গল্প আবদার করে
বা সে আমার মধ্যে দেখেছে বারুদের গন্ধ

আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও পিপীলিকা হয়ে যাই
আর সেই পাখির ডানা আমাকে আগুনে ফ্যালে

এভাবেই দেখি হ্যারিকেনে পিপীলিকার মৃত্যু
যদিও আমার জন্য আগ্নেয়গিরি লাগবে

ফাঁদ

দুঃখের জন্য ফাঁদ পেতেছিলাম
সারা শরীরে অশ্রু ছড়িয়ে আঠা হয়ে আছে

দুঃখকে আয়েশ করে ভোগ করবো নিশ্চিন্তে
দুঃখ ভোগে বাঁধা কেউ দেয় না

সমাজ একদিন কৃত্রিম দুঃখের শিহরণ চাইবে
থাকবে না অভিযোগের কোনো অবসর

দুঃখকে সবাই পেছনে ফেলে চলে যায়
কিন্ত পেছনে ফিরে কেই বা তাকায় না বলো

আমার কোনো ঈশ্বর নেই

রাষ্ট্র আমার জন্য আধা-গণতন্ত্র সাজিয়ে রেখেছে
আমি জানিনা পাশ হয়ে যাচ্ছে আইন
শুধু চলতে হচ্ছে চলতে হবে বলেই

রাষ্ট্র আমার জন্য খুড়োর কল সাজিয়ে রেখেছে
তা থেকে ঝুলছে প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি
চাতকের সাথে প্রতিযোগিতা বসে গেছি ডালে

রাষ্ট্র আমার ওপর হুমকি ধরে রেখেছে
জিভ দিয়ে শুধু চাটার জিনিসগুলো চাটছি
গলায় জড়িয়ে থাকছে তথাকথিত কাঁটাতার

উত্তেজক ২

সাফল্য প্রেম দায়িত্ব সহৃদ্যতার চাইতে বড়ো
আর কোনো উত্তেজক নেই এই মহাবিশ্বে

শিক্ষক বন্ধু শেখায় রক্তের সম্পর্কই সব নয়

এই যে প্রেমিকার কথায় সিগারেট ছাড়ি
বা মায়ের কথায় দায়িত্ববান হতে শিখি

এরাও আক্ষরিক অর্থে এক একটা উত্তেজক

যদি তুমি ভেবে নাও যৌনতাই উত্তেজক
তাহলে তুমি আজ অবধি উত্তেজিত হওনি

আত্মহত্যা প্রসঙ্গে ২

একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম
গলায় দড়িটা পোঁচ একটু মারতেই
বাম পা টা তুলে নিই ডান পায়ের কাছে

যখন গলা দিয়ে ভাত নামেনি তখন বুঝেছিলাম
সমাজকে চুক চুক করে খেতে বসতেই হবে
যেভাবে ধর্ষণের খবর শুনেও সঙ্গম করতেই হয়

তুমি সংখ্যাগরিষ্ঠ নও
সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোনোদিন আত্মহত্যা করে না
যেদিন গলায় পোঁচের চাইতে বেশি কষ্ট পাবে

সেদিন না হয় করে নিয়ো আত্মহত্যা

আত্মহত্যা প্রসঙ্গে ৩

যারা আত্মহত্যা থেকে ফিরে আসে
তাদেরকে বক্তৃতা সভায় নিয়ে যাওয়া উচিত
এই মরমর দেশকে তারা একফোঁটা জীবন দেবে

আপনাদের বাড়িতে লোডশেডিং হতে পারে
সমস্ত আলো শুষে নেয় তাদের ফিরে আসা
তাদের মাথার পিছনে কিন্ত ঐশ্বরিক চাকতি নেই

যারা আত্মহত্যার কথা ভাবছেন দেখা করুন
তারা আপনাদের মৃত্যুর পর্যটন করিয়ে আনবেন
তারপর হিসেব করতে বসুন কোনটা বেশি কষ্টের

অভিমানের বাষ্পের ওজন না গলায় দড়ির পোঁচ

আত্মহত্যা প্রসঙ্গে ৪

যারা আত্মহত্যা থেকে ফিরে আসছে
তাদের পথে চোখ রাখতে ব্যর্থ্ নিরাশাবাদ
নতুন জ্যামিতি আবিষ্কৃত হতে চলেছে জীবনের
সুদোকু নিয়ে বসুন সাথে এক কাপ চা ও বিস্কুট

সমাজটা আই.কিউ মাপতে বসবে এবার
শুধু জেনে রেখো আইনস্টাইনের অনুরোধে
পাখি কোনোদিন জলে সাঁতার কাটে না
মাছ কোনোদিন ওঠে না গাছে

উড়ান

বেদনা আরো একটু পোড়াচ্ছে
আমি ধোঁয়া হয়ে আরো একটু ওপরে উঠছি
নীচে বয়ে যাচ্ছে সময়
অর্ধমৃত আমি ভাসছি যম দুয়ারের তোরণে

যারা পৌঁছে গেছে উদ্দেশ্যে
বিধেয় এর মতো হেয় করছে পথচারীদের
পছন্দের অপ্সরা, দেব রমনে ব্যস্ত সবাই
পৃথিবীপ্রেমী পরীকে ডাকতে ব্যস্ত হচ্ছি আমিও

একবার ব্যাকরণ বুঝে গেলে
সন্ধিদের বিচ্ছেদ ছড়িয়ে দেব জনসাধারণে
জীবনের সমাস মেলাতে অতিরিক্ত কষ্ট হবে না
শুধু বিষাদ আরো একটু আমার ছাই ঘেঁটে নিক

নির্বন্ধ

পাহাড়ের ওপর থেকে রাস্তাটা দেখে নিয়েছি
আর যাওয়ার শখ নেই মোটেও

আমার যাওয়ার পথে ঈশ্বর টপকে পড়ুন
তাহলেই যেতে পারি

এখন বাজার নেই
তাও ফাঁকিবাজের চিহ্ন এড়াতে বেরিয়ে পড়বো

মৃত্যুর সামনে দাঁড়ানো সহজ
ধ্বংসের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যামিবা হতে হয়

দৃষ্টিকোণ

নিজের গ্রামে দেখি বাড়িগুলির মধ্যে গাছ
মামাবাড়িতে দেখেছি গাছেদের মধ্যে ঘর

বাড়িগুলির মধ্যে গাছ মোটেও প্রশান্তি দেয়না
কোথাও গেলে গাছ দিয়ে শুরু করি চোখ সাধন

গাছেদের দিকে তাকালে নির্জন হয়ে যাই
অক্ষমের ওপর রাজত্ব করার শখ ছিলনা

নিকৃষ্ট টুকু নিয়ে কে দেয় প্রাণ দান
বাস্তুতন্ত্রে পড়ে গেছে মানুষের অমানবিক হাত

প্রসাদ সিং

প্রসাদ সিং


জন্ম - ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলার চন্দ্রীর মরাইখুঁটি গ্রামে।
আগ্রহ- কবিতা
মোবাইল / হোয়াট্সঅ্যাপ - ৭৩৬৫৯৯০৩০৭
prasadsing420@gmail.com
			

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: