আইয়ুব গীতি – ২

‘আইয়ুব গীতি– ২’ মো: আইয়ুব আলীর গানের বই। আরেকটু পরিস্কার করে বললে দ্বিতীয় গানের বই। বাংলা গানের অন্যতম প্রাচীনতম ধারা ফোক গান বা লোক সঙ্গীতের এক অমূল্য সংগ্রহ তাঁর আইয়ুব গীতি। মো: আইয়ুব আলী প্রচলিত মিডিয়ার কোন বড় মুখ নন, তবে পল্লীগানের এক নিভৃত সাধক তিনি একথা স্বীকার করতে হবে তার বই পড়ে। তার গানে গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনের সুখ দুঃখের কথা, গভীর জীবনবোধ ও আধ্যাত্মবাদ চমৎকারভাবে উঠে এসেছে।
আইয়ুব আলীর গান আবহমান গ্রাম বাংলার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, গার্হস্থ্যের খুটিনাটি ঘিরেই। গানের ভাষায় নেই কাঠিন্য ও জটিল শব্দের বাহুল্য। নেই অতিকথন কিংবা অতিরঞ্জিত ভাবগীত। মানুষের সারল্যমাখা জীবনের কথা বলতেই যেন আইয়ুব আলীর কলম তুলে নেওয়া। তাই তার গানে পাই আমাদের শেকড়ের ঠিকানালোকের অনুভব। আমাদের মৃত্তিকা সংলগ্ন জীবনের প্রকাশ। গ্রামীণ জীবনের খন্ড খন্ড চিত্র, প্রকৃতি ও জীবনের সম্পর্ক, মানুষের প্রেম বিরহ দুঃখ শোকগাথার দেখা মেলে আইয়ুব গীতিতে।

-শাহীন তাজ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু
কলমা রাখো দমে
কলমা ছাড়া পার পাবে না
গাঁথো মরমে॥

এই কলেমার ভক্ত যারা
আল্লাওয়ালা হইলো তারা
খেয়ার টিকিট পাইলে হাতে
যাবে নাতো জাহান্নামে॥

নবী চিনো কলমার সাথে
আলো দেখবে আঁধার রাতে
কোরআন কলমা না জানিলে
আইয়ুব মরবে শরমে॥

ভাটির টানে পইড়া আছে

ভাটির টানে পইড়া আছে
ময়ূরপঙ্খি নাও
দয়াল তোমার লীলা খেলা
বুঝি নাতো বাও॥

বর্ষা ছিলো জোয়ার ছিলো
গাঙ্গে ছিলো ঢেউ
রঙ্গে রঙ্গে সময় যায়রে
বুঝে নাতো কেউ
পথ হারাইছো সন্ধ্যাকালে
বাড়ি তো না পাও॥

কান্দে পাখি একলা একা
উড়ে বালুর চরে
সঙ্গের সাথী ছিলো যারা
গেছে সবাই ঘরে
আইয়ুবে কয় বুইঝা শুইনা
হাতের সময় ফুরাও॥

মন চায়রে পরান পাখি

মন চায়রে পরান পাখি
বুকে বাইন্দা রাখি
তাহার সনে ভাব জমাইয়া
জনম ভইরা থাকি॥

একটি পাখি নাম যে তাহার
নিরানব্বই জানি
সব নামেতে ডাইকা ডাইকা
চোখে জমে পানি
দিন কাটেতো রাত কাটে না
জাইগা থাকে আঁখি॥

অন্তর হইলো ফালাফালা
দেহ হইলো কালা
পরান পাখি বুঝলো নাতো
আমার মনের জ্বালা
আইয়ুব কান্দে প্রিয় পাখির
ছবি বুকে আঁকি॥

বুকের ভিতর বসত করে

বুকের ভিতর বসত করে
প্রাণের প্রিয় একজন
খুইজা ফিরি সারাবেলা
অবুঝ আমার মন॥

দিন চলে যায় তারে ভেবে
জাইগা কাটে রাত
কারে বলি মনের ব্যথা
আসে নাতো প্রভাত
নগর ঘুরি গেরাম ঘুরি
করি কি এখন॥

বিষ মাখানো তিরে যেমন
পাখি ছটফট করে
তেমনি আমার দুই নয়নে
দুঃখের আগুন ঝরে
আইয়ুবে কয় কেনো আইলো
এমন আউলা পবন॥

কর্ণফুলী নায়ের মাঝি

কর্ণফুলী নায়ের মাঝি
নিলিনা তোর ঘরে
সারা জীবন থাকলিরে তুই
নায়ের বৈঠা ধরে॥

ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাসাইলি তোর
মনের যত আশা
যতন করে রাখলাম ঘরে
আমার ভালোবাসা
তোর স্বপনে সকাল বিকাল
ঘুরি নদীর ধারে॥

মনের মানুষ মনে করে
গাঁথলাম ফুলের মালা
দেখলিনা তুই চাইয়া একবার
করলি অবহেলা
আইয়ুবে কয় বুকের আগুন
দুই নয়নে ঝরে॥

দয়াল তুমি এমনি কইরা

দয়াল তুমি এমনি কইরা
কান্দাইবা আর কত
দিবানিশি কাইন্দা কাইন্দা
হইলো মনে ক্ষত॥

তোমার প্রেমে হইলাম পাগল
ছাড়লাম প্রিয় ঘর
প্রিয়ের অধিক প্রিয় তুমি
আর তো সবাই পর
পাইবা না পাই তোমার ধ্যানে
আছি অবিরত॥

পাহাড় জঙ্গল তালাশ করি
তোমার দেখা নাই
মনের ভিতর ডুব মারিলে
তুমি আছো সাঁই
পাগলা আইয়ুব পইড়া আছে
কইরা মাথা নত॥

মন বাগানে ফুটাইলিরি

মন বাগানে ফুটাইলিরি
কতো রঙ্গের ফুল
বুঝলি নাতো এই জীবনে
সবই হইলো ভুল॥

ভেলকি বাজির ছলাকলা
বুঝলি নাতো তুই
নয়তো আসল ভবপারে
হাসনা হেনা জুঁই
সময় গেলো ফুরফুরাইয়া
খাইলি হাওয়ায় দোল॥

বাজার করলি হাটে হাটে
মনে যতো লয়
চিনলিনা তুই আসল রতন
পাইলিনা মন ভয়
আইয়ুব কান্দে মাঝ দরিয়ায়
পাইনা খোঁজে কূল॥

ক্যান বানাইলা জগত মাওলা

ক্যান বানাইলা জগত মাওলা
ভাইবা পায়না মন
খুঁজে খুঁজে দিন যে গেলো
হইলো না তাও অন্বেষণ॥

সাধ করিয়া নিজে তুমি
সাজাইলা দুনিয়া
আবার তুমি ভাইঙ্গা নিবা
ছারখার করিয়া
কীসের লীলা কীসের খেলা
বুঝলাম না তার কারণ॥

ঢং করিয়া সং সাজিয়া
কেনো বাহাদুরি
বাঁশি বাজবে ডুববে বেলা
সাঙ্গ জারিজুরি
আইয়ুব কান্দে আন্ধার দেখে
বুঝে না মন বারণ॥

মন চলে না মনের মতো

মন চলে না মনের মতো
কোথায় নোঙর বাঁধা
সুতার টানে আমি হাসি
সুতার টানেই কাঁদা॥

পাহাড় ভাইঙ্গা হয় দরিয়া
দরিয়া হয় পাহাড়
তার ইচ্ছাতে দিবানিশি
তার ইচ্ছাতেই আহার
কাহার জন্যে হইলো পাগল
জানে কেবল রাধা॥

সবার ভিতর বসত করে
তবু কেউনা পায়
বেলাশেষে সবাই দেখি
করে হায় হায়
আইয়ুব বলে পাইতে চাইলে
মনটা করো সাদা॥

ভ্রমর হইয়া গুন গুন করো

ভ্রমর হইয়া গুন গুন করো
আমি তো নই ফুল
লোকে দেখলে মন্দ বলবে
যাইবো জাতি কুল॥

তোমার মনে মন মিলাইবো
নাই তো সাহস বুকে
তুমি না হয় মালা গাঁথবে
আমি রইবো দুখে
ছুঁয়ে দেখার আশা নিয়া
মনটা রইবে আকুল॥

পাখি উড়ে নীলাকাশে
হংস মিথুন জলে
তোমার সাথে কইবো কথা
কইবো কোনবা ছলে
আইয়ুবে কয় এক জীবনে
জমলো কেবল ভুল॥

এই কলেমার ভক্ত যারা
আল্লাওয়ালা হইলো তারা
খেয়ার টিকিট পাইলে হাতে
যাবে নাতো জাহান্নামে॥

নবী চিনো কলমার সাথে
আলো দেখবে আঁধার রাতে
কোরআন কলমা না জানিলে
আইয়ুব মরবে শরমে॥

মো: আইয়ুব আলী

জন্ম ১৯৬৮ সালের ৪ মে,  জামালপুর সদরের হামিদপুর। 
পিতা মরহুম রিয়াজ উদ্দিন, মাতা মরহুম জুলেখা বিবি।  
পেশা- সরকারি চাকরিজীবী।  
আগ্রহ মূলত গানে। 
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার। 
রচিত গানের সংখ্যা তিন হাজারের অধিক। 
প্রকাশিত গানের বই- আইয়ুব গীতি (২০২০)
প্রকাশিতব্য বই - আইয়ুব গীতি - ২ (২০২১)
মোবাইল- ০১৯২০-২৫৩৩৩৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: