অনুধাবিত মহুয়ার বন

অনুধাবিত মহুয়ার বন

কতোটা উপরে ওঠা, নিচে নামার পর
অনুধাবনে
দেখেছিলে বিচিত্রতর ভর—
জ্বেলেছিলে মহুয়ার বনে
“প্রায়শ্চিত্তের উনুনে.. জীবনেরে বিদগ্ধ করে করে”—
ঘরে ফেরা হয়নি আর; প্রকাশ্যে নয়
মরেছি গোপনে।

মনে মনে এই মরা, মরা দিয়েই গড়া—
আত্মাদালতে;
যারা উৎসাহ দেয়নি
বরঞ্চ জ্বালা উসকে দিয়েছে ক্ষতে,
“সেসব শত্রুকে ভালোবেসে বলেছি— হয়েছি শব”
পিঠখঞ্জর বন্ধুর থেকে ওরাই ভালো,
পেয়েছি মতামতে।

পেয়েছিলাম— হরিৎ নিঃশ্বাস মাংসসুখ
ও বিচরণে,
অবাধের সুবাদে উড়ে ফিরে
মাতাল মহুয়ার বনে —
“কিনারা পাইনি তখন; যখন হুঁশ এসে দিয়ে গেছে নাড়া” —
ততক্ষণে হারিয়ে ফেলেছি সব
— পুড়ছি অনুধাবনে।

” তার ইশারায় সাড়া দিয়ে হয়েছি সারা”

পবিত্রবারের পাপ

পবিত্রবারেও তোমার তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয়, ঋতুরক্ত অন্তর্বাস পরিবর্তন করো, অস্বস্তিবোধে চোখ নিভিয়ে বাম কাতে শোও— ঘুমোবার চেষ্টায়।

আরোগ্য তেষ্টায়

আমি সন্ধ্যে নাগাদ বিছানায় গড়াগড়ি খাই, গোপন ছনাটার অভুক্ততা নিয়ে ভাবি…. দুশ্চিন্তা জট বাঁধে— প্রবল আক্ষেপে খসা দেহরস ধুই অবেলায়।

মনের যুদ্ধে পবিত্রবারেও মদঘরের এককোনে ঠাঁই নিই, কেরুঘ্রাণে গুলিয়ে ফেলি চেনা রাস্তা চেনা মুখ – বুকের অসুখগুলো ঝাড়ি অপরিচিতার ইনবক্সে।

আদি মিথ থেকে সরে আসার পর, বহুকাল যাবত আমরা তলপেটের উলুধ্বনি উপভোগ করিনা।

কি ছুঁই? কিছুই বুঝতে পারছিনা ২


চোখে ক্রান্তিকালীন ভ্রান্তি —
উপোস মনে অবকাশ দেখি,
দু’শো বিশ ভোল্টেজের ছড়ানো হলুদাভ বিজলিতে বেঁচে থাকা নগরী।

অস্বস্তিকর চন্দ্র বিতানে হাতড়াই পরিত্যাগপত্র,
বুড়ো ও মধ্যমাঙ্গুলির বিবাদজনিত শব্দে সংবিৎ ফিরে পাই।
জল মুছে গান্ধিপোকার ঝরাপাখা কুড়িয়ে রেখে দিই ময়লার ঝুড়িতে,
য্যানো কিছুই হয়নি সব স্বাভাবিক – কি ছুঁই? বেদনা? স্মৃতির জানালায় উঁকি দেয়া গাব বনের ঝিঁঝিঁকথা? নাকি অন্য কিছু?
ঠাহর কোরতে পারি না কিছুই,
আদতে কি ছুঁই?
আন্ধিক গারদে নিস্তেজ, গণিত ভাসে আধোতন্দ্রার ভেতরে,
মৌনতার ভাগাড়ে সঙ্গীহীন কল্পনায় আবারো মুছি জল।


আদতে আমি কি ছুঁই? কিছুই বুঝতে পারছিনা।

জরায়ুগ্রহেই ভালো ছিলাম — মা

মা —
সন্তানের প্রথম প্রেম হয়তো আপনি,
ষোড়শী গুণ্ডিমাত্রার বৈধ সঙ্গমে
ইতস্তত দেহ উপাদান মিশ্রিত পরিক্রমায় যে কোটি কোটি দেবতা ছুটে গিয়েছিল জরায়ুগ্রহে,
তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিজেতা আমি —
হ্যাঁ, এই আমি
আশ্রয় নিয়েছিলাম অনভিজ্ঞ জঠর ভূগোলে
জানি সেখানটার একটু উপরেই এক মহাবিস্মিত স্বপ্নাকাশ,
কিছু রংধনু অভিপ্রায়
আর সেখানে ডানামেলে উড়তে থাকা পর্যাপ্ত বিহঙ্গানুভূতি।

বাম পাশে ধুপ-টিব করে আকাঙ্ক্ষার ঝিঁঝিধ্বনি,
হাত চেপে অনুভবী আগামীর স্পন্দন —
অপরিপক্ব নড়াচড়াকে আওড়ে বেড়াতে দ্বিধা হচ্ছেনা যাকে তাকে।

এই অনাগত ছাড়পত্রের আগেই কতো আয়োজন?
নকশী কাঁথা
মধু,
কাজল
মশারীবূহ্য
আর
চাল গুঁড়োর প্রস্তুতি আমি দেখিনি
মুখের বদলে নাভিমূল থেকে আহরণ করেছি রক্তাহার
আয়ু-আস্ফালে প্রহর গুনেতে গুনতে
আগাচ্ছিলাম আভার প্রবেশদ্বারে—
নিজস্ব চিন্তাধারাকে ধারণগ্রস্থ অবস্থায়
শুয়েছিলাম নিরাপদ।

আপত দৃষ্টিতে—
জরায়ুগ্রহেই ভালো ছিলাম ‘মা’— নিশ্চিন্ত “নিরাপদ”,
এখন অবশ্য “নীড় আপদ”।

নীরা নিরাকার

নীরা কার
নীরা কার, নীরা কার?
আদতে নীরা নিরাকার, সকল প্রেমিকের হৃদয় আকার।

হলাহলগ্রস্থ মায়া মোহময়ী চোখে তৃষ্ণার আঁধার।

কথিত, ব্যথিত, মথিত –
নামী বেনামী, অন্তর্গূঢ় কিম্বা প্রকাশিত, সকলেরই হাহাকার।

ফের যদি পার্থিব পাই

[ফের যদি দ্বিতীয় পার্থিব পাই — তবে চাই’ই চাই ]

স্বাধিকার মন; বেলকাঁটাঃ পাতা ঝিরিঝির
চালের আড়ৎ থেকে গন্ধ আসে, মজুরের শ্রম শিশির —
বাঁশিটি ছিনিয়ে নিলে, গালটানা ঝগড়ার কাঁদাকাটি
জোঁকপোক সাবধান! ক্ষেত জুড়ে আলভাঙা ভাটি।

[টলটল জল, জলপতঙ্গ — ভাবতেই রোমন্থন
অতীতে জুড়ায় প্রাণাঙ্গ — উফ্ স্বাধিকার মন;]

ফিরে যাওয়া দুধজন্তুর খুরের ভাস্করে —
সাদাসাদা ডিম-ফোটানো ঘ্যাঙরঘ্যাংয়ের পোনা
বাস-করে
লাল গাঢ়লাল, স্যূর্যটা অস্তাচ্ছে, ফাঁস করে
কালো মেঘ, আতকা ঝড়েফেরে,মাস করেঃ— ” তাকেই চিনেছি বৈশাখী নামে —
আম কুড়ানি নববর্ষের বিভ্রমে।”

ফের যদি দ্বিতীয় পার্থিব পাই — তবে চাই’ই চাই,

হারানো শৈশবের কোলে বিকেলখেলা – লটকনফুলের সেমাই।

বৌ —
ওরে বৌ, পুতুল বৌ, রান্নাবাটির-খেলা
অন্যমন ভেঙে গেলে, ভেঙে যায় নববর্ষ-মেলা

দীর্ঘতম শ্বাস — ওহ শৈশব, সেতো জীবন থেকে ডুবে যাওয়া ভেলা।

[ফের যদি দ্বিতীয় পার্থিব পাই — তবে চাই’ই চাই ]

করোনাতঙ্ক

ভাইরাস ভয়, জরিমানা
তারচে’ও বড় ক্ষুধা — “ম্যাজিস্ট্রেট”
লাত্থিটা দোকানের ঝাপে দেননি —
টের পাচ্ছে পেট।

জন্মকুঁড়ের শোক

যে পথে পিছু ফেরার সুযোগ নেই – স্বর্গ ও নরক
সব মোহ তুচ্ছ মনে হয়, তাচ্ছিল্যের চোখ,
সর্বনাশ, তোমার দিকে স্বর্গ ও নরক কাটিয়ে পাশ –
পাইনি কিছুই – এ যেনো জন্মকুঁড়ের শোক।

নৈর্ঋত শাহরিয়ার

জন্ম - ১ মে ১৯৯০ পিরোজপুর। 
আগ্রহ - কবিতা।
পেশা - ব্যবসা। 
প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ - সুরমাদানিতে ব্যক্তিগত চোখ (২০১৯ অমর একুশে বইমেলা)
যৌথ কাব্যগ্রন্থ, অনির্ণেয় পেন্ডুলাম (২০২০ অমর একুশে বইমেলা)
ইমেইল- noiritshahrear@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: