বিদেহী বিড়াল চলে আসে // অনিমেষ প্রাচ্য

অ্যাপোলো

পৃথিবীটারে একটি মারিজুয়ানার নরকের ভেতর আটকায়া রাখি; সন্ধ্যায় যখন পালায় সবাই— আমি নগ্ন হই নিজস্ব কামড়ায়; স্নানের ঘরে; শিথানে। বালিশের তলে রাখি মেঘের দেবতা।—প্যান্টের ভেতরে ঘোরে ওই অলৌকিক ফানুস। করুণিকা। জিউস-কী জানে তাঁর বিবাহিতার স্তুতি? অ্যাপোলো আমারে বলে… ফ্রয়েড ঈশ্বরের দৃষ্টিতে দেখিলো সমগ্র।
সিগারেট খাই আর উইড়া উইড়া বেড়াই একটি সমুদ্রের ধারে। পাগল হইতেছি য্যানো উলঙ্গ অন্ধকারে। রৌদ্ররা নমনীয় আর।
আমি তো ভাবতেছি মারিয়ার বোধ।— প্রেমের কথা কইতে গ্যালে— ডাডাইজমে আমারে পাইবা দ্যাখো।
-মারিজুয়ানা খেয়ে— বধির হইতেছে সমুদ্রে রমণে লিপ্ত রূপসীদের ভেতর এমন মাছীয় জাত। তাঁরা কথা কয় আমার প্রেমিকা নিয়া। দেখি জলজ নাবিকিয়ানা; একে অপরের ওপর উইঠা বসে। লালসা পায় জলজের মতোন।
সঙ্গমে লিপ্ত না হয়েও প্রেম হয়। সমুদ্রের দেবীর কজন গ্রহীতা ছিলো? ওরকম স্মৃতি আমারে ব্যথিত করে। ভাবিতে চাইনা আর ন্যুডিয় আকাশের লীলাময়ী স্মৃতি নিয়া। এইসব; আমারে তো বধির করে। আমারে ব্যথিত করে। “তুমি-কী-জানো?..”

বিদেহী বিড়াল চলে আসে

হৃদয়ে সাগ্রহে স্নানে আছি আচম্বিত নয়নে — লব্ধ প্রগাঢ় চোখে তাকিয়ে তো দেখি— ভূমিষ্ঠ হলো আজ কোন প্রাণী! যেখানে সুন্দরীর অপেক্ষায় রজনী ক্লান্ত হয়, তবু সত্ত্বেও কি কারণে বিচ্ছেদ, ভয়াবহ মৃতদেহ?
করবী ভোরের মতো রক্ত আর কাহিনী বেবুন ফুটিলো আচম্বিত নয়নে। মৃতের সাথে প্রেম-প্ররোচিত হয়ে সমুদ্ররূঢ়াংশে গেল যে ঘৃণায় বিড়ম্বিত লৌহজং তারকা! বিদেহী বিড়াল!

কখনও একবার—কখনও একবার— বিদেহী বিড়ালের সহচর হয়ে থাকিতে চাইলাম। অন্ত্যেষ্টির মতো তুমি ফিরিয়া ফিরিয়া, ফিরে আসো। ঘটনায় বহিঃসংযোগ আছে; মলিনতা আছে।

আধার পরিমিত হতে নীলোৎপল রজনীতে উপরন্তু চার্বাক তাকাই। যেখানে নিজেকে দেখি সলিল/আচম্বিত নয়নে। যেখানে যেখানে বৃক্ষে ফোটেনি সমূহ সমূহ বীজ, নক্ষত্রের রেখা সেই সংতাপে সেই বর্ণনায় ‘চ্ছেদ-যন্ত্রণায় প্রগাঢ় আমি।

ব্রন্টোসোরাস

‘কিছুই না’ এমন ভঙ্গিতে বসে আছে ব্রন্টোসোরাস।

সাংসারিক আবহ ছেড়ে তার আর সময় কাটে না। আর তার সময় কাটে না, পৃথিবীতে। কার? মাকড়সার জালে বন্দি সে তো নিজেই। পথের নির্জনে যে দ্রাক্ষা-আলো কেবল নিঃসহায়, জানায় সে— তুমি আর এসো না, তুমি
আর এসো না গন্ধগহন রাতে।

আমি একাই,— নির্জন; নিরন্তর— মৌলিক গান গেয়ে থাকি। আজ আর পাখিদের চিৎকার মানায় না।

মায়াপ্রক্ষালন

প্রকৃত বায়ুর পঙক্তি ধরে হেঁটে — যখন আমি থেমেছি পথে, বহু শব্দকঙ্কাল হয়ে থাকা প্রশ্ন আমাকে চিহ্নিত করে উড়ে গেল সমুদ্ররথে। বাজপাখি তুলে নিলো পায়ে। ক্ষুধায় মৃদু স্মৃতিহীন হয়ে যাই। যেকোন লালিমাপৃষ্ঠ চিন্তা ব্যাহত হয়; হতে হয়— হেমাগ্নিও পুরোনো ব্যথার মতো, কখনও জ্বলে ওঠে সিংহদুয়ারে।

অজস্র ধিক্কার আর প্রবাহগুলি পথচ্যুত হতে আজও গগন থেকে ফিরে আসে মায়াপ্রক্ষালন।
প্রবীণ হয়ে যায় জীবনের কাল। আজও ভাবি বাতাস কেনো দোলায় ঢেউ, আমাদের ছন্দ, মৃগনন্দিত সন্ন্যাসী পথ।

শোণিত, শোণিত হও

অবদমিত! অবদমিত! হৃদয়ে প্রাকৃত আঁধার নিয়ে হলো হৃদয় এক পরিঘাত-প্রোথিত-অনল। জীবনে কি যে বিবশ, করে ধীর, করে সংশয় — হে অমানিশা, গহীন- আরও— গহীন— মহিকান গন্ধর্ব রাতের দিকে ছুটে চলা সাগরীর ন্যায় এ-দুঃখ গহীন করো।

জাহাজে পৃথিবীর সুদীর্ঘ কুমারী ওই, চাই তারে অতিশয় পথের ভেতর, ক্রমশঃ ব্যথায় স্বচ্ছ জলের ভেতর খুঁজে পায় নুরের সাঁতার।

কী যে পৃথিবীতে চিরস্থায়ী কথা হয়ে ওঠে, কিযে – কিযে আমাকে করে ফেলে দীর্ঘ সমীচীন, এ—আমার একার দুঃখ হয়ে ওঠে।

এক রিক্ত বেদনার সহচরে – যেখানে তাকাই, সেখানেই সম্পৃক্ত হয় শোণিত ত্রিতাপ।

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com, sohojat2019@gmail.com
মোবাইল- ০১৮৭৮-৩৫৩৫৮৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: