স্বরলিপি থেকে উড়ছে জোনাই

ক্রসফায়ার

এই যে ঘাগটছায়ার গাছে
ঝুলে আছে বিচার বহির্ভূত হত্যার স্যাম্পল, তারা
শিশুকন্যার ডাক শুনবে না আর পৃথিবীতে, খই ভাজা ডালা নিয়ে
শিক্ষার্থী ছেলের সামনে দাঁড়াবে না এরা কোনোদিন;

তারা বলিরেখা হয়ে সেঁটে যাচ্ছে
রাষ্ট্রের চোখেমুখে, বিষয়টি অবগত হলে
মহাকাশ বাতলে দেবে মেঘ, ক্রোধ হলে কি প্রচন্ড বাজ!

অলিগলি ডুবে যাওয়া বৃষ্টিতে যতো সৎকার
ভিজে যাবে, ভিজে যাবে আর
নধর বণিক যাবে, তার গায়ে ডিঙি ভাসিয়ে দিয়ে!

ডাক

ভাতের থালা হতে উড়ে
মিশেছে বাতাসে ধোঁয়া, নীল ঘন নীলিমার পাড়ে
কুহুডাক, স্বচ্ছল!

বেণী খুলে পড়ে যায় রোদের আঁচড়
সেকি হাসি ফুলকুমারীর!

এই গ্রামবাংলায় সব ধুলা গান
সব পানি স্বপ্নবিতান-

তোমাকে ছেড়ে আসবার পর

চোখ তুলে চেয়েছে বাগান
মর্মর তুলে পাতার ধরণী
বাঁশি হয়ে বাজতে পেরেছে আজো!

আটপৌরে

যেভাবে শরীর গুটিয়ে বাঁচো
মনে হয় জনপদে নয়
তুমি আছো সাপের গর্তে কোনও!

পরগাছাফুল ভরে গেছে আঙিনায়
শামুক হেঁটে আসে বুকে ভর দিয়ে।

যত আয়োজন বাঁচার জন্য তোমার
নগরনয়েজে চাপা পড়ে থাকে;
সন্ধ্যার চায়ের টেবিলে জুড়ায়
অস্তিত্বের কোলাহল!

যেভাবে পা ফেলতেছো এখন
মনে হয় গল্পের বুড়ি এসে
কাঁটা পুতে রেখে গেছে রাস্তায়।

ঘাড় গুজে বাজারে ঢোকো কেনো?
পৃথিবীকে মুখ দেখাতে গ্লানি?
তেল চালে ওজনের গাফিলতি?
মেয়ের লাগে বাইন্ডিং করা খাতা?

মৃত্যুর চোখে দূরবীন

উপমা গড়িয়ে আসে ঘরে
ঘরের ভিতর চালের ড্রামে পোকায় কাটার শব্দ
ঘর উঁচু নয় বন্যা এলে রক্ত ফোটায় পদ্ম-

কাছের মানুষ বুকের কাছে ফুল নাড়ানোর চিত্রে
আটকা পড়ে, জানলা থেকে ঢুকছে ঘরের মধ্যে
যার যেখানে উল্কি আঁকা, ফুলকি ছড়ায় দৃষ্টি
ঘাট বাঁধা সেই নদীর মাতম, দহনচেরা বৃষ্টি!

আমার ভীষণ গ্রামঘেরা এক দেউড়ি লাগে বসতে
শহরভেঁপুর সম্মিলিত শৃঙ্খল এসে আস্তে
আলগা করে লক্ষ সিনা, মেঘ ভেঙে দেয় বাজ

মৃত্যুর চোখে দূরবীন সাঁটা, আগুনঝরা সাজ!

প্যান্ডোরা যেনো বাকশো হাতে কোনো এক গোপন দুয়ারে
ঘুঘুধরা ফাঁদ আর করাঘাতে, ভ্রুকুটি হারায় পতনশিখরে!

চুপ করে আছে মানুষের ইশতেহার, চুপ করে আছে নবজাতকের বুক
পৃথিবীতে শুধু মৃত্যুর গর্জন, মুখোশ এঁকেছে, জটিল করেছে মুখ!

নিন্দা

যে কোনও পাশ থেকে
কাটা পড়ে যেতে পারো, এ এমন গিলোটিন-

নিন্দা তো নিঃশেষে বিভাজ্য নয়
খরুচে হাত তাহার, এই রাগে
বদলেছি গাড়িতে চড়ার ভঙি
শুধরেছি করমর্দন।

কি হয় ক্রোধে? এ এমন অস্বস্তি
চিতায় উঠে যায় বামুনের।
আজান থেকে গলা নামায় মুয়াজ্জিনের।

থাকে বিক্রম কারো
থাকে অস্বচ্ছল মানবতার গল্প
সবচেয়ে বেশি থাকে যে

‘দু হাত মুঠ করে ভিখারির বেশ ধরে’
সেই নিন্দা মহাশয়কে আজ
এগিয়ে দিয়েছি প্লেট, একসাথে নাস্তা করা যাক!

আমার সোনার বাংলা

স্বরলিপি থেকে উড়ছে জোনাই, পিছন পিছন চাঁদের আলো ডিঙিয়ে যাচ্ছে বেতফল;
সেখানে ঘাম জুড়াচ্ছে হরিয়াল- বাতাস এখানে বিউগল, দূর থেকে কান পাতে অদৃষ্টের
হরিণশাবক!

কোথায় যাবে, এই নয়নাভিরাম ছেড়ে? আর্ত কোনও স্বরের কাছে
তোমাকে করজোড় দেখি, ভাঁটফুল ফুটে আছে স্বল্প পরিচয়ে!

খালের ওপর মধ্যরাতে কাঁপতে থাকে সাঁকো, যেমন তোমার চোখে
অমিয়ভূষণ, এরপর প্রশস্তির বাঁকে এসে থামছে তরী;
নুড়িপাথরের তলে চূর্ণ বালি এখানকার কথ্যভাষার মতো উজ্জ্বল।

যাত্রা ফুরালো বুঝি? পীঠে কার ধারাবিবরণী বহন করছে চাঁদ?
চাঁদের হাসি ফলো করে করে, বাড়ি ফিরছে কেউ?

সাজ্জাদ সাঈফ

সাজ্জাদ সাঈফ

জন্ম- জুন, ১৯৮৪, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।

পেশা- চিকিৎসক।

সম্পাদনা- নীহারিকা(রম্যপত্রিকা, ঢাকা, ২০০২)
ঈক্ষণ(ছোট কাগজ, ২০০৭, বগুড়া), ক্ষেপচুরিয়াস ওয়েবজিন(সহ-সম্পাদক, ২০১১)

পুরষ্কার- বঙ্গভূমি সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'বর্ষসেরা কবি-২০১৯' সম্মাননা (কবি নেবে যীশুর যন্ত্রণা)

প্রকাশনা- কাব্যগ্রন্থ- কবি নেবে যীশুর যন্ত্রণা(২০১৭), মায়ার মলাট(২০১৯), ভাষার সি-বিচে(২০১৯)

প্রকাশিতব্য- বহুদিন ব্যাকফুটেএসে(সম্ভাব্য ২০২০, কাব্যগ্রন্থ)

ইমেইল- dr.sazzadsarker@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বরলিপি থেকে উড়ছে জোনাই

লেখকঃ সাজ্জাদ সাঈফ