সরকার জসীমের ছড়াগুচ্ছ

ভূত

তালে তাল তালকি
ব্যাংকের হালকি?
ঋণ দিবে কালকি
সেই টাকায় পালকি।

পালকির বেয়ারা
ডিমাকার চেহারা
ব্যাংকের লকারে
ঘৃণ্য প্রকারে।

ঢুকে যায় ভূত
কি যে অদ্ভুত।

বাঘের মাসি

বাঘের মাসি
হাসলো হাসি
গুফ তার পাকিয়ে,
ইলিশ মাছ
দেখতে পেয়ে
থাকে শুধু তাকিয়ে।

আসল কথা
ইলিশ আঁকে
মস্ত বড় আঁকিয়ে,
ইলিশ খেতে
বিড়াল হাটে
লেজটা শুধু বাঁকিয়ে।

ইলিশ তো নেই
আঁকা ইলিশ
পুরোটাই ফাঁকি এ,
বাঘের মাসির
ইলিশ খাওয়া
পড়ে থাকে বাকি এ।

গোয়ালে

কড়ই গাছে
চড়ুই নাচে।
জিঙ্গে গাছে ফিঙি
দোদুল দোলে
নদীর কোলে
কলা মৌচার ডিঙ্গি।

ডিঙ্গি চালায় বোয়ালে
দুধ বেচে খায় গোয়ালে।
দুধের মাঝে পানি
জীবন টানাটানি।

গরুর ছোট্ট ছানা
দুধ খেতে যে মানা।
উপোস কাঁদে সে যে
খুলবে দড়ি কে যে।

থাপড় মেরে চোয়ালে
দুধ নিল যে গোয়ালে।
ও গোয়াল তোর বাড়ি কই
কান্ড দেখে অবাক হই।

তোর কি নেই ছানাপোনা!
দুধ খেতে দে লক্ষীসোনা।

হুক্কা-হুয়া

বলছি কানে কানে
একটা প্রতিষ্ঠানে
তিনটা সভাপতি
কি চমৎকার অতি!

একটা কানা, একটা খোঁড়া
একটা জোয়ান, একটা বুড়া।
মটু এবং পাতলা
রুই আর কাতলা।

একটা থাকে ভীনদেশে
চ্যাপ্টা নাকের চীন দেশে।
একটা গেলে ডানে
কানে ধরে টানে।

এমন তরো কান্ড
ভাঙ্গলো ছড়ার ভান্ড।
অদৃশ্য এক দেয়াল
সুযোগ বুঝে শেয়াল।

ফেলে ঘুর্নিপাকে
হুক্কা-হুয়া ডাকে।

হরি-বোল

যে যাই ভাবুক
ছড়ার চাবুক।
কী বললে ওমা!
ভয় করে না বোমা।
চলছে এবং চলবে
সত্য কথা বলবে।

প্রতিষ্ঠানে পোলিও
সেই সুযোগে দলীয়।
বল ছুটছে সোজা বায়
বলটা বলো কার পায়?

ম্যারাডোনা, পেলে-
বল নিয়ে খেলে।
কবি চলে সৃষ্টি ছাড়া
তবে সে কি দৃষ্টিহারা?

খেলো সে যে তিনটে গোল
হৈ হুল্লোড় হট্টগোল
দলীয়রা বাজায় ঢোল
শশ্মান ঘাটে হরি বোল।

বুদ্ধিজীবি

টিপ্পনী তো টিটকারি
ঘরে নেই ছিটকারী।
কে নিলো যে ফিটকারী
কাকে ধরি কাকে ছাড়ি।

হিঁচকে চোরের কান্ড
ভাঙলো দই এর ভান্ড।
কি বললে ধুত্তুরি
জয়নুলের ছবি চুরি!

বিশ্ব কবির মেডেল খানা
কে নিয়েছে তাও কি জানা?
কোথায় ছিল মেডেল রাখা
হঠাৎ করে গজায় পাখা!
উধাও হলো পাখনা মেলে
কি বলছো এলে বেলে?

বুদ্ধিজীবি চোর যে সব
দুই বাংলায় উৎসব।

গাতুর ব্যাঙের ছড়া

গাতুর ব্যাঙ
মেললো ঠ্যাং
লিখলো ছড়া
কড়াকড়া।

বই আকারে
হলো ছাপা
ছড়ার ছন্দ
নেইতো মাপা।

একটা লম্বা
একটা বেঁটে
যাচ্ছে ছড়া
খুঁড়িয়ে হেঁটে।

পড়তে গেলে
খাচ্ছি খাবি
ছন্দ হলো
ছড়ার চাবি।

ছড়া চলে
দুলকি তালে
হেলে দুলে
রাজার হালে।

একটু খানি
হুচোট খেলে
যায় উড়ে যায়
পাখনা মেলে।

বৃষ্টির ছড়া


রোদ ঝলমল
মধ্য দুপুর
বৃষ্টি হঠাৎ
টাপুরটুপুর
জল টলমল
পদ্ম পুকুর
টুপ টুপা টুপ
বাজায় নূপুর।

পাতার ফাঁকে
লুকিয়ে থাকে
বৃষ্টি কণা
যায় না গনা।
হঠাৎ করে
যায় যে পড়ে
টাপুর টুপুর
গায়ের উপুড়
দেয় ভিজিয়ে গা
বৃষ্টি ধোয়ায় পা।

থামরে বৃষ্টি থাম
হাতে অনেক কাম।
খোকা গেছে ইস কুলে
নেই কেউ বিশ কূলে।
আনতে হবে তাকে
ছুটতে হবে মাকে।
আর দিস না জ্বালা
বৃষ্টি এবার পালা।

সরকার জসীম

সরকার জসীম

জন্ম:- ১ জানুয়ারি ১৯৬২, বাউন্ডারি রোড, ময়মনসিংহ। 

পেশা- ব্যবসা

আগ্রহ- ছড়া ও কবিতা।

সম্পাদনা - ছড়াকাগজ টুংটাং, তেপান্তর, অন্তরমন্তর 

প্রকাশিত গ্রন্থ-
হুল্লোড় (ছড়াগ্রন্থ, নওরোজ কিতাবস্থান)
ছড়ায় শেখ মুজিব (পালক পাবলিকেশন্স)

ইমেইল- sarkarjoshim@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সরকার জসীমের ছড়াগুচ্ছ

লেখকঃ সরকার জসীম