“ফ” বলতেই ফুলগুলো জ্বলে উঠে

গীত

অঙ্গ না হও—
এই হাওয়া সত্য, পুকুর ঘাটে
অর্ধ স্নানরত চুলে

যদি একটু ঘুরে তাকাও—
পাখির উপর চোখ রেখে

ছোট্ট নয় সে আলো
কি জানি ভাবলে, বলো?

ডুব দাও, শরীর ভাসাও—
জলের উপর মৃদু তরঙ্গ
যেন একটি অসামান্য নাও!

কিভাবে বলি, গাছের শরীর—
পাখি সত্য—সত্য যেদিকে তাকাও

বনের ধুলা চোখ মেরেছে
গাছে! পাতার শরীর জুড়ে—

ফুটছে দূরে, তুমি গ্রামের মেয়ে—
জানি, ঋতুভরা ফুল ফুল গন্ধে
লেখা সে নাম আমার স্কন্ধে

আহা! এভাবে কেন যাও
কোথায় যে কি হারাও

ভাবি, গৃহবধুর এক কিশোরী—
না হওয়া সেইসব মিতালি

জলের নিচে ডুবে গিয়ে মিথ—
মাটির গভীরে ঘুমিয়ে পরেছে আজ
হারানো সেইসব সোনার গীত

তুমি একবার, একটু কথা কও।


এই শীতে

কোথায় যেন মরে গেছি!

ওফ! ভেজা তোয়ালে—
শীতের ছোট্ট রাত
খটমটে খয়েরি খাট
কে আমি?

ভাবছি, অসংখ্য এলেবেলে কথার পাশে
যে ভাষা মেয়েমানুষেরা লুকিয়ে রাখে।

সেখানে বাগান, হাওয়া—
কিছু ফুল অন্ধ হবার পর
তারা একসাথে গাছ হয়
এক ডাল থেকে অন্য ডালের পাশে
শুয়ে বসে মরে যায় আলো!

যেন আমরা নষ্ট করে ফেলি
পাতার উপর সকল দাগ
এই ঋতু বৈচিত্র—
ঠোঁটের সকল অপরাধ

আর নোনা কিছু ছবি স্রষ্টার হাতে।

এমন কেউ যদি আসে বাতাসে
কাঁপতে কাঁপতে ছায়ার পাশে

তাকে আমার সন্ধান দিও
তাকে নিজের সন্ধান দিও
তাকে পাখির সন্ধান দিও

আর আমার মুখের বরাত।

এই শীতে—
সোনালু গাছের নিচে
হলুদ হলুদ ফুল

আমি তার শরীরে চুম্বন রেখে গেছি…


আদম

বাবা, আমাকে ভাসিয়ে নাও
মায়ের নৌকায় শুধু অন্ধকার আর পানি
শরীরে আচমকা পাখি পাখি গন্ধ লাগে
না জানি—কোন কালের কোন ফল
খেয়েছিলো সাপ, সে চির অভিমানী

হায়! আমার দিন-রাত্রি

আমি বিশ্বাস করি—
আমার আব্বা বহুদিন নিঃসঙ্গ থেকেও নিরাপদ ছিলেন
জগত থেকে দূরে এক মহাগ্রামের ভেতর
কোনো কিছুরই সংকট ছিলো না তার

যেন সে একা একা—
সৃষ্টি আর বিলয় বেদনার বাহার

বাবা, আমাকে ভাসিয়ে নাও
এখানে মানুষ আর মানুষে বিদ্যুৎ খেলে
মিথের রাজা ওরা—
আম্মাকে ভুলভাল ডাকে
তিনি নৌকা—তিনি পাখি—তিনিই আব্বার নারী

হায়! আমার দিন-রাত্রি
আপনার খেলা আর শেষ হয় না, বাবা!



শ্লেট

ওহ, আমার কালো পাথরের শ্লেট—

“ফ” লিখলেই ফুলগুলো জ্বলে উঠে
আর মাথার ভেতর বিহ্বল বিল
একজোড়া কালো হাঁস
তারা ডুব দিয়ে উধাও

তারপর…

নানান ভাষার দিকে ছুটে
আর নিজের দিকে তাকায়
ভাবে, কে বানালো—
এইসব মাটির সঙ্গ, অঙ্গ, গহনা আমার

যখন শীতে লাগে—
বসন্ত ছোট হয়ে আসে আঙিনায়!

কালো পাথরের শ্লেট—

আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি
টুকরো টুকরো চক হাতে

ছোট্ট একটি গোলাপের জন্য
ছোট্ট একটি আলাপের জন্য
ছোট্ট একটি বিলাপের জন্য

তুমি খণ্ড বিখণ্ড মৌমাছি—
মাঠ থেকে ছুটে আসা ঘ্রাণ
মিহি মৃত্যু বাথান
যখন মুক্তো করো সবকিছু স্তন থেকে

পাতারা ছেড়ে যায় পাতার প্রাণ!

যেন গাছ থেকে লাফিয়ে নামি
মানুষের ডামি, অদ্ভুত—
যা আমাদের সঞ্চয়
আর গুঞ্জন

দেখি, একটি ক্লিপ—
ফাঁকা রোদের ভেতর একা
সেমিজ কামড়ে পড়ে আছে

মাথা শূন্য। যে চলে গেছে—
তাকে গায়েবি গ্লাস দাও
তিনি দুগ্ধবতী নারী

আমাকে দুধ খাওয়াবে।



ফুঁ

কোথাও উত্তর নেই।

এমনই বেঁচে থাকাই বাঁচবো আমি—
ঘুরে ঘুরে সব জায়গায়
ফুটে থাকবে প্রশ্ন!

অথচ কোনো উত্তর নেই।

তুমিও প্রশ্ন! বিশদ প্রশ্ন! অনন্ত প্রশ্ন!

উর্ধ্বে, তোমাকে ধরে যদি মারি টান
শুধু ফুলের গায়ে ফুঁ দিয়ে
যেন কিছু ধুলো সরালাম।

তারপর, একরাতে খুঁজতে থাকবো
মদ—পথ—মত, যে কোনো কিছুরই
এটা একটা অবাক চিহ্ন।

তুমি উল্টো শুয়ে থাকো—
আমিও উল্টো পায়ের কথা শুনবো।

তুমি কিভাবে এলে!
কতোদূর থেকে এলে!
মাধুর্য নিয়ে সংলাপে!

পৃথিবীর সমস্ত ঘরে আমার তোমার রুমাল
তুমি উড়িয়ে দাও—লাল, সাদা আর কালো

এমনকি আমাকে থামাও—
আমি মিশে যাচ্ছি ধুলোয়, তাকে ফুঁ দাও

দ্যাখো, ছোট্ট বালি আমি—
তোমার চোখের ভেতর এখনও কেমন যন্ত্রণা দিচ্ছি।


বাংলায় আমি কে

যেন বিচিত্র স্বভাব!

পাইপে আটকে যাওয়া পাখি—
পেইন পেইন এই শীতে
ছোট্ট এক মাস্তান
কি যেন শব্দ তুলে—
মাঝখানে।

বলো, বাংলায় আমি কে?

মেথর বাড়ির মেয়ে—
লালচাঁদ, বালি
আয়, লুকাবি—
মসৃণ মুখ
ফুলের ভূত—রক্তের চেয়েও দামি।

তবুও ভীষণ অভাব!

মাথা খারাপ, মাটির পাখি—
ভেঙ্গে যাচ্ছে বাহানায়
দূরে,

একা এক আল্লাহ সে
আমি তার বহুরূপ

বিশদ কল্পনা…



কে তুমি

তোমার বিড়াল সুন্দর—
শহর ঘুরে দাঁড়িয়েছে
আমি মদ খাবো—
এই আলোর ভেতর

বলবো—
কে তুমি?

সাদা, যে কুকুর—
তাকে চুমু খাবো হঠাৎ।

যে কোনো মানুষের মতো
এটা হতে পারে একটা গুলি
হতে পারে এটাই শেষ আমি

তুমি না বুঝে উঠার আগেই
মাছরাঙা তার আগুন ঠোঁটে
ছুঁ মেরেছে, সত্য আমার চোখ

সে সময়, আমাকে ভুলে যাও—
লাল চুলের ফিতা
আমি পাগল আছি—
বাতাস ভীষণ লুটেরা

বলবে—
কে তুমি?

মসৃণ, বুকের নিচে—
মেরে ফেলবো তোমাকে হঠাৎ।

একটি বিড়াল
একটি সূর্য
একটি মুর্খ
একটি গোলক

আমাকে ক্রমে ক্রমে শেষ করে দিচ্ছে…

পক্ষ

আমি ঈশ্বরের পক্ষে—
কেননা, তিনি কোথাও না কোথাও আছেন
এই আছেন-এর পক্ষে আমরা

আছি—
যে কোনো তাসের ভেতর
ছোট ছোট দানে, ছোট্ট হাসি
যখন তারা হাসেন—
আমিও হাসি

পক্ষে আছেন তো—
নিজের মতো, নিজের দিকেই আছেন
আমরা যেন গভীর, ঈশ্বরের পক্ষেই

যেহেতু তিনি হেলেই আছেন

পক্ষে থাকাই ভালো—
ভালোর চেয়ে আরও বেশি ভালো
নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রাচীন রাডার

কারা যেন নামছে—
ঝিরঝির বাতাসে, ন্যাংটা ন্যাংটা
তারা কি ভীষণ অবতার!

সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। 

পেশা : চাকুরি।

আগ্রহ মূলত কবিতায়।

প্রকাশিত গ্রন্থ-
একাই হাঁটছি পাগল [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮]

ই-মেইল : showmo.sarajat@gmail.com 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: