পঞ্চস্বর ৪

তমাল হাসান

কালচক্র

অভিধানের ভারাক্রান্ত শব্দের বোঝা বইতে বইতে ইতো:মধ্যে গতকাল পর্যন্ত পৌঁছেছি।তাকিয়ে আছি তার আগের দিনের সকালে, যে সকাল শুরু হয়েছিল তারও আগেরদিন, যেখান থেকে তাকালে আমার জন্মদিনের শুক্কুরবার দেখা যায়।

একটা মাকাল গাছ

একটু সোজামত হয়ে দাঁড়ালেই
একটা মাকালগাছ ডিস্টার্ব করে
সাথে আরো দুটি মাকালমত গাছ
গভীর গোপন ষড়যন্ত্রে অবিরত
আমার ফল-ফলান্তির চারপাশে
আমার হাড্ডি-মাংসের চারপাশে
আমার কোমল-ত্বকের চারপাশে
যে ত্বক আমাকে সেক্সের যোগান দেয়
যে ত্বক আমার ফল-ফলান্তির যোগান দেয়
প্রেমিকা হারিয়ে যাওয়া নারকীয় দিনগুলিতে
গোলাপের বদলে অন্যকোন ফুলরূপে আচ্ছাদিত
যাকে আমি প্রায়ই ছাতিয়ান গাছ বলে ডেকে থাকি।

নজির আহমেদ

কবি ও কবিতা

একটি কবিতা লিখবো বলে
শত শত কবিতা লিখেছি; তবুও তৃষ্ণায় পুড়ে যায় মন। সারাক্ষণ একটি কবিতার করি অন্বেষণ।
একটি কবিতা লিখব বলে
জলে স্থলে অন্তরীক্ষে উড়াই ভাবের ঘুড়ি। একটি দুটি শব্দ লিখেই কাটাকুটি, বলছি নিজেই-ধুত্তোরি!

সংশপ্তক

জলশূন্য ধারাপাত আমি তোমার যাদুঘর ।
পাড়ার ছেলেরা পোস্টার সেঁটে যায়,
দাঁড়িয়ে মুতের ফেনায় সুখ স্বাধীনতা কুড়ায় পুরুষ;
পথচারীগণ ছুঁড়ে মারে থুথু….।

আমি তোমার যাদুঘর, হে জলশূন্য ধারাপাত
আমার মজ্জায় ডায়াবেটিস
খসে পড়ছে আস্তর….কালধারায় এক শিক্ষানবিশ!

যা হওয়ার কথা, তা হয় না।যা হয়, তা হওয়ার কথা নয়। বিলবোর্ড হাতে নিয়ে বোবা নটবর
কিংবা কাকতাড়ুয়া; যেমন “কষ্টে আছি-আইজুদ্দিন,
অপেক্ষায়-নজির, সবর করা হৃদয় ডাস্টবিন!

সকাল থেকে মধ্যাহ্ন, করে যাচ্ছি করাঘাত।
হয়তো দুয়ার খুলবে কিংবা
খুলবে না, তাই বলে তো থেমে যাওয়া চলবে না।

পূর্ব মিজান

চারুমিত্র সিরিজ

পাড়ার মাসীদের ব্যালকনী ধরে দাঁড়ালেই
কলিং বেলে বেজে উঠে বসন্তের কোকিল,
ইদানিং মাসীমাদের ইনবক্সে সন্ধ্যাকালীন জ্বর
তাই তাদের স্মৃতির প্রাইভেট নোটবুকে
শৈশব উকি দিয়ে যায়।
গতকাল যুবকের টি-শার্টে যে ননস্টপ বৃস্টি হয়ে ছিলো
আপারা তার উপর দুপুরের গল্প লিখতে গিয়ে
মৌ-বনে যৌবন প্রাপ্ত হয়,
বালিকারা অপেক্ষায় হাতের আঙুল চুষে
“ভাবে একদিন আমাদেরও এমন দিন আসবে,
প্রেম ভালোবাসার যোগ বিয়োগ করে দেখবো
প্রেমিকার প্রতি প্রেমিকের মৌনতার আসর
কিংবা হৃদয়ের টান কতো।”
মোমের আলোয় আলিফ লায়লাকে দেখে বালিকারা ভাবে
মূলত রাত হলেই শুরু হয় পাড়ার ফ্ল্যাটবাড়ির মাসীদের আরব্যরজনীর সংসার।
এমতবস্তায় নতুন বৌদিরা বোতাম খুলে দেখায় গোলাপের বাগান
অতঃপর তাদের হানিমুন বিছানায় ছড়িয়ে পড়ে অজস্র ফুলের আনন্দ,
মুখোমুখি যুগল প্রণয়ের চোখ দেখে নেয় নূপুরের শব্দ হয়ে উঠে নারীর মতো।
রমনী অথবা নারীরা শরীরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ঘষে সুন্দরী হয়ে উঠে
চোখের শাসন ডিঙ্গিয়ে হৃদয়ে আছড়ে পড়ে ঠোঁটের ইস্তেহার।
পশ্চিমবাংলা কিংবা পশ্চিমবঙ্গ,
বালিকারা তখনো পাঠ্যপুস্তকের বাহিরে মুখস্ত করে
সুচরিতা, সুচিত্রা আর সুস্মিতা সেনদের নাম।
ললনারা ট্র্যাফিক সিগন্যাল দেখিয়ে মনে করিয়ে দেয়
হাসি মুখ শেমিজের সাদা কালো বিকেল,
শরীর জুড়ে শীতবোধ হওয়া সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করে
অতঃপর গাঢ় হয়ে এলে এইসব রাত
মাসীরা বলে- মূলত বয়স না হলেও এখান থেকেই প্রেম কিংবা ভালোবাসার শুরু।
ঋতুদাসী কিংবা কৃতদাসী?
চারুমিত্র, কেনো ঠোঁটে আগুন লাগিয়ে পুড়ে
আরো লাল করে দেয়া হয় চূড়ান্ত পান্ডুলিপি।
আপনার হাত রুমালে লেগে থাকা শৈশব
ছুঁয়ে দিলেই নিঃসংকোচে হয়ে উঠে ম্যাগাপিক্সেল প্রেম।
ওয়াও চারু, মনে পড়ে আপনার ভালোবাসা তখনো বাল্যশিক্ষার ধারাপাত
চোখ থেকে চোখে সমর্পণ করি স্রোতস্বিনী ঝুরঝুরে নদী।

সরকার জসীম

বিভাজন রেখা

অদৃশ্য বিভাজন রেখা কাছে টেনেও ঠেলে দেয় বহুদূরে
চালকলে ক্ষুধার্ত পাখির ঝাঁক।
ভাঙা স্বপ্ন-শরে বিদ্ধ আহত পালক
যায় উড়ে উড়ে, মলিন অন্তরীক্ষে
বুকের পাঁজর ভাঙে, ভাঙে নদীর পাড়
রাশি রাশি জল মাটির আনন্দ হাতে
যায় অপার গহীনে।
সংসার হাঁটে দীর্ঘ দিনে কালো পা ফেলে
স্বজন স্বজন নেই হৃদয়-উত্তাপ।

বৃদ্ধ মা শুনে একলা ঘরে
গ্রামোফোনে হারানো দিনের গান।

লকার

তোমার লকারে হৃদয় জমা
হে সুভাষিণী অনুপমা
পাসপোর্ট ভিসাহীন মন
ছুটে যায় দেশান্তর, যায় বৃন্দাবন
মানে না শাসন, মানে না বাঁধা
মন যেন ননী চোরা কৃষ্ণের রাধা।

সাগর শর্মা

শৈ-শব

এ জীবনের করুণ— খেলাচ্ছলে
হারিয়ে ফেলেছি রঙিলা শৈশব
মনে পড়ে, ছেড়ে গেছে সেই হাত
পড়ে থাকা পাড়াতো বোনের শব।

সে শৈ-শবও ফেলে এসেছি কবে
পুতুল খেলার দিনের মতন
সুন্দর! পুতুলের বিয়ের ছলে
আমরা। দুজনে খেয়েছি চুম্বন।

ছোটবেলার এমনতর স্মৃতি—
কেন হায়, মনে পড়ে আচমকা;
কাশফুল ছড়িয়ে যাওয়া বনে—
দোলে উঠে দুই কানের ঝুমকা!

এমনসব শিউলি ফোটা ভোরে
আমরা কুড়িয়েছি কত আকাশ—
তুই, শৈশবে শিউলি ঝরা ফুল?
বিলের ধারের ফুটে থাকা কাশ!

যৌনতা

বহুদূরের এক বিনম্র সুরে
নদীর এ ভরা যৌনতায়—
দূরে হারিয়ে যাওয়া স্রোতে
চিঠির নীলখামটি ভেসে যায়!

দূর-পাড়াতো বোন এসেছো
নায়ে চড়ে। মৌনগন্ধ ভরা রাতে—
যেন সে—সুর বহুদূর বিস্তৃত
বেজেছে জল ও দাঁড়ের আঘাতে।

তবু দূরের হারানো সেই সুর
যেন হৃদয়ে গহীন বাজো—
স্রোতহীন সে নদীর বুকে
কে নামাই বিকেল আজও!

কে হেঁটে রোজ হারিয়ে যেত
বাঁকখালীর করুণ এই ঘাটে
কে চিঠির উত্তর না দিয়ে—
চুমু খেয়েছিল রাতের প্রপাতে!

সম্পাদক

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক
প্রকাশিত বই-
কবিতাগ্রন্থ- সেলাইকল (২০১৮)
গল্পগ্রন্থ- আমার প্রথমা (২০১৩)
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com
মোবাইল- 01878353588

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পঞ্চস্বর ৪

লেখকঃ সম্পাদক