পঞ্চস্বর ২

আশির ব্রত চৌধুরী

শিরোনামহীন কবিতা

বর্ষা ভিজে গেলো
কতোবার ভিজে গেলো
ডাঙায় রাতের পদছাপ।
লতানো গাছের মতো নিবিড় শরীর।
কতোবার চেয়ে দেখি চাতালে ডুবেছে সূর্যখান।
শেষের পাতার মতো পুরোনো আবাস।
কোপের শরীর নিয়ে
রাত্রিভর নিজেকে হাতরাই।
আমাদের সন্ধিক্ষণে আতুরে পুড়েছে আবাসন।
ঘৃনায় বসতি নেয় বুক জুড়ে দৈব সুলক্ষণ।


উঠোন উঠোন খেলা। হাতে ধরি চাঁদের শরীর
কখনও বা
ছোঁয়ার দূরত্বে নামে ঘন বর্ষাদিন।
অলৌকিক স্বপ্নবীজ।
জানালা অবাক করে ডাকে, না ছোঁয়া প্রশ্রয়।
বরিষণ ঘোর হলে দৃষ্টিপথ সহজ দূরত্ব।
সীমানা আলোক মাপও
পরিসীমা ফিকে করে যতদূরে প্রহরীর চোখ।
শুধুই বিফলে গেলো
নিরীহ শাবক জন্ম তাম্রপত্রে ভাসানো ফলাদি।

শোয়াইব শাহরিয়ার

ক্ষুধা

আজ আমার প্রথম জন্মের
অবশিষ্ট আয়ুগুলো ফিরিয়ে দিচ্ছি
আজ আমার কবর থেকে—
উঠে আসছে বেদনার ফুল!
তুমি তবুও আজ আকাশ থেকে
একবার মাটিতে নামো
একবার অন্তত দেখো—
মাটিরও ক্ষুধা আছে সীমাহীন।

সন্ন্যাসী

অজস্র ব্যথা নিয়ে
অনবরত হাঁটছি
হাঁটতে হাঁটতে, হাঁটতে হাঁটতে
তোমার কাছে পৌছাই;
তোমার বুকের বাঁ-পাশে
গভীর একটি তিলও দেখতে পাই
—পাশাপাশি নিজেকেও!

সেখানে তল্লাশি করে জেনে যাই—
প্রেমিকার তিল একটি মৃত্যু পথযাত্রী প্রেমিক সন্ন্যাসী।

সুমী সরকার

কথা ছিলো

কথা ছিলো পাতা ঝরার দিন শেষে
ফিরবো তোমার কাছে।
বিশ্বাস করো- ঝরতেই শুধু দেখেছি, কোমলতা আর দেখিনি।
বসন্ত বার বার শুধু ফাঁকি দেয়
এতো ফাঁকি নিয়ে কি ফেরা যায়?
আমিতো সতেজ পাতার আগমনী মুগ্ধতায়
ফিরতে চেয়েছি তোমার ভুবনে!
এতো কাল পরে শুকনো পাতারা জানান দিলো
আমি নিজেই নাকি তাদের দলভুক্ত হয়ে গেছি।

তৃষ্ণা

জীবনের তৃষ্ণা সে তো অতৃপ্ত
নিরব যন্ত্রণার পথ মাড়িয়ে
অবিশ্বাসের ক্লান্ত ছায়ায়
নির্দ্বিধায় পথ চলি।
এ পথ-
বেশ না হলেও বেঁচে তো আছি।

রেদওয়ান আহমদ

রাত ০১

পাথর চোখে তোমাদের সন্ধ্যা আসে অভিবাসন ভুলে একে একে তোমরা দাড়াও
পৌষালি বিকেল নিয়ে ভাবা শুরু হয় তোমাদের মুখ মলিন হয়ে আসে
তোমরা ভাবো গৈরিক দিন যদি একা একা যায়, তবে তার চেয়ে
অপেক্ষামান রাত কি ভালো নয়?
কেউ কেউ প্রথম অন্ধকারের ডানায় ডানায় ছড়িয়ে দেয় আলোর চুম্বন।
এতসব প্রস্তুতি শেষে যখন রাত আসে প্রথম অন্ধকারে নেচে উঠে কোন বাচ্ছা মশা
যার কাছে দীর্ঘ বছরের পর এই বুঝি রাত এলো।

★ রাত ০২

সন্ধ্যা আহূত হলে কারো কারো ভোর এসে পড়ে, যদিওবা রাত আসে অনেকের। তবে রাত যদি রাত হয় কারো কারো ভোর হয় কেন? জীবন জোনাকি কি এই প্রশ্ন জানে এসব কি লেখা আছে কোন নৈশ ঘোড়ায়? যদি থাকে তবে আমি কি সেই নিষিদ্ধ কোলাজ অথবা আলের ঘোড়া যার শোকবীজে জন্ম নেয় অশুদ্ধ তাম্রলিপি। তবে এনিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই, আমি প্রতিরাতের সতীচ্ছদ উচ্ছেদ করে জোছনা জলে মুখ ধুয়ে দেখি কারো কারো রাত-ভোর হওয়ার কারণ।
শৈশবে পা গেড়ে বাড়ি বানানোর মত বালির স্তুপে এরকমই তো আমার অসংখ্য দ্বীপপুঞ্জ, প্রতিদিন মাহুতের খুঁজে ফিরে ফিরে আসে শাদা কফিনের ভেতর। অথচ আমি আমার রাত-ভোর হওয়ার কারণ খুঁজে না পেয়ে ছুটে চলি অন্ধ তাম্রলিপির রাস্তায় রাস্তায়।

তাসনিম রিফাত

সমুদ্রসম্ভাবনা

পাতাটি পুড়ছে নিজেরই স্বভাবদোষে,
রাখাল মাঠে গরুটিকে লয়ে হাঁটছে,
বৃষ্টিতে সে ভিজতে ভিজতে নাকাল,
কাচের নদীটারে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছে।
খেতের ধারে পিতামহের ছায়া,
বাঁশঝাড়ের লম্বা লম্বা দাড়ি
জানান দিচ্ছে সমুদ্রসম্ভাবনা।
পাতাটি পুড়ছে, গরুটি ভিজছে; নাকাল।
সে দৌড়াচ্ছে ধানখেতের দিকে
ঋণের দিনে সবখানেই ফাঁপা
মাঠ ভরে গেছে কবরে কবরে।
সে ঠেলছে পিতামহের ছায়া
সে ঠেলছে বৃহৎ নদীটারে,
সে ঠেলছে সমুদ্রসম্ভাবনা।
পাতাটি পুড়ছে,
পুড়তে পুড়তে নাকাল।

একজন উল্কি শিল্পীর প্রতি

দিনগুলো পিঁপড়ের মতো হাঁটে…
একটা ঘোড়া মাঝখানে বসে ভাবে সেসব কথা।
আমার পকেটে পুলিশ ঘুমায় আর চাঁদের মধ্যে আমি
অনবরত উল্কি একে যাই, উল্কি আঁকি দরজায়, উল্কি আঁকি জানালায়।
মরে যেতে পারি, জীবনের প্রতি করুণা হয় বলে বেঁচে আছি,
অবশ্য চড় মারি, আপেলের মতোন আত্মা নিয়ে যুদ্ধ করি চেয়ার টেবিলের সাথে।
আমি কিছুতেই ভয় পাই না, বন্ধুগণ।
যখন আমি আগুন গিলি আর পাউরুটিন সাথে দেখি মিশে আছে বুলেটের গুড়া,
বিচলিত হই না,
সবকিছুই আনন্দের সাথে নেই।
একটা অন্ধকার রাস্তার পাশে বাতাস কোকাচ্ছে।
আমরা স্ফটিকার শূন্যতাকে ধরে ছুড়ি মারছি একে অন্যের দিকে
আরো গভীরে
তবে, সিগারেটগুলো পুড়ে গেলে জ্বরে,
কেউ আর ভূমিকম্পের দোহাই দিয়ে তোমার
মৃত্যুসংবাদ শুনাতে আসবে না।
কেউ বলবে না কোন কথা,
কেউ শুনবে না কোন কথা,
কেউ জানবে না কোন কথা,
একটা কাগজ উড়তে উড়তে উড়তে কেবল মরে যাবে বয়সে।
আমাদের জীবনী তো আমরা লেখেই রেখে যাবো কবরে।

সম্পাদক

সম্পাদক

শাহীন তাজ 
কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক
প্রকাশিত বই-
কবিতাগ্রন্থ- সেলাইকল (২০১৮)
গল্পগ্রন্থ- আমার প্রথমা (২০১৩)
ইমেইল- mrshaheentaj@gmail.com
মোবাইল- 01878353588

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: