নজর দিলেই তুমি মুহূর্তে সোনমার্গ

রঙ

তোমার
নামটি নিলেই ফুল তো ফোটে
একটি করে
আর মনে হয় আছেই শামীম
ভুবন জুড়ে

দেখো
হাটছে তো সে চলছে তো সে
পুষ্প কুড়ায়
ভূপৃষ্ঠে সে হাটবে এমন
কি যোগ্যতায়!

ঢাকার
শাহবাগে তো দেদার চলে
চায়ের বাটি
গ্রীষ্মকালের তরমুজ আছে
মিষ্টি খাঁটি

কোথাও
হাটছে না সে বসছে গিয়ে
ফল-দোকানে
নিবিড় কিছু রস যদি পায়
সঙ্গোপনে

পিরিচ
এগিয়ে দেয় হুজুর স্বয়ং
দোকান মালিক
তরমুজের এই রঙেই শামীম
দিক কি বিদিক

ভাবের পদাবলি

পিরিতের জলসাঘরে যাবো
প্রণয়ের জল-সাগরে যাবো
মাতাল হবো নগ্ন মদিরায়
এ হয়তো অলঙ্ঘ্য নিয়তি

তরুণীর আলিঙ্গনে ছেড়ে দিবো
পথ-ঘাট-আড্ডাখানা
দৃশ্যের নেশায় ছোটা পা

পড়ে থাক বিশ্ব চরাচর
সব নিয়ে এখন আর ভাবি না

আহাম্মক

ঘুড়ি ওড়াও বলেই তুমি ঘরে ফিরতে পারো না
আর তুমি স্বাধীনও নও আসলে
ঘুড়িটিকে তো বন্দী করে রাখো
দুর্দশার ছায়াও শরীরে মাখো সারাদিন
কী ভীষণ খিটখিটে
টানে টানে শিকার করো শেষ স্বস্তি ঘুড়িটির
পলে পলে জমা হয় খতিয়ান
হাতের রেখার মতো গোপন আর কালোকায় অক্ষরে

জিঘাংসা এক আশ্চর্য নেশার জগৎ
ক্রোধান্ধ মানুষ সম্ভবত আহাম্মক হয়
বা বলা চলে আহাম্মকই হয় জেদি
একটা ঘুড়ির লাটাই আটকে রাখার লাগি
নিজেও যে সে আটকে থাকছে রোদে
ঘামে ক্লেদে অকাতরে হারিয়ে ফেলছে স্বস্তিকর কল্পনা আর স্মৃতির বুনন
ভাঙা আয়নার মতো খণ্ড খণ্ড জীবন-বিকার হয় তার
কী দুঃসহ– বোঝে না সে– আশ্চর্য এটাই
খোঁজেও না সে আর বৈভবময় চিত্তের সন্ধান

বাস্তবিক
কোন মানুষ মানুষ থাকে না আর
শৃঙ্খলে
কোন মানুষ শান্তি খোঁজে না আর
পলে পলে
দগ্ধ সে মানুষ তার বাকিটা আয়ুষ্কাল
অন্য
মানুষদের সুখ বিনষ্ট করে

রাখাল ও মেঘ

অলসের কালে জন্ম নিলো গন্ধরাজ, কবিবর
রাখালের চোখ যে আকাশ দেখে, তা-কি তুমি দেখো!

নদীটির কোন এক জলঘেঁষা তীরে জন্ম
রাজ্যের সমুদয় ইন্দ্রবতী মেঘ তার চোখে
সারাদিন গরু চরে সারারাত স্বপ্নবাজ মেঘ
রাখালের দৃষ্টি থেকে মেঘ দেখলে মনে হবে
দেয়ালের চুনকাম গিলে খাবে বট একদিন
কালে কালে কাল হবে কাল
বটবৃক্ষ নদীতীর
কঙ্কালের শাদা শাদা ফুল
দেহ তার প্রেমের ফসিল

মনে হওয়া

আমার যা মনে হয় তা ঠিক হয়ে যায় মাঝে মাঝে
সবকিছু আবার ঠিক মনেও হয় না
সব সময় যে মনে হয় তা-ও না
দেখা যায় খানিকটা মনে হয়
তারপর আর হয় না
আমি জানি
এই সবকিছু ঠিক মনে করা
নাফরমানি
আর আন্দাজও করি না আমি কিছু তাই
তার বদলে সন্ধ্যেবেলা পুকুরের পাড়ে আমি
গন্ধরাজ ফুলের কিছু সুবাস কুড়াই

কেউ যেন আমায় কিছু মনে করিয়ে দেয়
বেঁচে থাকতেই আমার যেন
কিছু কিছু কুলখানি হয়ে যায়

নজর দিলেই তুমি মুহূর্তে সোনমার্গ

কোথাও আমি মনোক্ষেপ নিলেই
হাজার তারার ঝিকিমিকি
আগেও হয়েছে এমন
আর ঝলমলে আলোর ঝালর ঝলকাতে শুরু করলে তুমিও
কী এমন এক আশ্চর্য সুন্দর
সে কী এক প্রভূত সুন্দর
বরফের কিরিটি পড়া কাশ্মির উপত্যকায় সুবর্ণ তৃণভূমি সোনমার্গ
যার আকাশ স্বচ্ছ বাতাস স্বচ্ছ
সিন্দ নদীর কলকল উচ্ছ্বাস স্বচ্ছ
বরফ-রঙ পাথর আর তুষারঢাকা পর্বতের শীর্ষ স্বচ্ছ
পথের পাশে উপত্যকা-শৈল আলপাইন সরোবর স্বচ্ছ
আর ঝলমলে সব রঙ পুষ্প-কুঁড়ি তৃণলতা লাবণ্য-হাসিতে

কোথায় ছিলো এ মিহিন গান এতো এতোদিন ধরে বরফে লুকানো
ভালোবাসি ভালোবাসি বলে বলে পাহাড়ি নদীর মতো
পাশাপাশি ধেয়ে চলা আশ্চর্য সঙ্গীত
ভূ-স্বর্গ রচনা করা মন-প্রাণ শীতল করা সামান্য ক্ষণের এ অসীম সুন্দর
আহা এ তো সয় না এ কপালে আমার
এ তো
নজর দিলেই তুমি মুহূর্তে সোনমার্গ
হাজার হাজার হাজার হীরক দ্যুতির তারা ঝলোমলো কাশ্মিরি সংরাগ
ওই তৃণ-লাবণ্য মুখাবয়ব
ও দেহ বল্লরি

উজ্জ্বলতায় সারা পড়ে যায় আসমানে দিকে দিকে
রাজার পুত্র মন্ত্রীপুত্র কোটালপুত্র
দামী দামী সুপুত্রেরা এসে ভীড়ে তোমাতে আকছার
আমি কবি শত দোষ আমার
সঙ্কোচে পরিত্যাক্ত
ফিরে আসি ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার অজ্ঞাত প্রাচীন চরাচরে
মাথার উপরে রোজ তারা জ্বলে সামান্য আমার।

শামীম সিদ্দিকী

শামীম সিদ্দিকী

জন্ম ১ ডিসেম্বর, ১৯৭২, কিশোরগঞ্জ।

পেশা- অধ্যাপনা। (বাংলা বিভাগ, সরকারি আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ)

আগ্রহ- কবিতা

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ-
ভূগোলের সবুজ বাকল (১৯৯৭, বাংলা একাডেমি)
অচেনা ফুলের লোভে (২০০৯, ম্যাজিক লন্ঠন)

ইমেইল- shameem.siddiquee@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: