দৃষ্টি থেকে দৃশ্যে উঠেছে খেয়া

আনন্দচিতা

এমনি এমনি ছোট হয়ে উঠিনি,
বহুবার মরে গিয়ে গিয়ে
সমস্ত দরজার ভেতর প্রবেশ তুলেছি।

এমন ক্ষুদ্র হয়ে উঠেছি,
উঠেছি বহু মৃত্যুর প্রেম নিয়ে
প্রতিবার ঘটে গেছি অন্য কেউ!

ওগুলো জন্মচিৎকার, ক্ষীণপ্রিন্ট,
নিজেকে নিজের মধ্যে ভরে ভরে
দেখিয়েছি, সবকিছু সবকিছুতে যায়!

সুস্থির-উন্মাদ থেকে খুলে যাওয়া
পার্থক্য হাতে তাও দিচ্ছে পরিবেশ
সেই হাত, সিগনাল হয়েছে যত্রগতিতে!

এত ছিন্ন ছিন্ন করে
সম্ভাবনা রুখে দিচ্ছে চলপথ,
সিঁড়ি এঁকে, পথ লিখে, দুর্নিবার যাই!

থেকে যাওয়া থেকে,
এই বয়ে যাওয়া থেকে
রূপের অনন্তে ডুবিয়ে প্রতিটিদিন
দাঁড়িয়ে যাচ্ছি, আনন্দচিতায়!

দূরাগত দিন

এবং
ঘুমিয়ে রাখো যেহেতুর জাগরণ।
চতুর-দিকে
হৈরৈ করে যাচ্ছে রাইজ্যের চুপচাপ।
কারখানা থেকে
কিনে আনা পাখির ডাক,
যুগরাতের ভেতর ছেড়ে দিলেও
ভোরের কিছুই হবে না।
দিনাতঙ্ক
শব্দ করে কোনো,
প্রশ্নের মুখে ফেলে দিও না এতো রাত!

একরঙে ডুবে আছে আর যত রঙ।
সূর্যের মুখে অগোচর লেপে দিয়েছেন,
বিদগ্ধজনেরা।
চোখ, এক অতিঅঙ্গ
জনস্বার্থে খুলে নিচ্ছেন, সচেতনমহল।
দিন আসার দিকে
দেখিয়ে দেবার তালে নাচানাচি করছে, অতন্দ্র রাত।

অনেক সংখ্যায় একটি মাত্রই বই।
তা যতই দৃশ্য হোক,
সিলেবাসে কোনো তাকানো নেই।
অনুচ্ছেদের বাইরে, শুধুই সাদৃশ্য।
ছুরি থেকে ঠিকরে আসা
চমক থেকে
চাঁদের ঠিকানা করেছেন আমাদের জ্যোতির্বিজ্ঞানী তারা।

আলো লিখে বহিস্কার হওয়া পরীক্ষার্থী
এবার পাশের জন্য তৈরী।
একের অধিক
রঙের নাম মনে রেখে,
উন্মাদ সাব্যস্ত হয়েছেন যিনি, সেও এখন সুস্থতার দিকে!

অন্ধকার জ্বালিয়ে ধরেছে যে সূর্য,
তার পাশে জ্বলতে থাকা
ছোট ছোট অন্ধকার, আমাদের ভিন্ন ভিন্ন তারা।

তন্নকি

হারিয়ে যাওয়া এনে হারিয়ে গিয়েছিলাম। এক তনচোখ, বারবার, খোঁজ করে ফেলে। আড়ালে ধরে না, দূরে নেয় না।

কোনই পারঙ্গম নেই করাকরে, শুধু নামডাকা বাঁশিরে সাড়া দিয়ে যাই। কেউ কেউ থাকে, যে আসলে কেউ না।

যত পথ হাতে ধরে আছি, এ থেকে পালাবার পথ খুঁজে পেলেই যাব। হেঁটে হেঁটে দেখছি কে কোথায় নিয়ে যায়।

মনপোড়া আগুনের জল পেলেই, ধোঁয়াশা কেটে যাবে। চলে যাব খুব, নেভাতে নেভাতে আসবে সেদৃশ্য, মর্জি মোড়!

না-জন্ম থেকে শুনছি–
জগতের জন্মদিন থেকে, বাজতেছে ইস্রাফিলের বাঁশি!

নন্দনফিতা

*
নিবন্ধ দৃশ্যে গিয়ে দেখ
দেখা দিয়ে কী দেখা যায়,
অন্তদূর ও চোখ, চোখহরকরা…!

দৃষ্টি থেকে দৃশ্যে উঠেছে খেয়া
এক অকুল থেকে
ঢেউনিকুলে পেরিয়ে যাচ্ছে নদী!

**
সাঁতার ছেড়ে দেয়া
ঢলমুখি মাছের অভ্যন্তরে,
ঢেউকটাল চেপে ধরে
অগোচর নিয়েছে আগুনমুখা।
সেইখানে বড়শি ফেলে ধরো
অত্যন্ত মাছ
হাতে ছিপ, গলায় বিঁধে যাওয়া!

***

আমাদের মহীরুহেরা
চোখের জলে সমুদ্র কেটেছিল,
ফোটাজলের খাঁড়ি মাপতে
মহীগুষ্টি দাঁড়িয়েছিল মাথায় মাথায়!

অতিরুহেরা আজ ফিতা সংকটে।
গ্লিসারিন নিয়ে
জলের ফ্লেভারে ভাসছে।
এতো স্রোতাভাস এতো কলকল শুনে
স্নান ওঠা শরীরে
উড়ে গেলাম এক বাষ্পকণায়!
অতিস্কোপে তাকালে দেখতে,
সেই কণার মিতবীচে
ঢেউয়ের গর্জন তুলে, নিজেকে শুনছি!

*
উঁচু যাকে ধর,
তাকে ধরতে, খাটো হয়ে যেতে হয়।

রাজরানি

আমাকে ছলনা করে
একজন তো রানি পর্যন্ত হয়েছে…

*

নিহিতে ছিল পাখাবীজ,
গেছশূন্যে উড়ানসার ছিটিয়েছি
থামানাশক স্প্রে করেছি ডালসুন্দরে।

এদিকে,
উড়াদূর উড়ে যেতে
ইচ্ছে করে করে, পাখালি হয়েছি এক…

উড়ে গিয়ে
দেখি যেন অসুখের দেশ
যন্ত্রণায় দিয়ে আছ ঝোক, ফিরে আশায়।

*

আমার থেকে
শিখে যাওয়া আনন্দ দিয়ে,
তোমাকে কব্জা করে আছে রাজা!

নাচগান

এইখানে,
একটা নাচ বানাইতেছেন সরকার বাহাদুর
নাচ–
দেখলেই বিষবাঁকা কোমর
দুলিয়ে উঠব পাছা-দেশ, স্বতঃস্ফূর্ত নাচে!

সেইখানে এসে
খিচ খেয়ে যাই, ঢক পাই না!
ডামা-ঢোলে থির জমে সোজা হয়ে আছে,
নাচে না!

এইখানে
একটা গান জুড়তেছেন চিরকাল জনগণ
গান–
শুনলেই চিরচুপ গলা
কাঁপিয়ে দেবে কানের দেশ, স্বয়ংক্রিয় টানে!

সেইখানে এসে
মূক হয়ে যাই, গলা পাই না!
সুর উৎসারে চুপ পড়ে কথা হয়ে গেছে,
বাজে না!

চুপিন

বলতে বলে বলে,
নিজের কথাটি
আমার মুখ দিয়ে বলিয়ে নিলে!
যা-কিছু বলছি এখন
আমার মুখে, মুখর মূলত তুমি।

মুখের উপর মুখ তুলে দিয়েছ,
যত যা-ই বলতে যাই,
আমার মুখে আমার কথা আসে না।

যত ব্যক্তিগত-মুখ খুলি
কথা হচ্ছে তোমারই,
আমি দৃশ্যত চুপ।
দৃশ্য দেখা চোখে, দেখা যায় না—
এই মৌল মুখের চুপিন।

যা-কিছু বলার ছিল,
তার বলাভাষ থেকে
বলতে না-পারা মুখের হয়ে
কথা চেপে ধরা চুপিন,
এই কথায় মুখ খুলবে এবার—
‘আমার মুখ তুমি বন্ধ করে রেখেছ।’

সর্বাঙ্গে আমার
তেড়েফুঁড়ে উঠছে মুখের মতো—
এই অঙ্কুর-উদ্যত মুখের চুপিন, তোমার নাই!

সামতান রহমান

সামতান রহমান


৮ জানুয়ারি ১৯৮৫, ছোট বিঘাই, পটুয়াখালী।

আগ্রহ কবিতায়।

সম্পাদনা-
রসকল

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ-
অন্ধ রাখালে চোখ
হর্সলুক পার্লার

ইমেইল : samtanrahman@gmail.com

One thought on “দৃষ্টি থেকে দৃশ্যে উঠেছে খেয়া

  • Avatar
    October 23, 2019 at 11:37 am
    Permalink

    এইখানে,
    একটা নাচ বানাইতেছেন সরকার বাহাদুর
    নাচ–
    দেখলেই বিষবাঁকা কোমর
    দুলিয়ে উঠব পাছা-দেশ, স্বতঃস্ফূর্ত নাচে!

    সেইখানে এসে
    খিচ খেয়ে যাই, ঢক পাই না!
    ডামা-ঢোলে থির জমে সোজা হয়ে আছে,
    নাচে না!

    এইখানে
    একটা গান জুড়তেছেন চিরকাল জনগণ
    গান–
    শুনলেই চিরচুপ গলা
    কাঁপিয়ে দেবে কানের দেশ, স্বয়ংক্রিয় টানে!

    এত সত্য কথা একসাথে বলতে নেই – শুভেচ্ছা রইলো।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: