ইশারা পুস্তক থেকে

প্রেমপত্র

হুড তোলা রিকসা এক
গাছ পালার ফাঁকে ফাঁকে
একটি গাঁয়ের বাড়ির দিকে চলে যাচ্ছে

এলো কি কোনো নতুন ঝলমলে বৌ

ঘোমটা পরা বৌ এর খায়েস নিয়েই তুমি খাটিয়ায় উঠবে!

বেনামা

পলিথিনে দুই চারটা ঝুলে থাকা রুটি…
কয়েকটা বয়ামে সলটেস ও মিষ্টি বিস্কুট…
দুইটা চায়ের কেতলি, কটা কাপ, গ্লাস…
একটা নিভন্ত চুলা তে আগুন জ্বলছেই…
দুই তিনটা বেঞ্চ কিংবা বাঁশ বা সুপারি ফাল্টার চাঙ্গ

এই একটা চা দোকান নিআ একটা গ্রাম শহর হয়ে যায়।

শহর, সভ্যতার বিষ ফোঁড়া।
গড়ে উঠা কালে কিশোরীর স্তন স্তন লাগে।

তরুণ গাছের কথা

তরুণ আতাফল গাছটা,
হলুদ ইষ্টিকুটুম পাখিকে বলছে,
এই খানেই বাসা বাঁধো!
ফল দেবো।
আর মালিকও ভালোবাসে তোমাকে।
কে শোনে কার কথা!
ততোক্ষণে ইষ্টিকুটুম পাশের গুবাক তরুতে ঠোঁট ঘষছে।

অতিথি আভাস জাগানিয়া ইষ্টিকুটুম পাখি,
আতাফলের সবুজ অবুজ কথা শুনলেও পারো!

এ জীবনে একজন পাখি
কয় জনেরই ডাক আর পায়!

ওমর খৈয়ামের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক

শোনো হে বালিকা
ধর্মের শত পথ
তোমার পথেই কেন ডাকছো আমাকে
তার চেয়ে আসো চুমু খাই
তরু তলে বসি
শুনি পাখ-পাখালির অপূর্ব কুজন
আর দাও তোমার ঠোঁটের অমৃত অমৃত মদ
মাতাল করো
নেশায় উন্মত্ত করে খোলাও তোমার প্রাচীন পুস্তক
সুগন্ধি মহুয়া
পড়ি,
‘লা কুম দ্বীনু কুম অল ইআ দ্বীন’
তোমার দ্বীন তোমার, আমার দ্বীন আমার।
আর করো,
আদর আদর আর আদর;
ভাসাতে সমুদ্রে তোমার।
উঠাতেও ঐ গিরির চূড়ায়।

ঐখানে এক ছোট্ট পাখির বাসার বুননেও,
কোনো এক লুকানো ধর্মও রয়ে যেতে পারে,
চলো হে বালিকা দেখি,
দেখি তাকে।

এই গরমে ফুল-কে বলি

গামছা কাছে রাখো। ঘন ঘন গা মুছো। ঠাণ্ডা লাগা থেকে বাঁচো। ঔষধ ও ডাক্তার দূরে রাখো।
গামছা বাঘা সিদ্দিকীর একার সম্পত্তি না। এইটা এই জনপদের আদিম বন্ধু।

রান্না ঘরের দেআল ফুটো করো। গরম বাতাস বের করো। এডজাস্ট ফ্যান লাগাও! পারলে জানালায় ফ্যান বসাও, বাইরের প্রাকৃতিক বাতাস ঘরে আনো।

বাটিতে বরফ বানাও। হাতের কাছেই বরফ গলতে দাও। গৃহেই এস্কিমোদের দেশের স্বাদ নাও।
বামরুমের শুয়ে পরো। শাওয়ার খুলে দাও। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে হুআ বা পাওলো, কিংবা জিবরান পড়ো।

জলে ভাসতে পুকুরেও আসতে পারো। কিংবা আমরা যেতে পারি ঐ দূর পাথর ঝর্ণায়। নিরব বনের, যেখানে উজানে বাঘ সিংহরা পানি খায়।

প্রেমের ভেতর দিয়ে

মেঘ ডাকছে। ঢল নামলেই বৃষ্টিস্নান। সেহরীর উল্লাস। ভুরি ভোজ। আর রোজা, সে একান্তই তোমার! ইফতারে জানো জানি, আর্জি আছেই আমার! ঠোঁটে ঠোঁটে রেখে ঠোঁট, রোজা টুটবার।
চুপ থেকো না আরাধ্যা আশিক, বৃষ্টি জলে ধুয়ে বানাও না প্রেমিক!

ইশারা পুস্তক থেকে

হাওয়া বাতাসের আড্ডা, মানে ফেইসবুক, যদি এই বাগান, মানে এই পুষ্প বীথিকা, যদি কণ্টকবন হয়, তবে থামো, বিরতি গ্রহণ করো ষষ্ঠ দিবস। সাত দিনে এক দিন আসো, যদি লাগে তবু বিষ বিষ, মাসে আসো একদিন। তাও যদি কাঁটা লাগে, রক্তাক্ত হও, তবে শুধু আসো উৎসবে।

আর যদি পারো, অষ্টপ্রহর লেগে থাকো, নাওয়া খাওয়া ভুলো, বাথরুমেও তাকে রাখো সাথে। কেউ হাতে তুলে খেতে দিলে, খেতে খেতে নিজ হাতে রাখো ফেইসবুক, হাওয়া বাতাসের আড্ডা।
ছাড়া ধরা ভালোবাসা ও প্রেমের এটাই নিঅম।

আশিক আকবর

আশিক আকবর

জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৬৮, হৈয়ারকান্দা, বেগুনবাড়ি, ময়মনসিংহ। 
বাংলা একাডেমীর তরুণ লেখক প্রকল্পের ফেলোসিপ নিয়েছেন। পরে ঢাকা শাহবাগের ফুটপাতে কিছুদিন স্বনির্বাচিত বই বিক্রি করেছেন। আগ্রহ মূলত কবিতায়।

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ- 
প্রথম পাঠ (১৯৯৬, বাংলা একাডেমী)
কলিযুগের কাব্যকলা 
নয়া এশিয়ার ডাক 
প্রকৃত যোদ্ধারা ক্রুশবিদ্ধ হয় না কখনো।

ইমেইলঃ asikakbar.15@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: